• সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন
Headline
ফুলপুরে ৬ মাস ধরে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ, এ ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ, প্রশাসকের আশ্বাসে প্রত্যাহার ফুলপুরে পৃথক অভিযানে গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার হজের সফরে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, আজ সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ — স্মৃতিচারণ বদরুজ্জামান উজ্জ্বলের জুলাই শহীদ সাইফুল স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন মউক চেয়ারম্যান মোতাহার ফুলপুরে মেরীগাই উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন তিন এজেন্ডা সামনে রেখে ফুলপুরে ইত্তেফাকুল উলামার বৈঠক অনুষ্ঠিত ফুলপুর পৌর এলাকায় উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরলেন পৌর প্রশাসক ফুলপুরে পুটিয়া এ.কে সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ১৫০ ফুট রাস্তা মেরামত ফুলপুরের বালিয়া ইউনিয়নে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীল বৈঠক কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাঈদ; ফুলপুর সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা

ফুলপুরে আবারও শিক্ষক হাজিরা খাতায় নাম অবনমনের অভিযোগ

মোঃ আব্দুল মান্নান / ৯০০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-এর শিক্ষক হাজিরা খাতায় নামের ক্রম পরিবর্তন বা অবনমনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) নাছরীন আক্তার খাতুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী নাছরীন আক্তার খাতুন উপজেলার বিলাসাটী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ নজরুল ইসলাম খানের সহধর্মিণী। এর আগে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ চৌধুরীর নামও হাজিরা খাতায় ৭ নম্বর থেকে ১৮ নম্বরে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে নানা প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে।
নাছরীন আক্তার খাতুন অভিযোগ করে বলেন, তিনি ২০০২ সালের ২৬ নভেম্বর বিদ্যালয়ে যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে হাজিরা খাতায় তার নাম যে স্থানে ছিল, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা পরিবর্তন করে নিচের দিকে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তার সম্মান ও মর্যাদার জন্য হানিকর বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জানান, বেসরকারি নিয়োগ, সরকারি নিয়োগ, জাতীয়করণ সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা অধিদপ্তরের সব নথিপত্রে তার নাম পূর্বের অবস্থানেই রয়েছে। এমনকি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. আজাদও দীর্ঘদিন একই ক্রমে তার নাম লিখে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কোনো লিখিত আদেশ ছাড়াই তার নামের অবস্থান পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাছরীন আক্তার খাতুন আরও বলেন, “গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আমি প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিতভাবে হাজিরা খাতায় আমার নাম পূর্বের অবস্থানে বহালের আবেদন করি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
পরবর্তীতে তিনি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপপরিচালক (ডিডি)-কে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করেন। গত ৫ মে ডিডি কার্যালয়ে অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) পুনরায় সেখানে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয়করণের আগে এবং পরেও হাজিরা খাতায় তার নাম শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক ছালেহ্ আহাম্মদের আগে ছিল। সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. আজাদ একক সিদ্ধান্তে ও কোনো লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই নামের ক্রম পরিবর্তন করেছেন।
তিনি বলেন, “হাজিরা খাতার ক্রম জ্যেষ্ঠতা তালিকা নয়; এটি প্রশাসনিক সুবিধার জন্য সাজানো হয়। আমার দাবি জ্যেষ্ঠতা পাওয়ার জন্য নয়। ক্রম পরিবর্তনের কোনো স্বচ্ছ নীতিমালা থাকলে তা লিখিতভাবে জানানো হোক। আর যদি কোনো নীতিমালা না থাকে, তাহলে পূর্বের ক্রম বহাল রাখা হোক। কোনো একক ব্যক্তি যেন স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন।”
এ বিষয়ে হাজিরা খাতায় নাম অবনমনের সরকারি নির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. আজাদ বলেন, “নির্দেশনা আছে বলেই নাম নিচে নেওয়া হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক নাছরীন আক্তার খাতুনের দাবি, প্রধান শিক্ষক তাকে কোনো লিখিত নির্দেশনা দেখাতে পারেননি এবং সিদ্ধান্তটি এককভাবে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টির সুরাহার জন্য তিনি পুনরায় ডিডির কাছে আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। কেবল আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
এ ঘটনায় শিক্ষক মহল ও স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে নানা আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা