ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহর চোখ উপড়ে ফেলার হুমকি দিয়েছে তারাকান্দা বিএনপির সোহরাব হোসেন নামে এক কর্মী। তার বাড়ি তারাকান্দা উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহকে লক্ষ্য করে সোহরাব হোসেন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সেই ভিডিও ভেসে বেড়াচ্ছে। এতে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা অত্যন্ত কর্কশ, অপমানজনক, মানহানিকর, বিদ্বেষমূলক ও উসকানিমূলক। এ ব্যাপারে এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। উস্কানি দিচ্ছে ঝগড়াঝাটি করার জন্য। উনার বক্তব্য শুনলাম, সে ডাইরেক্ট বলছে- মোতাহারের লোক। মোতাহারের বিরুদ্ধে কথা বললে, আমার চোখ তুইল্লালবো। এটা বুঝার কি আছে আর?’ এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মউক)-এর চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোন পদধারী নন। বড়জোর সমর্থক হতে পারে। এমন আচরণের নিন্দা জানিয়ে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বলেন তিনি। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থার কথাও জানান মোতাহার।
জানা যায়, এ ধরনের বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) ওই ডায়েরি করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২৪ জুলাই সকাল থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর মন্তব্য প্রচার করা হয়। তার দাঁড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে অবমাননাকর ভাষায় মন্তব্য করার পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে তার রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এজাহারে এমপি মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ চোখ উপড়ে ফেলার হুমকিসহ বিভিন্ন ধরনের ভীতিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ময়মনসিংহ জেলা শাখার নেতাকর্মীরা। এ ব্যাপারে তারাকান্দা থানার ওসি আবদুর রাশিদ বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন বাদি হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আসামিকে ধরে আইনের আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালানো হয়েছে।