সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সত্যের অনুসন্ধান এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে সাহসী ভূমিকা পালন করা সময়ের অন্যতম দাবি। এমন এক বাস্তবতায় দীর্ঘ ১২ বছর ধরে মফস্বল সাংবাদিকদের দুঃসময়ে সাহসের সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে আসছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিক।
তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরু মরহুম সাইদুর রহমান রিমন ও চারণ সাংবাদিক মনোনেশ দাশের শিষ্য। তাঁদের সাংবাদিকতার আদর্শ, সাহসিকতা ও প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন খায়রুল আলম রফিকের লেখনী ও কর্মকাণ্ডে লক্ষ করা যায়। সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাঁর সোচ্চার অবস্থান তাঁকে একটি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত করেছে।
একসময় যেভাবে মরহুম সাইদুর রহমান রিমন সাংবাদিকদের অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে সাহসের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতেন, তেমনি খায়রুল আলম রফিকও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সহকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁর এই ভূমিকা শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতার পরিচয় নয়; বরং সাংবাদিক সমাজের ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধেরও বহিঃপ্রকাশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম ও শেলু আকন্দ, গাজীপুরের আসাদুজ্জামান তুহিন এবং নেত্রকোনার লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছেন খায়রুল আলম রফিক। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিবাদী কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আরও ৫০ থেকে ৬০ জন তরুণ সাংবাদিক।
এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, একজন সাংবাদিক যখন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু তাঁর পরিবার নয়, বরং সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়ে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
তবে প্রতিবাদ শুধু ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্বাধীন পরিবেশ সৃষ্টি, হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ধারাবাহিক ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।
এই বাস্তবতায় খায়রুল আলম রফিকের মতো প্রতিবাদী সাংবাদিকদের ভূমিকা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের সাহসী অবস্থান অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অনুপ্রেরণা জোগায় এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। তবে এই লড়াই কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি গোটা সাংবাদিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
আমরা প্রত্যাশা করি, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মোঃ খায়রুল আলম রফিকের সাহসী পথচলা অব্যাহত থাকবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কলম আরও শক্তিশালী হবে, প্রতিবাদী কণ্ঠ আরও দৃঢ় হবে এবং সাংবাদিক সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সহকর্মীদের পাশে থাকবেন।
সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকা প্রতিটি সাংবাদিকের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে যাঁরা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার কর্তব্য। অনুসন্ধানী সাংবাদিক মোঃ খায়রুল আলম রফিকের প্রতি রইল আন্তরিক দোয়া, অফুরন্ত ভালোবাসা ও শুভকামনা।