ক্বওমী বা দেওবন্দি ধারার সাতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জোটকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতে একীভূত হয়ে একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ড. মাহমুদ বিন সাঈদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জোটের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, তাদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও ঐক্য যেন সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। একই সঙ্গে তিনি প্রস্তাব করেন, সাতটি দলের পৃথক পরিচয়ের পরিবর্তে একটি দলের অধীনে একত্রিত হওয়া যেতে পারে। সম্ভাব্য নাম হিসেবে তিনি ‘জামাআতে দেওবন্দে বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ দেওবন্দে জামাআত’ কিংবা ‘দেওবন্দি জামাআতে বাংলাদেশ’-এর মতো কয়েকটি নামেরও উল্লেখ করেন।
ড. মাহমুদ বিন সাঈদ আরও বলেন, কেবল ধর্মীয় পরিচয়কে ভিত্তি করে রাজনীতিতে টেকসই জনসমর্থন অর্জন করা কঠিন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ আলেমদের সম্মান করলেও ভোটের ক্ষেত্রে তারা উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও বাস্তব কর্মপরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সীমিত সম্পৃক্ততা, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে দৃশ্যমান উপস্থিতির অভাব এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ড. মাহমুদ বলেন, যদি এই জোট একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব রূপরেখা, শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসেবামূলক কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে আসতে পারে, তবে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও মত দেন, দলকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট মাসলাকের অনুসারীদের ওপর নির্ভর করলে জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে না।
লেখক :
প্রভাষক (ইসলাম শিক্ষা),
মালয় বিশ্ববিদ্যালয়, মালয়েশিয়া
ও
সাবেক শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।