• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline
টঙ্গীর ঘটনা, ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গন নিয়ে কিছু কথা — মালয়েশিয়া সফর থেকে মামুনুল হক লক্ষ্মীপুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন, তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস পুলিশের হঠাৎ ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, উঠে এলো নানা সংকট ফুলপুরে আলহাজ্ব শামছুল হকের জানাজা সম্পন্ন সাংবাদিকদের দুঃসময়ে সাহসী কণ্ঠস্বর খায়রুল আলম রফিক ফুলপুরে আঞ্জুমান কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত সাবেক ফুটবলার আনোয়ারুল করিম সোহেল ফুলপুরে জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আনোয়ারুল করিম সোহেল আর নেই ফুলপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ দুর্গাপুরে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ ফুলপুরে জমিয়তের মতবিনিময় সভা

টঙ্গীর ঘটনা, ন্যায়বিচার ও বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গন নিয়ে কিছু কথা — মালয়েশিয়া সফর থেকে মামুনুল হক

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

পাঁচ দিনের সফরে মালয়েশিয়ায় আছি। বিদেশে থেকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য সূত্রে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত থাকছি। সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত টঙ্গী মাদ্রাসার অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা আমার কাছে যথেষ্ট উদ্বেগজনক মনে হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য কয়েকটি কথা তুলে ধরতে চাই।

১. অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি ও প্রমাণের মানদণ্ড

ইসলামসহ যেকোনো গ্রহণযোগ্য নৈতিক ও আইনগত ব্যবস্থার মৌলিক নীতি হলো—গুরু অপরাধের গুরু শাস্তি, লঘু অপরাধের লঘু শাস্তি। গুরু অপরাধের লঘু শাস্তি যেমন ইনসাফ নয়, তেমনি লঘু অপরাধের গুরু শাস্তিও ন্যায়সংগত নয়। ইসলামে ব্যভিচারসহ গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। মানুষের ইজ্জত হরণ ও ধর্ষণের মতো অপরাধও অত্যন্ত গুরুতর। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।

কিন্তু এখানে আরেকটি সমান গুরুত্বপূর্ণ নীতি রয়েছে। অপরাধ যত গুরুতর, তা প্রমাণের ক্ষেত্রেও তত বেশি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজন। সন্দেহ, অনুমান কিংবা দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে কাউকে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। গুরুতর অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই শাস্তি দেওয়াও যথার্থ হতে পারে না।

অভিযোগ উত্থাপন করাই যথেষ্ট নয়; শরিয়ত নির্ধারিত প্রমাণের শর্ত পূরণ করাও অপরিহার্য। অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত হলে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, শরিয়তের নির্দিষ্ট শর্তে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণিত না হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও শাস্তির বিধান রয়েছে।

অতএব, নীতিটি পরিষ্কার: শক্তিশালী প্রমাণে গুরুতর অপরাধ সাব্যস্ত হলে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে মিথ্যা অপবাদ দানের দায় নিতে হবে। এই দুই নীতির সমন্বয়ই ন্যায়বিচারের ভিত্তি।

