সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসাইন তাঁর চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের চিকিৎসা ব্যয় ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী সরকার বহন করে। দেশ বা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর হৃদস্পন্দনের অনিয়ম (Atrial Fibrillation) ধরা পড়ে। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড দেশে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি না থাকায় বিদেশে ‘ক্যাথেটার অ্যাবলেশন’ অপারেশনের সুপারিশ করে। সে অনুযায়ী তিনি থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাড হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ড. খালিদ হোসাইন জানান, প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অপারেশন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা হাসপাতাল বিল পরিশোধ করা হয়। এ ব্যয়ের সব রসিদ ও ভাউচার তিনি যথাযথ নিয়মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার শুধুমাত্র হাসপাতাল, অপারেশন ও ওষুধের বিল পরিশোধ করেছে। তবে বিদেশে অবস্থানকালে হোটেল, যাতায়াত, খাবার এবং সঙ্গে থাকা সহযাত্রীর সব ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আইন মেনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সরকারি অর্থের কোনো অপব্যবহার বা আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যে সুবিধা প্রাপ্য ছিল, কেবল সেটুকুই গ্রহণ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক বিষয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর চিকিৎসা ব্যয়ের প্রতিটি হিসাব ও নথিপত্র সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই করা সম্ভব।
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।