• রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন
Headline
এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিলো বিএনপি কর্মী, থানায় জিডি ফুলপুরে নেশারত অবস্থায় আটক ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক বছরের কারাদণ্ড বধিরদের পাশে থাকার আহ্বান জানালেন প্রভাষক মো. আলমগীর হোসেন তারাকান্দায় দিস্তা স্কুলের নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন এমপি মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ ফুলপুরে বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, জরিমানা ফুলপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির হলেন জাকির হোসেন মাস্টার কামরাঙ্গীরচরে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ফুলপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, বাবার বাড়ির অভিযোগ পরিকল্পিত হত্যা ফুলপুরে নগুয়া বাজার–বাঁশতলা সড়কে থিমেটিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অল্প সময়ে বৃহৎ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা

অল্প সময়ে বৃহৎ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা

মোঃ নাজিম উদ্দিন / ৮৮ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

‘অল্প সময়ে বৃহৎ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা।’ ফুলপুর উপজেলার সাবেক কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান কামুর প্রতি ইঙ্গিত করে  এ কথা বলা হয়। বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো :

“দু’দিন আগে সংবাদ সংক্রান্ত কাজে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী বাজারে গিয়েছিলাম। আলাপচারিতায় বিএনপি নেতা লিয়াকত হোসেনসহ অনেকে রূপসী ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামুর কাজের প্রশংসা করলেন। জানালেন- উনার সময়ে ইউনিয়নের যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে ২০ বছরেও তা হয়নি। কামরুল হাসান কামু পদোন্নতিজনিত কারণে সাতদিন আগে ফুলপুর থেকে নান্দাইল উপজেলায় বদলি হয়েছেন। প্রশাসন ও সাংবাদিক সমাজসহ অনেকেই উনাকে বিদায় সংবর্ধনা দিয়েছেন। আজও ফুলপুরের অনেকেই ফেসবুক পোস্টে উনার কাজের প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে উনার সাথে আমার খুবই সুসম্পর্ক ছিল। তাই উনার সম্পর্কে আমারও ভাল ধারণা রয়েছে।