২. শিশুর মনস্তত্ত্ব ও অভিযোগ যাচাইয়ের গুরুত্ব
আরেকটি বিষয় আমি এখানে উত্থাপন করতে চাই। বিষয়টি হলো শিশুর মনস্তত্ত্ব । শিশুদের মনে কত রকম কাল্পনিক এমনকি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ও চিন্তা কাজ করে সেটা অনেক সময় পরিস্থিতির সম্মুখীন না হলে কল্পনা করাও কঠিন ।
আমার মনে আছে আমরা যখন শিশুকালে হিফজ মাদ্রাসায় পড়তাম, হিফজ পড়াটা অনেক কঠিন। শিক্ষার্থীদের উপর যথেষ্ট চাপ যায় । এজন্য হিফজের শিক্ষার্থীরা সবসময় শিক্ষকদের ব্যাপারে একটা নেতিবাচক মনোভাবের উপরে থাকত আমাদের সময়টায় । তখন আমার মনে আছে আমাদের সাথে পাড়ার কিছু চঞ্চল ছেলে পেলেও পড়াশোনা করত । আমাদের উস্তাদ ছিলেন অন্ধ হাফেজ সাহেব । আমাদের সেই ছোট্ট সাত-আঠ বছর বয়সের কথা আজও আমার স্পষ্ট মনে আছে যে, কয়েকটা চঞ্চল ছেলে পরিকল্পনা করতো হুজুরকে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলা যায় কিনা । কি ভয়ঙ্কর চিন্তা! এটা আমাদের সময়ের কথা বলেছি ।
অতিসম্প্রতি আমাদের শিক্ষকতার সময়কালীন এমন বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনার সংবাদ আমার জানা আছে । আমি জানি এমন একটি ছেলের কথা- মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য সে ভয়ঙ্কর নাটক সাজিয়েছিল । সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায় । বেশ কয়েকদিন নিরুদ্দেশ থাকার পর বাড়িতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর নাটকের স্ক্রিপ্ট সাজিয়ে বসেছিল । বলেছিল তাকে নাকি কোনো কিডন্যাপার গ্রুপ কিডন্যাপ করে ট্রাকে করে পাচার করে দিচ্ছিল বর্ডারের কোনো এলাকায় । সেখান থেকে সে এক অতি মানবীয় কায়দায় সিনেমার নায়কের মতো পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছে । সে অবস্থা থেকে বাড়িতে ফেরার পর তার বাবা মা তাকে নিয়ে সে কি আদর যত্ন! অথচ পরে জানতে পেরেছি পুরো ঘটনাটাই ছিল ভুয়া । সে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে ভালো সাজার জন্যে এই অপহরণ নাটক সাজিয়েছিল । তার বাবা-মাও বিষয়টি সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করেছিল ।

আমার দৃরম্পর্কের এক আত্মীয়ের কথা জানি । একটা ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ত । ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় তার মাথায় এক ভয়ংকর ভূত চাপল । ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সে পড়বে না । সে অন্য লাইনে পড়াশোনা করবে । ছেলেটার বাবা ছিল একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা । নিরুদ্দেশ হওয়ার পর তার বাবা গোটা প্রশাসনকে তোলপাড় করে ফেলেছিল । সারা দেশ জুড়ে প্রশাসনিক রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ার মতো ব্যবস্থা জারি করেছিল । শেষতক জানা গিয়েছিল যে, ছেলেটি আসলে নিজ থেকেই এমন একটি ঘটনার অবতারণা করেছে । তারপর একটি সুন্দর নাটক সাজিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছিল ।

আমাদের সুপরিচিত বন্ধুবর মুহতারাম মাওলানা হাসান জামিল সাহেবের দারুল উলুম রহমানিয়া মাদ্রাসা, যা এলিফ্যান্ট রোডে অবস্থিত, সেই মাদ্রাসায় এমন এক ভয়ংকর ঘটনার কথা আমরা জানি। একটি ছোট্ট শিশু মাদ্রাসা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য রাতের বেলায় বহুতল ভবনের যেই জেনারেটর রয়েছে, সেই জেনারেটর সার্ভিসে কেরোসিন তেল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। তবে আল্লাহর রহমতে যতটা ভয়াবহ হওয়ার কথা ছিল পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ হয়নি, কিন্তু পিলে চমকে গিয়েছিল সবার।

এই সবগুলো ঘটনার মধ্যে থেকে একটি অভিন্ন উপসংহার বের হয়ে আসে । শিশুরা নিষ্পাপ, সন্দেহ নেই । কারণ আল্লাহ তাদের পাপ গণনা করেন না । কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, শিশুরা কখনো বিপজ্জনক চিন্তা করে না । বরং শিশুরা ছোট্ট একটি বিষয়কে মাথায় নিয়ে ভয়াবহ রকমের তাণ্ডব ঘটিয়ে দিতে পারে । এমন আরো অসংখ্য ঘটনা রয়েছে ।
শিশুরা অনেক সময় নিজেদের ছোট্ট ভুলকে আড়াল করার জন্য অনেক বড় রকমের বিপদ্জনক পরিবেশ তৈরি করে ফেলতে পারে । শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করলে এই বিষয়গুলো দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে উঠবে ।

৩. টঙ্গীর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
আলোচিত ঘটনায় আমি নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষাবলম্বন ছাড়াই যে কথা বলতে চাই তা হলো, মাদ্রাসা শিক্ষকের বিষয়ে যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে অভিযোগটি অবশ্যই গুরুতর । সুতরাং নীতির আলোকে গুরুতর অপরাধের জন্য তার গুরুতর শাস্তি হওয়াই বাঞ্চনীয় । তবে শুধু এই একটি নীতির কথা স্মরণে রেখে অপর নীতির কথা ভুলে গেলে নির্ঘাত এখানে বড় ধরনের ভুল হবে । সেই নীতিটি হলো অভিযোগ যত গুরুতর প্রমাণও চাই সে রকম শক্তিশালী । সন্দেহ সংশয়ের উপর ভিত্তি করে গুরুতর কোনো অভিযোগ সাব্যস্ত করা কোনোদিন যথার্থ হতে পারে না । আর কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করার তো সেখানে বৈধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না ।

বহু বাবা-মাই এমন, যাদের কাছে তাদের শিশু সন্তানদের সব অভিযোগই নিশ্চিত বিশ্বাসযোগ্য হয়। স্বাভাবিকভাবেই সন্তান যখন ভিকটিম, তখন পিতা ও মাতা সর্বোচ্চ রাগান্বিত ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন।আর যেকোনো বিচারের মৌলিক নীতি হলো ক্রুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বিচার করতে পারবে না। যদি বিচার করে সে বিচার ন্যায়নিষ্ঠ হওয়া সম্ভব নয়। বিচারককে হতে হয় নির্মোহ শান্ত এবং কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত। অভিযোগকারী পিতা নিজেই যদি অভিযুক্তের শাস্তি নিজ হাতে দেয় সেক্ষেত্রে সীমালংঘন হওয়া অবধারিত।

৪. মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
পরিস্থিতি আমার কাছে খুবই বিপজ্জনক মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের ধর্মীয় অঙ্গণের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের যে অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে নিঃসন্দেহে তা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধের অভিযোগ। এই বিষয়ে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই এবং অবশ্যই কঠোর হতে হবে। তবে আমার কাছে যে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার সেটি হলো এই যে,
হঠাৎ করে গত কয়েক মাস ধরে এই জাতীয় ঘটনা ব্যাপকভাবে মিডিয়ার কল্যাণে আলোচনায় আসছে।
এখানে সরল প্রশ্ন হলো-
গত ছয় মাস ধরে এই দুর্ঘটনাগুলো ব্যাপক হারে ঘটছে না আগে থেকেই ঘটছিল?
আমার সরল এবং স্বাভাবিক মন্তব্য হলো-গত ছয় মাসে অতি মাত্রায় সংগঠিত হওয়ার কোনো কারণ নেই!
আবাসিক যে কোনো ব্যবস্থাপনায় এই জাতীয় অপরাধের প্রবণতা রয়েছে এটা অনস্বীকার্য। আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতেও এই জাতীয় অপরাধ হয়। কোনোকালেই মাদ্রাসাগুলো শতভাগ অপরাধমুক্ত ছিল এমন দাবি করার সুযোগ নেই। স্বাভাবিকভাবেই মাঝে মাঝে এই জাতীয় অপরাধের ঘটনা বিভিন্ন মাদ্রাসায় ঘটে। ব্যাপারটি আগেও যেমন ঘটত বিগত ছয় মাসেও তেমন হারেই ঘটেছে। কিন্তু বিগত ছয় মাস যাবৎ এ বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক মিডিয়া তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনা যেহেতু আগের তুলনায় অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়নি এবং বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো কারণ নেই, সুতরাং মিডিয়া অথবা আলোচনা আগে ছিল না হঠাৎ করে গত ছয় মাস ধরে এই আলোচনা তুঙ্গে ওঠার মাজেজাটা কি? নিঃসন্দেহে এটি একটি গুরুতর বিপজ্জনক আলামত! আমার কাছে মনে হচ্ছে চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশকে একটি নতুন সংকটের মুখে ফেলার জন্য এই জাতীয় বিষয়গুলোকে কৃত্রিম উপায়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সর্বশেষ টঙ্গীর ঘটনায় দিবালকের ন্যায় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, সমাজকে স্পষ্ট দুটি ভাগে বিভক্ত করে মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত করে দেওয়ার এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করা হয়েছে।

