• শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জাতীয় ইমাম সমিতি ফুলপুর উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ফুলপুরে ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার পেলেন ১০ মুসুল্লী ফুলপুরের মাহিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ পাওয়ায় বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ফুলপুরে দাদী ও মা’সহ গুরুতর আহত শিশুকন্যা ইফামনি, সিএনজি চালক আটক ময়মনসিংহের ৭ উপজেলার জন্ম মৃত্যু নিবন্ধন অগ্রগতি বিষয়ে ফুলপুরে পর্যালোচনা সভা এই সীজনেই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে– হাফেজ মাওলানা মুহিউদ্দিন আবারও বিশ্বসেরা বিজ্ঞানীর তালিকায় ফুলপুরের কৃতি সন্তান মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সব ছাড়বো কিন্তু আল্লাহর দীনের ঝান্ডাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেব না— আল্লামা মামুনুল হক ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের পিতার জানাজা সম্পন্ন ফুলপুরে সাংবাদিক নাজিম উদ্দিনের বাবা আর নেই

নিজের টয়লেট থাকলেও রাতে দিনে ছেলের রুমে টয়লেট করতে যায় মা : উপায় বল না

Reporter Name / ২৬৬ Time View
Update : রবিবার, ১১ মে, ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক :

সম্প্রতি এএসপি পলাশ সাহা নামে এক ভদ্রলোক তার মা ও বউয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে নিজের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে নিজেই নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। এখন অনলাইনে পরিবার ও আশপাশের লোকজন থেকে যেসব বক্তব্য আসছে তাতে মনে হচ্ছে মা’র দোষই বেশি। তিনি নাকি বউকে সহ্য করতে পারতেন না। স্বামী স্ত্রীর পার্সোনাল বিষয়েও নাক গলাতেন। বউকে রান্না করে খাওয়াতে দিতেন না। কোথাও ঘুরতে গেলে মা সাথে যেতেন। শুধু তাই নয়, মা তার ছেলের হাত ধরে ঘুরতেন। নতুন বউ হিসেবে স্বামীর হাত ধরে যে ঘুরতে মন চায় এতটুকু সুযোগ তাকে দেওয়া হতো না। যদিও স্বামী তাকে সময় দিতে আগ্রহী ছিল তবু মার কারণে তিনি তার বউকে সেই সময়টুকু সেভাবে দিতে পারতেন না। এসব নিয়ে দ্বন্দ্ব কলহ চরমে যায়। মারামারির ঘটনা ঘটে। নিরুপায় হয়ে সহ্য করতে না পেরে জীবন বিসর্জন দেন পলাশ সাহা। যাক, এ নিয়ে আরও রয়েছে নানা কাহিনী।

এই কাহিনীকে কেন্দ্র আরেক ভাই অনলাইনে একটি লেখা পোস্ট করেছেন। তিনিও প্রায় একই ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। তার মায়ের পৃথক টয়লেট থাকা সত্বেও রাতে দিনে প্রায় সময় ছেলের বউ নিয়ে থাকার রুমে মা যান টয়লেট করতে। এ নিয়ে অতিষ্ঠ স্বামী স্ত্রী। এ বিষয় তিনি একটি উপায় খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

