উম্মাহর বর্তমান সংকট উত্তরণে ঐক্য, ভালোবাসা, ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও যুগোপযোগী প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ড. শেখ খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানী। এক দীর্ঘ আলোচনায় তিনি আলেম সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দ্বীনি কর্মপদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আলেম সমাজের উচিত উম্মতের প্রতি দয়া, মমতা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা। কঠোর ভাষা ও নিরাশাবাদী বক্তব্য মানুষকে দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, বিশেষ করে তরুণদের। তাই নবীদের আদর্শ অনুসরণ করে সুসংবাদ, আশা ও ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।
সাজ্জাদ নোমানী বলেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের শাসক, প্রশাসন, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদসহ সমাজের প্রভাবশালী বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কল্যাণকামী ও দাওয়াতি সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরতে নতুন ও কার্যকর কৌশল অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁদের প্রশ্নের জবাব ধৈর্য, যুক্তি ও প্রজ্ঞার সঙ্গে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি মাদরাসা শিক্ষার মৌলিক চেতনা অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক ও সমসাময়িক জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং, আইনসহ নতুন নতুন বিষয়ে যথাযথ ফিকহি সমাধান দিতে হলে আলেমদের যুগোপযোগী জ্ঞানেও সমৃদ্ধ হতে হবে।
উম্মাহর ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মাসলাক ও চিন্তাধারার মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও একে অপরকে বাতিল না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। উম্মাহকে একটি ফুলের তোড়ার মতো ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে, কাউকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা না করে ধৈর্যের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিতে হবে। বর্তমানে দ্বীনি শিক্ষা, মাদরাসা পরিচালনা, পর্দা পালন, মসজিদে আজান ও সালাত আদায় এবং তরুণদের দ্বীনি শিক্ষায় গড়ে তোলার যে সুযোগ রয়েছে, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
সাজ্জাদ নোমানী বলেন, যথাযথ প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও গভীর তরবিয়ত ছাড়া কোনো জাতি বিশ্বপর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে পারে না। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উম্মাহকে জ্ঞান, চরিত্র, যোগ্যতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। এ বাস্তবতায় মুসলিম উম্মাহকে এমনভাবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বমানবতার কল্যাণে কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।