একের পর এক কাজ নিয়েই থাকেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শফিকুল ইসলাম। ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার এই অফিসার ফুলপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এসব পদে যারা থাকেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা এরকম প্রশাসক হিসেবে থেকে প্রচুর কাজ করেন তাদেরকে সততা, দক্ষতা, আন্তরিকতার সাথে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। মোঃ শফিকুল ইসলাম সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন।

উপজেলার সরকারি খাস জমি উদ্ধার, মিসকেসে (নামজারি জমাভাগ খারিজ সংক্রান্ত) মামলা শুনানির মাধ্যমে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি, ভূমি নিয়ে স্থানীয় বিরোধের অবসান, স্বচ্ছতার সাথে ভূমি সেবা প্রদান সহজীকরণ, সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন ও সরকার নির্ধারিত ২৮ দিনের কম সময়ে নামজারী নিষ্পত্তি করছেন তিনি।

অফিস প্রাঙ্গনে তিনি ভূমি সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট টানিয়েছেন; যাতে সেবা প্রার্থীরা সহজে তাদের সেবা সম্পর্কে জানতে পারেন।
অবৈধ ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায়, হাট-বাজার মনিটরিং ও হোটেল রেস্তোরায় ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাসহ বিভিন্ন সরকারি কাজকর্ম তিনি নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন।

পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পৌরবাসীর জন্যেও নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করছেন তিনি। পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, লাইটিং, সিসিটিভি ক্যামেরা ফিটিং করাসহ যে কোন এলাকার দুঃখ দুর্দশা দেখতে, ভুক্তভোগী মানুষের কথা শুনতে তিনি নিজেই ছুটে যান ঘটনাস্থলে। দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিক তার কাছ থেকে সমানভাবে নাগরিক সুবিধা ভোগ করছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

খবর নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ছুটির দিনেও জনসাধারণের ভালো-মন্দ দেখভাল কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এসিল্যান্ড মোঃ শফিকুল ইসলাম। এবার কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে তিনি নিজেই মাঠে ছিলেন। ঈদ যাত্রায় যাতে কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য ফুলপুর বাসস্ট্যান্ডে যানজট নিরসনসহ অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। রাস্তাঘাট উন্নয়নেও নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ করিয়েছেন। কোন মাল কতটুকু দেওয়ার কথা সেইভাবে দেওয়া হচ্ছে কি না, রাস্তার থিকনেস বা পুরুত্ব ঠিক আছে কি না এগুলো তিনি নিজেই পরীক্ষা নীরিক্ষা করছেন।

পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা প্রদানের ক্ষেত্র অনেক বড়। মাননীয় জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলে সাধারণ মানুষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা কাজ করে দিতে পারছি। এ ব্যাপারে আমরা ফুলপুরের সুধীমহল ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছি এবং আগামী দিনেও তা অব্যাহত থাকবে, সেই কামনা করছি।