তার লেখাটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘আমিও কি মারা যাবো পলাশ সাহার মত? বাবা মা সন্তানকে মানুষ করার পর কেন খোঁটা দেয়? ইমোশনাল ব্ল্যাক-মেল করে সন্তানদের কেন হাতে রাখতে চায় এই বাবা মাগুলো? মা নিজে পছন্দ করে সখ করে বিয়ে করালো আমাকে। আমি সরকারি চাকুরীজীবী। বাবার ব্যবসা আছে। মাসে ৫০ থেকে ১ লাখ টাকা আসে ব্যবসা থেকে। বাবার বয়স ৬৫। মায়ের বয়স ৫২। আমি ছোট। মেজো ভাই ও বড় ভাইও সরকারি চাকরি করে। বাবাও চাকরি করতেন। এখন পেনশন পান। ব্যবসাও করেন। মানে বুঝতেই পারছেন টাকার অভাব নেই আমাদের,  আলহামদুলিল্লাহ। বাড়িটা পলাশের মত আমাদেরও বিল্ডিং করা। বিয়ের পর থেকে আমার মা মেজো ভাই, বড় ভাইদের  বউদের সাথে সব সময় ক্যাচাল করতেন এবং বলতেন ছেলেকে আমি মানুষ করছি ছেলে আমার! মায়ের কথা ছিলো ভাবিদের অধিকার নেই ভাইয়ের ওপর। অবশেষে ভাইয়েরা একই বিল্ডিংয়ে আলাদা হলো। কিন্তু মা তারপরও তাদের সংসারে নাক গলাতেন। ভাইয়েরা প্রতি মাসে মাকে ১০ হাজার করে টাকা দিতেন। বিয়ের পর আমি আর আমার বউ একা সময় কাটাতে পারতাম না। মা আমাদের সাথেই থাকলেন একই ফ্ল্যাটে। একটা রুম আমার আরেকটা রুম মায়ের আর বাবার।
আমাদের বিল্ডিং ৬ তালা, ধানমন্ডিতে। বাবা বলেছিলো,  আমাদের পাশাপাশি রুমে না থেকে অন্য রুমে থাকতে কিন্তু মা রাজি হননি। পাশাপাশি রুম মা আর আমার। আমার রুমটায় হাই কমড আছে। মায়ের রুমের পাশে লো কমড। তাই মা বললো, আমি তোদের রুমেই যাবো বাথরুম করতে! রাত দিন, দুপুর সকাল, রাত ১২/১/২/৩/৪ একটু পর পর মা আমাদের রুমে আসতো। আমরা স্বামী স্ত্রী একটু জড়িয়ে ধরে শুতেও পারিনা মায়ের ভয়ে। কাছে আসাতো দূরের কথা। এটা বউ সহ্য করতে না পেরে একদিন আমাকে বললো, মায়ের রুমে – হাই কোমড লাগাও। এ কথা মা শুনে বলে, না, টাকা নষ্ট করতে দিবো না আমার ছেলের। আমি তোদের রুমেই যাবো। তখন আমি বললাম, মা, তাহলে তুমি আর বাবা আমাদের রুমে থাকো। আমরা তোমাদের রুমে যাই। মা তাতেও রাজি না।  আমি মাকে বোঝাতে পারছিলাম না। মা তোমার জন্য আমি আর আমার বউ সময় কাটাতে পারছি না। মা বলে – তোদের কি নতুন বিয়ে নাকি যে, রুমে মা ঢুকলে সমস্যা? এটা কেমন কথা? আপনারাই ভাবুন। ধরুন, আপনি আর আপনার বউ শুয়ে আছেন; একটু রোমান্টিকভাবে। কাপড় চোপড় অগোছালো শরীরে। তখন নক না করে রুমে আপনার মা ঢুকলে কেমন লাগবে?
নক না করেই ঢুকে পড়ে মা। একবার না বহুবার। রাত ১২/২/৩/৪/৫ এতোবার। বুঝলাম বাথরুম করতে হাই কমড লাগে কিন্তু গোসল, ওযু হাত মুখ ধোয়ার জন্য তো আরেকটা বাথরুম আছে। তাহলে সেসব কাজ করতেও মা কেন আমাদের বাথরুমে আসেন? মায়ের বাথরুম পরিষ্কার, বড়, সুন্দর।
এখানেই স্ত্রীর অভিযোগ। কারণ, সেও চায় একটু প্রাইভেসি।আমি আর আমার স্ত্রী এক রুমে সময় কাটাতে পারতাম না।  অফিস থেকে ফিরলে মা শুরু করে দিতো সারাদিন বড় ভাই, মেজো ভাইয়ের সংসারে কি হল এটা নিয়ে। আমার বউয়ের  বয়স ২১, আমার ২৮। সারাদিন বউ একা কাজ করে। মা একটু সাহায্য করে না। এরপরও মা বউয়ের নামে বিভিন্ন কথা আমাকে বলতো। আর বউকে নিয়ে একটু বাইরে যেতে চাইলে মা পিছ ধরতো ইচ্ছে করে। নয়তো মা অসুস্থ, এটা দেখাতো। বউয়ের সাথে রুমে যেতে যেতে রাত হতো। অফিস থেকে ফিরে মা প্রতিদিন বলতো – তোদের পিছে এতো টাকা খরচ করছি; তোদের মানুষ করছি; সেই তোরা এখন বউ পাগল! কিন্তু আমরা কোনো ভাইই ইচ্ছে করে আলাদা হইনি। বা কেউ মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহারও করিনি। মা চাইতো আমাদের হাতে রাখতে। বউয়েরও তো চাহিদা থাকে। বউরাও তো স্বামীর সাথে সময় কাটাতে চায় কিন্তু না, মায়ের কথা মায়ের অনুমতি ছাড়া এ বাড়িতে কেই শ্বাস নিতেও পারবে না। এভাবে চলতে চলতে বিয়ের আড়াই বছর পর বউ মুখ খুললো! বললো, হয় আমাকে নিয়ে আলাদা হও নয়তো আমাকে তালাক দাও! আমি তোমার বিয়ে করা বউ। আমিও তোমার থেকে সময় চাই।  তোমার ভালোবাসা চাই। সারাদিন আমি বাড়ির কাজ করি। রাতে তুমি বাসায় ফিরে তোমার মায়ের সাথে গল্পে জুরো। রাতে শোবার আগ পর্যন্ত গল্প কর। এরপর শুয়ে পড়ো। এরপর সকালে উঠে অফিসে চলে যাও। তাহলে আমার কাজ কি এ বাড়িতে? শুধুই কি তোমার মায়ের কথা শোনা? নাকি তাদের সেবা করা? ইসলামে তো বউদের শাশুড়ীকে সেবা করা ফরজ না। হ্যা, আমি এবং মা কথা বললে ঐখানে বউ এসে বসলে মা বউকে বলতো বউ নাকি নজর দারি করছে। তাই বউ চলে যেতো। এভাবে চললো। এখন মা আমাকে আলাদা হতে দেয় না। বউয়ের সাথে সময় কাটাতে দেয় না। আবার বউও পারছে না সহ্য করতে। বিশাল বড় সমস্যা চলছে আমার জীবনে! আমি এই মূহুর্তে কি করবো? আমারো ইচ্ছে হয় পলাশ সাহার মত মরে যেতে। আমার মত হাজারো ছেলে এভাবেই বউ আর মায়ের যন্ত্রণায় মারা যেতে চায়। যদিও এখানে বউয়ের দোষ নেই। এখন কি করবো আমি? উপায় বল না!

সত্য ঘটনা – রাহাত ইসলাম
©Afsanah Khan

ছবি : পলাশ সাহা, তার মা ও স্ত্রী সুস্মিতা।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা