মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর মাঠখলা জামে মসজিদে খতমে তারাবি পড়াচ্ছেন হাফেজ আশরাফুল ইসলাম ও হাফেজ আবু জিহান নামে দুই ক্ষুদে হাফেজ। তাদের সাথে রয়েছেন সিংহেশ্বর মাঠখলা নূরুল উলূম ক্বওমী মাদরাসার উস্তাদ হাফেজ আব্দুর রব। খুবই ভালভাবে তারাবি পড়াচ্ছেন উনারা। উস্তাদ ভাল করলে সেটা আশ্চর্য হওয়ার কিছু না বরং ছাত্র বা ছোটরা ভাল করলে সেটাই বেশি প্রশংসনীয় বিষয়। কারণ ওরা তো ছোট। খেলার পোলাপান। ওরা তো এই বয়সে খেলা করার কথা অথচ ওরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে। এমনকি তারা মসজিদে শত মুসল্লীর সামনে দাঁড়িয়ে তারাবিতে ইমামতি করছে। কতই না সুন্দর তাদের পড়া! মুগ্ধ হওয়ার মত। তাই তাদের কথাই বলছি।
বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদক ফুলপুর থেকে ৩ দিনের জন্য ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও নানা পেশার ১৯ জনবিশিষ্ট একটি জামাত নিয়ে গিয়েছিলেন সিংহেশ্বর মাঠখলা জামে মসজিদে। সে সুবাদে ওই হাফেজ সাহেবদের সাথে কথা বলা ও তাদের পিছনে নামাজ আদায় করার সুযোগ হয়।
জানা যায়, হাফেজ আশরাফুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। সখিপুর উপজেলার কালমেঘা গ্রামের নাঈম উদ্দিন ও খাদিজা আখতার দম্পতির ছেলে তিনি। ছোটবেলায় সখিপুরে মুহাম্মদিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন তিনি। তিনি প্রখর মেধাবী ও একজন আদর্শ ছাত্র। মাত্র দেড় বছরে হাফেজ মাওলানা সানোয়ার হোসেনের নিকট তিনি হিফজ সম্পন্ন করেন। তারাবি পড়াচ্ছেন দেদারসে। কোন চিন্তা ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিলাওয়াত। কোন লুকমা লাগতে শুনিনি। চমৎকারভাবে পড়ে যাচ্ছেন এই ক্ষুদে হাফেজ। তারা দুই ভাই। কোন বোন নেই। তার বাবা নাঈম উদ্দিন একজন প্রবাসী। সৌদি আরবে থাকেন। মা খাদিজা আখতার একজন গৃহিণী। বলা যায়, ধন্য এই মা-বাবা ও তার পরিবার। হাফেজ আশরাফুল এবার টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠের পশ্চিম পাশে জামিয়া সুবহানিয়া মাদরাসায় তাইসির জামাতে ভর্তি হবেন বলে জানান। ভবিষ্যতে বড় আলেম হতে চান আশরাফুল এবং কুরআন ও হাদীসের উপর উচ্চতর ডিগ্রি হাসিল করে ইলমে দীনের খেদমতে নিজেকে ব্যপৃত রাখবেন বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।
আর সবার বামে হাফেজ আবু জিহানের বাড়ি শেরপুরে। নালিতাবাড়ী উপজেলার রাবার ডাম এলাকায়। জিহানের বাবা মো. উসমান গণি একজন ফার্মাসিস্ট। ওষুধ বিক্রি করেন। মা রৌশনারা বেগম একজন আদর্শ গৃহিণী। তিনি ২০১৮ সনে হিফজ শুরু করে হাফেজ মাওলানা ওলীউল্লাহর নিকট ২০২১ সনে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এখানে সময় বেশি মনে হলেও মূলতঃ তার এত সময় লাগেনি। করোনার কারণে তার সবক বন্ধ ছিল বলে এ সময়টা খরচ হয়েছে। জিহান অত্যন্ত মেধাবী ও ভাল একজন হাফেজ। চমৎকার তার পড়ার লেহান। তিনি জামিয়া সুবহানিয়া থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছেন। এবার তিনি ওই মাদরাসায় মিজান জামাতে ভর্তি হবেন বলে জানিয়েছেন। তার ইচ্ছা, ভবিষ্যতে তিনি একজন আলেম হবেন। তাছাড়া ডাক্তার বা নেতা হওয়ারও তার ইচ্ছে রয়েছে। যদি আল্লাহ তায়ালা চান। আবু জিহানও সকলের দোয়া চেয়েছেন। এই হাফেজ আশরাফুল এবং হাফেজ আবু জিহান দুজনই সিংহেশ্বর মাঠখলা নূরুল উলূম ক্বওমী মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা মাসউদ আল মামুনের আত্মীয়। সেই সূত্রে তারা এই মসজিদে তারাবি পড়াতে আসা। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে পরিপূর্ণ সুস্থ রাখুক এবং তাদের নেক আশা পূরণ করুক।