ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেলের ছোট ভাই, ঠিকাদার ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় আনোয়ারুল করিম সোহেল সবাইকে কাঁদিয়ে আঞ্জুমান কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। তিনি শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। এরপর রবিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা পৌনে ৩টার দিকে ফুলপুরের কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজনৈতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে মাদরাসাসংলগ্ন আঞ্জুমান কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাজা উপলক্ষে আয়োজিত স্মৃতিচারণামূলক বক্তব্যে বক্তারা তাঁর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ সময় আবেগঘন বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল। তিনি বলেন, সোহেলের সাথে আমার কতটুকু সুসম্পর্ক ছিল তা অনেকেই জানে না। সে আর আমি এক বিছানায় ঘুমাতাম। সোহেলের মৃত্যুতে তার পরিবারের পর যদি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে সেটা আমি। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সকলের কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করেন।
এরপর ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল বাসার আকন্দও কান্নাজড়িত কণ্ঠে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, মরহুমের বড় ভাই ও ফুলপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউল করিম রাসেল, বড় ভাই ফয়জুল করিম কিসলু এবং মরহুমের বড় ছেলে ওয়াসি বক্তব্য রাখেন। সবার বক্তব্যের মধ্যেই মরহুমের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা, মায়া মমতা ও অকৃত্রিম মহব্বত ফুটে ওঠে। তার বড়ভাই রাসেলের কান্নাজড়িত বক্তব্যের সময় অনেককেই কাঁদতে দেখা গেছে।

উনারা ছাড়াও বক্তব্য দেন মরহুমের ব্যাচমেট ডা. সাইফুল মালেক, সহকর্মী ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম, ফুলপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আমিনুল হক, বিএনপি নেতা এমরান হাসান পল্লব, রকিবুল হাসান সোহেল, মহিবুল হক টুটুল, ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন প্রমুখ।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সেলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মৃতিচারণা পর্বে ফুলপুর সরকারি কলেজের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সাত্তার এবং ফুলপুর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহারুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মরহুমের চাচাতো ভাই মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
আনোয়ারুল করিম সোহেলের মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে ফুলপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।