ছাত্র জীবনে কৃষিবিদ কামরুল হাসান কামুর সময় কেটেছে শিল্পসাহিত্যের সাথে। কৃষিভিত্তিক এই দেশের প্রাণ প্রকৃতি তার লিখনিতে ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতক এবং ২০১৯ সালে কৃষিতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২১ সালে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হিসেবে ফুলপুর উপজেলায় যোগদান করেন। তরুণ এই কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই মাঠমুখী ছিলেন।  উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে তার বিচরণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। তিনি কৃষকের মাঠে, জনাকীর্ণ হাটবাজারের পার্শ্বে, ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষক সমাবেশের মাধ্যমে চলমান মৌসুমে ফসলের রোগবালাই সম্পর্কে আলোচনা করতেন, সমাধান দিতেন। নতুন নতুন ফসলের জাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন। ফুলপুর উপজেলার কৃষি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই কর্মকর্তা যোগদানের সময় ২০২১ সালে এলাকায় ভুট্টার আবাদ ছিলো ৬০ হেক্টর। বর্তমানে ৩৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হচ্ছে। ২০২১ সালে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় শাকসবজি চাষ হতো মাত্র ৮.৫ হেক্টর।  বর্তমানে ১২০ হেক্টরে রুপান্তরিত হয়েছে। ২০২১ সালে পেঁয়াজ চাষ হতো ১৫ হেক্টর জমিতে। সেটি ৭৫ হেক্টরে রুপান্তরিত হয়েছে। ২০২১ সালে ১২ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হতো। সেটি ৩৭ হেক্টরে রুপান্তরিত হয়েছে। ২০২১ সালে মাত্র ২৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হতো। সেটি ২৯২৬ হেক্টরে রুপান্তরিত হয়েছে। ২০২১ সালের পূর্বে ফুলপুর উপজেলায় মাল্টা তেমন চাষ হতোনা। বর্তমানে ৩০০ -এর অধিক ছোট বড় বাগান রয়েছে, যা এই উপজেলার জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ধানের পুরনো জাতগুলোর পরিবর্তে নতুন জাতগুলো সম্প্রসারিত হচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২১ সালের পূর্বে ফুলপুরে বোরো ধানের জাত সম্প্রসারণের মাত্রা তেমন ছিলো না। সেসময় ব্রি-ধান ২৮ (৩৬২০ হেক্টর) ব্রি- ধান ২৯ (৫৬৪০ হেক্টর), ব্রি-ধান ৫৮ (৩৮৩০ হেক্টর) এর চাষ বেশি হতো। বর্তমানে এসব পুরনো জাতের আবাদ এলাকায় কমেছে। বর্তমানে ব্রি-ধান ২৮ -এর আবাদ হয় ১৮৩৬ হেক্টর, ব্রি-ধান২৯ চাষ হয় ২০৫০ হেক্টর, ব্রি-ধান ৫৮ চাষ হয় ১৮০ হেক্টর। এসব জাতের পরিবর্তে আধুনিক উচ্চফলনশীল জাতসমূহ যেমন- ব্রি-ধান ৮৮, ব্রি-ধান ৮৯, ব্রি-ধান ১০০, ব্রি-ধান ১০১, ব্রি-ধান ১০২, ব্রি-ধান ১০৪, ব্রি-ধান ১০৮ চাষ হচ্ছে। আমন ধানের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে- ব্রি-ধান ৭১, ব্রি-ধান ৭৫, ব্রি-ধান ৮৭, ব্রি-ধান ১০৩ সম্প্রসারিত হচ্ছে। এসব জাত সম্প্রসারণে ফুলপুরের কৃষি বিভাগ কাজ করেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কামরুল হাসান ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করছেন। তবে সেসময় কনটেন্টের বিষয়বস্তু ছিল কথাসাহিত্য। বর্তমানে তিনি কৃষিভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমাদৃত হচ্ছেন। তিনি মূলত: পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে  নিরাপদ ফসল উৎপাদন পদ্ধতি, ধইঞ্চার মাধ্যমে সবুজ সার উৎপাদন পদ্ধতি, কেঁচোসার, গর্তপদ্ধতিতে জৈব সার প্রস্তুতি, বিনাচাষে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষ, কৃষকের বাড়িতে জৈববালাইনাশক প্রস্তুতি, হরলিক্স নামে জৈবরাসায়নিক সার তৈরি, নিরাপদ কৃষি, কৃষকের সাফল্যের গল্প, বিভিন্ন ফসলের রোগবালাই সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সেগুলো ভিডিওতে ধারণ করছেন। সরাসরি মাঠে গিয়ে শুনছেন কৃষকের সমস্যার কথা। পাশাপাশি তিনি ভ্রাম্যমাণ কৃষিসেবা নামে নতুন আঙ্গিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে, জনাকীর্ণ বাজার ও সুবিধাজনক স্থানে কৃষক সমাবেশ করে শুনছেন কৃষকদের চলমান মৌসুমে সমস্যার কথা এবং সে অনুসারে সমাধান দিচ্ছেন। সেগুলো সরাসরি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে বেশ সাড়া পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে। ফলে সহজেই সঠিক কৃষিতথ্য বহু মানুষের নিকট পৌঁছে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ মেসেজ দেয়, সমস্যার কথা বলে। সেসব সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপন করি। ফলে অনেক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। বর্তমান যুগ গ্লোবালাইজেশনের যুগ। এতে কোন সীমারেখা নেই। তিনি বলেন, ফুলপুর উপজেলায় যোগদানের সময় মাত্র ২৮০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ দেখেছি। উপজেলা কৃষি অফিসার স্যারের পরামর্শক্রমে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে সরিষার চাষ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ৪ বছরের ব্যবধানে ফুলপুরে প্রায় ২৯৮০ হেক্টর জমি সরিষা চাষের আওতায় এসেছে। যেখানে কৃষকরা বিনাচাষে সরিষা চাষে আগ্রহ পাচ্ছে। এভাবে উচ্চমূল্যের ফসল এবং নতুন নতুন জাত সম্প্রসারণে কামরুল হাসান কাজ করছেন। উদ্যোক্তাদের সফলতার গল্পগুলো ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থাপন করছেন এতে অনেকে আগ্রহী হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন এই কর্মকর্তা। কৃষিবিদ কামরুল হাসান কামু বলেন, সামনের দিনে উত্তম কৃষি চর্চা ( জিএপি) নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। কারণ, এতে নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদনের রোডম্যাপ রয়েছে।
তরুণ এই কর্মকর্তা ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন ১৯ মাস ২১ দিন। তার দায়িত্বকালে এলজিইডি, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য দপ্তরের সম্পৃক্ততায় ৮.৩১৪ কিলোমিটার ইটের সোলিং, দেড় কিলোমিটার হেরিং বোন, ৩ কিলোমিটার পিচ রাস্তা, ১৩ টি বক্স কালভার্ট, ১ টি ছোট ব্রীজ, ৯ টি মাটির রাস্তা, ইউনিয়ন পরিষদের বাউন্ডারী ওয়াল ও সাবমারসিবল, রূপসী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পানির ট্যাংকি ও চেয়ার টেবিল, রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চেয়ার, ১৪ টি সাবমারসিবল, মা ও শিশু সহায়তা কার্ড ২৫২ টি, ভিডাব্লিউবি কার্ড ১৯৬ টি, বিধবা কার্ড ৩২ টি, বয়স্ক কার্ড ৩৬ টি, প্রতিবন্ধী কার্ড ১৭৫ টি ও কার্ডধারী মৃত ব্যক্তির প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আরও কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিলো- ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতকরণ। অল্প সময়ে বৃহৎ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা। উনার জন্য শুভকামনা রইল।”

* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।

লেখক :

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ও ফুলপুর প্রেসক্লাবের একাংশের সভাপতি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে এক ফেইসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা