হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তিনটি বস্তু মৃত ব্যক্তির পিছু পিছু (কবর পর্যন্ত) যায় :
১. তার পরিবার-পরিজন,
২. তার ধন-সম্পত্তি এবং
৩. তার কৃতকর্ম।
অতঃপর দুইটি বস্তু ফিরে আসে।
১. তার পরিবার-পরিজন এবং ২. তার ধন-সম্পত্তি।
আরেকটি বস্তু তার সাথেই থেকে যায়, আর তা হলো তার আমল বা কৃতকর্ম। 📖 সুনান আন-নাসায়ী: ১৯৩৭, সহীহ বুখারী: ৬৫১৪ এবং সহীহ মুসলিম: ২৯৬০
এই হাদিসটি মানব জীবনের চরম সত্য এবং পরকালের সম্বল নিয়ে এক অদ্ভুত বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে। এর মূল শিক্ষা ও বার্তা নিচে আলোচনা করা হলো:
✅ ক্ষণস্থায়ী সম্পর্কের নির্মম সত্য:
মানুষ দুনিয়াতে তার পরিবার, সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয়-স্বজনের জন্য দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে। কিন্তু মৃত্যুর পর এই প্রিয়জনেরা তাকে শুধু কবর পর্যন্তই এগিয়ে দিতে পারে। দাফন শেষ হওয়া মাত্রই তারা তাকে অন্ধকার কবরে একা রেখে দুনিয়াবি জীবনে ফিরে আসে। কবরের নিঃসঙ্গতায় কেউ পাশে থাকার জন্য রাজি হয় না।
✅ ধন-সম্পদের অসারতা:
মানুষ সারা জীবন বৈধ-অবৈধ উপায়ে যে সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি বা টাকা-পয়সা জমা করে, মৃত্যুর পর তার গাড়ি বা দামি জিনিসপত্র কবরস্থান পর্যন্ত যেতে পারে। কিন্তু কবরের ভেতরে সেই সম্পদের কোনো অংশই মানুষের সাথে যায় না। এমনকি কাফনের কাপড়েও কোনো পকেট থাকে না। ব্যক্তি মারা যাওয়ার সাথে সাথেই তার সমস্ত সম্পদ উত্তরাধিকারীদের মালিকানায় চলে যায়।
✅ একমাত্র চিরস্থায়ী সঙ্গী “আমল”:
কবরের সেই অন্ধকার ও ভীতিপ্রদ প্রকোষ্ঠে মানুষের একমাত্র সঙ্গী হয় তার কৃতকর্ম বা আমল। মানুষ দুনিয়াতে ভালো কাজ (যেমন: নামাজ, রোজা, দান-সদকা, মানুষের উপকার, সততা) করে থাকলে তা কবরে নূর বা আলো হয়ে তাকে রক্ষা করবে। আর যদি মন্দ কাজ (যেমন: জুলুম, হারাম উপার্জন, মিথ্যা, সুদ-ঘুষ) করে থাকে, তবে সেই মন্দ আমলই তার আজাবের কারণ হবে।
আমাদের করণীয় (শিক্ষা):
এই হাদিসটি আমাদের চোখ খুলে দেয় যাতে আমরা দুনিয়ার মোহ এবং মায়ায় অন্ধ হয়ে পরকালকে ভুলে না যাই। পরিবার ও সম্পদের পেছনে অবশ্যই আমরা সময় দেব, তবে তা যেন আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে না হয়। আমাদের সবচেয়ে বেশি যত্নবান হওয়া উচিত আমাদের নেক আমল বা ভালো কাজের প্রতি, কারণ দিনশেষে কেবল এটিই আমাদের সাথে কবরে যাবে এবং মুক্তির উসিলা হবে।