ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী (বধির) মানুষদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসনসহ দেশের বিত্তবান, মানবিক ও দীনদার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শেরপুরের নকলা চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক এবং বধির জামাতের জিম্মাদার সাথী মো. আলমগীর হোসেন।
ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের বড় পুটিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মো. আলমগীর হোসেন দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বধিরদের নিয়ে দ্বীনি দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে সময় দিয়ে আসছেন। এ সময় তিনি বধিরদের ভাষা (সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ) আয়ত্ত করার পাশাপাশি তাদের সমস্যাগুলো বুঝে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

তিনি জানান, ফুলপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ২৫০ জন বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও অসহায়। তাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করার ফলে আল্লাহর রহমতে এ পর্যন্ত একজন তিন চিল্লা, ২০ জন এক চিল্লা এবং প্রায় ৫০ জন তিন দিন করে তাবলিগে সময় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক পরিবারেই একাধিক বধির সদস্য রয়েছেন। রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধন্তা গ্রামের আব্দুস সামাদ ও তার বাবা ফারুক দুজনই বধির। ভাইটকান্দি ইউনিয়নের সখল্যা গ্রামের সাকিব বধির; তার ছোট ভাই আবু হুরায়রা এবং বড় বোনও বধির। এছাড়া পয়ারী ইউনিয়নের একটি পরিবারে অভিভাবক মারা যাওয়ার পর দুই বধির সন্তানকে নিয়ে তাদের মা অন্যের সহযোগিতায় কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব দনারভিটা গ্রামের আব্দুর রহিমের বাড়ির জামে মসজিদে নসরতের উদ্দেশ্যে গিয়ে চারজন বধির সাথীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তাদের মধ্যে হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোরা ইউনিয়নের জামবিল এলাকার লিমন একজন বধির। তার বোনও বধির এবং বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। ফলে পুরো পরিবারের দায়িত্ব তার মায়ের কাঁধে।
এ ধরনের অসহায় বধির ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান ও মানবিক মানুষ এগিয়ে এলে এসব পরিবারের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
তিনি উপজেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং দীনদার ভাইদের প্রতি এসব অসহায় বধির ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক আহ্বান জানান।