ময়মনসিংহ মার্কাজের মুরুব্বি ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিন আহমাদ বাবু বলেছেন, ‘নবী করীম (সা.)-এর নকশা ও আদর্শের মধ্যেই শান্তি ও কামিয়াবি নিহিত। একমাত্র আল্লাহই সবকিছুর কর্তা। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” হলো আল্লাহর গোলাম হওয়ার কালিমা এবং মাখলুকের গোলামি থেকে মুক্ত থাকার কালিমা।’
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বায়তুস সালাম কাঁচারী মসজিদ (গরুহাটা মসজিদ)-এ ফুলপুর থেকে তিন দিনের তবকাওয়ারী জামাতের সাথীদের উদ্যোগে আয়োজিত জোড়ে বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
নবী করীম হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গুণাবলি তুলে ধরে ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘কেউ নবীজীর দিকে তাকিয়ে থাকলে তিনি তার দিকে তাকিয়ে থাকতেন এবং চেহারা সরিয়ে নিতেন না। কেউ তাঁর সঙ্গে মুসাফাহা করলে তিনি আগে হাত সরিয়ে নিতেন না—যাতে ওই ব্যক্তি কষ্ট না পান।’
তিনি আরও বলেন, নবী করীম (সা.) গরিব ও অসহায় মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মিসকিনদের সঙ্গে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং সাহাবিদেরও গরিবদের ভালোবাসতে উৎসাহিত করতেন।
নবীজীর জীবনের একটি ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিন আদি ইবনে হাতেম (রা.) নবীজীকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছে আসেন। এ সময় একজন ব্যক্তি নবীজীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলেও তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। পরে ওই ব্যক্তি খাদ্যসামগ্রী চাইলে নবীজী তাকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে বিদায় করেন। নবীজীর এমন উদারতা ও মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে আদি ইবনে হাতেম (রা.) ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের শিক্ষা মানুষের প্রতি দয়া, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর দায়িত্ববোধের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফোরাত নদীর তীরে কোনো প্রাণী না খেয়ে মারা গেলেও তার জন্য নিজেকে জবাবদিহি করতে হবে—এমন অনুভূতি নিয়ে শাসকরা দায়িত্ব পালন করতেন।
খলিফা হজরত ওমর (রা.) বলতেন, ‘ইসলাম গ্রহণের আগে আমি যে কাজ করেছি, সেগুলো ছিল ঘৃণ্য। সে কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করেছে। ইজ্জত-সম্মান আল্লাহ তায়ালা রেখেছেন একমাত্র দ্বীন মানার মধ্যে, ইসলামের মধ্যে। ইসলাম ছাড়া অন্য কোথাও ইজ্জত তালাশ করলে আল্লাহ তায়ালা আবার আমাকে বেইজ্জতি করবেন।’
তিনি বলেন, ‘ঈমানের বীজ মানুষের অন্তরে বপন করতে হবে। একটি বীজের মধ্যে যেমন অনেক কিছু লুকিয়ে থাকে, যত্ন নিলে একটি বীজ থেকে অসংখ্য বীজ তৈরি হয়; তেমনি অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করে তার যত্ন নিতে হবে। নিজে ঈমানের ওপর চলতে হবে এবং অন্যদেরও ঈমানের পথে চলার জন্য দাওয়াত দিতে হবে।’
এর আগে ঈমানের পরিচয় সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছনকান্দা বাজার জামে মসজিদের সাবেক ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন বলেন, ‘মানুষের ঈমান আছে কি না, তা বোঝার একটি উপায় হলো—ভালো কাজ করলে বা ভালো কাজ দেখলে অন্তরে ভালো লাগা। আর ভালো কাজ ছুটে গেলে কষ্ট পাওয়া ও অনুতপ্ত হওয়া। এটাই ঈমান থাকার লক্ষ্মণ।’
এতে আরও বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন, মুফতি আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, মাওলানা আব্দুর রহমান, মুফতি নজরুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা মাহদী হাসান, মাওলানা হুসাইন আহমাদ, হাফেজ মাওলানা মাইন উদ্দিন, মাওলানা ফরিদ আহমাদ, হাফেজ মাওলানা মোকাররম হুসাইন, এড. সৈয়দ এনায়েত উর রহমান, আসলাম মিয়া বাবুল, আলী আশরাফ, সাজ্জাদ হোসেন হীরা, সাজ্জাদ হোসেন বাচ্চু, হাফেজ মাওলানা আবুল খায়ের মো. বাশার, হালুয়াঘাট তাবলিগের জিম্মাদার সাথী উবায়দুল্লাহ স্যার, হালুয়াঘাট থানার ওসি (তদন্ত), আজিজুল হক, আব্দুল মান্নান, আবুল বাশার বাচ্চু, জামাল মিয়া, মমিন, শাহজালাল, জোবাইর, হাবিব, আলহাজ মোখলেছুর রহমান, মনির, মহর, আর্মি আবুল কালাম আজাদ, কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন, মাস্টার মোস্তফা খান, মুবাল্লিগ আল ইমরান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আকন্দ প্রিন্স, সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) মোস্তাক আহমেদ, সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি) তারেকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম, রাজিব, ইলিয়াস, আব্দুর রহমান দুলাল, সিনিয়র সাংবাদিক খলিলুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, জাহেদ আলী, আব্দুল্লাহ আল ইল্লাল, আবুল হাসান মানিক প্রমুখ।