৫. সমন্বিত উদ্যোগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, দেশের আলেম সমাজ, ধর্মপ্রাণ মানুষ ও দেশপ্রেমিক সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ একযোগে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে অনিবার্য সংঘাতের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না । ইতিমধ্যে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে সকল মাদ্রাসায় শিশুশিক্ষার্থীদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে । সুরক্ষা কমিটি গঠন এবং শিশু নিপীড়নের যে কোনো অভিযোগ দ্রুত আমলে নিয়ে বিহিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে ।

৬. আবারো তৎপর হলুদ মিডিয়া
চিহ্নিত মিডিয়া সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সকলের সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছি । সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে সেই ফ্যাসিবাদী আমলের সবচেয়ে বড় অত্যাচারের হাতিয়ার ফ্যাসিবাদী মিডিয়াগুলো এই বিষয়ে আবার তৎপর হয়ে উঠছে এবং তারা সমন্বিত সিন্ডিকেটেড নিউজ এবং তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় অঙ্গনের বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে । কাজেই এই সময়টায় প্রতিটি মাদ্রাসায়, প্রতিটি ধর্মীয় শিক্ষাঙ্গনে একদিকে যেমন সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোর করা প্রয়োজন, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা সুসম্পন্ন করার উদ্যোগ প্রয়োজন, ঠিক তেমনিভাবে বিষয়গুলো নিয়ে দানা বাঁধতে থাকা ষড়যন্ত্রের বিষয়েও সকলের সজাগ থাকা প্রয়োজন ।
ভয়াবহ আরেকটি বিপদের দিক হলো, অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে সকল আইডি থেকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের প্রচারণা চালাতো তাদের মধ্যে শতকরা একশ ভাগ আইডি এই সকল বিষয়ে আলেম ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে । তাদের তালে তালে বিএনপিপন্থী অ্যাক্টিভিস্টরাও ব্যাপকভাবে এক্ষেত্রে আওয়ামীগারদের সুরে সুর মেলাচ্ছে । অর্থাৎ সমীকরণ ভয়াবহ হয়ে উঠছে । বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ মাঠ পর্যায়ে এক ধরনের অলিখিত ঐক্যে পৌঁছে যাচ্ছে । ঘটনাটি এমন ঘটলে বাংলাদেশের ধর্মীয় পরিবেশ এবং আগামীর বাংলাদেশের জন্যে হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং দেশ ও স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার লক্ষণ ।

৭. রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব
এখানে রাজনীতির খেলা হচ্ছে । জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ ইসলামপন্থী যেসকল সংগঠন সরকারদলের সাথে জোটবদ্ধ আছে তাদের উচিত এই বিষয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া । আমি জানি না টঙ্গির ঘটনায় সরকার সংশ্রিষ্টরা কী করে মাদ্রাসায় শিক্ষকের উপর আইন হাতে তুলে নেওয়ার তৎপরতাকে প্রশ্রয় এবং পক্ষপাতিত্ব করার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন । বিষয়টি যদি সরকারের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে তাহলে সে বিষয়ও তাদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি ।

৮. প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অঙ্গনের সাখাগত বিভেদ ভুলে সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় ভূমিকা রাখা দরকার। অন্যথায় মাশুল সবাইকেই গুণতে হবে।

শেষ কথা হলো—
শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে, প্রকৃত অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরপরাধ কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বা রাজনৈতিক বিভাজনের চেষ্টা রোধ করতে হবে।

ন্যায়বিচার, শিশুর সুরক্ষা ও জাতীয় ঐক্য—এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই বর্তমান সংকট মোকাবিলা করতে হবে। অন্যথায় পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সংঘাতের যে পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, স্বাধীনতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

টাইম স্কয়ার
বুকিট বিন্তান
কুয়ালালামপুর

লেখক : আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে সংগৃহীত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা