• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগে মারামারি, রাস্তা কর্তন, চাপা উত্তেজনা তারাকান্দায় বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি থানায় অভিযোগ ফুলপুর কাজিয়াকান্দা কামিল মাদরাসায় অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত তারাকান্দায় ১৪৪ ধারা জারি বিশ্ববিখ্যাত ক্বওমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দের বিস্ময়কর ব্যবস্থাপনা এমপিকে হেনস্থার অভিযোগসহ হামলা ও মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদে তারাকান্দায় বিক্ষোভ মিছিল ফুলপুরে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (মাদরাসা) নির্বাচিত হলেন অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান নেত্রকোনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীলদের সভা হালুয়াঘাটে নতুন ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন তার একজন কর্মী মুরগী জবাই করে রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে ফেইসবুকে ছেড়েছে — মোতাহার

জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলার অভিযোগে মারামারি, রাস্তা কর্তন, চাপা উত্তেজনা

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে জমির সীমানা খুঁটি উপড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে উভয় গ্রুপের মধ্যে মারামারি ও রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলপুর উপজেলার ৭নং রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের দেবোত্তর বেরুয়া গ্রামে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রহিমগঞ্জ বাজার থেকে পশ্চিমে সিলার বাজার যাওয়ার পাকা রাস্তা থেকে কাঁচা রাস্তায় হাবির বাড়ির মোড় থেকে শামছুল হক ও আবু সামার বাড়ির মাঝখানের রাস্তা কোদাল দিয়ে কুপিয়ে কেটে ছোট বা চিকন করে ফেলা হয়েছে। কালভার্টের চুঙি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবোত্তর বেরুয়া গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে মুবারক হোসেন বুলু বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে আমার বাবা ও চাচারা শামছুল হক ও তার ভাই আব্দুর রউফের নিকট জমি বিক্রি করে বুঝিয়ে দেয়। এর আগে এই জমিটি আমরা শামছুল হকের দাদার নিকট থেকে ক্রয় করেছিলাম। তারা আমাদেরকে যেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল আমরাও তাদেরকে ওই জমিই ওইভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছি। ওই সময় থেকে তারা এটা ভোগদখল করে আসছেন। এত বছর পর সম্প্রতি ওই দাগে উনার জমি কম হবে ধারণা করে পুনরায় মেপে বুঝিয়ে দিতে বলেন। পরে আমরা বলেছি যে, যেহেতু আমাদের বাবা ও চাচারা সবাই মিলে জমিটা বিক্রি করেছিলেন কাজেই আমাদের সবাইকে একসাথে বসে আলোচনা করার একটু সময় দিতে হবে। আমাদের রহিমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান একরাম হোসেন চৌধুরী পান্নাকে সাথে নিয়ে আমরা তার কাছে সময় চাই কিন্তু তিনি সময় না দিয়ে ফুলপুর থানায় অভিযোগ করেন যে, আমরা তার জমি মেপে বুঝিয়ে দিচ্ছি না।
থানায় অভিযোগ করার পর স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে এ নিয়ে দরবার হয় এবং একে একে দুইবার তাকে জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এর মাসখানেক পর আবার সে বলে যে তার জমি কম এবং পুনরায় সে আমাদেরকে জমিটি মেপে দিতে বলে। তখন আমরা অপারগতা প্রকাশ করলে সে আবার থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফুলপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে বিস্তারিত শুনে তিনিও ধানকাটার পর জমি মেপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়ে চলে যান। কিন্তু শামছুল হক তা না মেনে কাউকে না জানিয়ে একজন সার্ভেয়ার এনে তার দুই ছেলেকে নিয়ে এক পক্ষীয়ভাবে জমির মাপ দেন।

পরে মাপে জমি কম দেখায় এবং তার মাপ অনুযায়ী তিনি সীমানা খুঁটি গাড়েন। কিন্তু এ বিষয়ে পূর্বের সার্ভেয়ার চ্যালেঞ্জ করে বলছিলেন যে, ক্ষেতে জমি কম না বা মাপেও ভুল হয়নি। কম হলে এই পরিমাণ জমি তাকে ফুলপুরে কিনে দিবেন বলে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এদিকে একা মেপে খুঁটি গাড়ার পর প্রতিপক্ষ আবু সামার ছেলে আব্দুল কাদির গিয়ে সেই খুঁটি উপড়ে ফেলে দেন। এ ঘটনার পরদিন আব্দুল কাদিরের বাবা ৮৫ বছর বয়সী আবু সামা রহিমগঞ্জ বাজারে গেলে শামছুল হকের ছেলে আব্দুল আউয়াল তাকে মারধর ও অপমান অপদস্ত করে। এ সংবাদ শুনে আবু সামার ছেলে আব্দুল ওয়াহাব কিছুক্ষণ পর ওই একই বাজারে গিয়ে আব্দুল আউয়ালের বাবা আনুমানিক ৬৫ বছর বয়সী মুরুব্বিকে পাল্টা মারধর করে। এরপর তারা বাড়িতে এসে আবু সামার বাড়িতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা কেটে ফেলে। রাস্তায় যে চুঙি ছিল এগুলো সরিয়ে ফেলে। কোন একটি সাইকেল বা মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও রাখেনি। পরে আবু সামা ফুলপুর থানায় গিয়ে তাকে মারধর করা ও তার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ফুলপুর থানার এএসআই তানিমুল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয়পক্ষকে ডেকে মীমাংসা করে দেন এবং রাস্তা আগের মত করে ঠিক করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আর ধানকাটার পর জমি মেপে দিতে বলেন। কিন্তু তারা একটা চুঙি বসিয়ে দিয়ে বাকি রাস্তা ঠিক করে দেয়নি। না দিয়ে নতুন করে আরও কেটে ছোট বা চিকন করে ফেলে।
এ বিষয়ে জমির মালিক শামছুল হকের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমারে রহিমগঞ্জ বাজারে মারছে। আমি না অইয়া অন্য কেউ অইলে এইডা নিয়া অনেক কিছু অইতো। আমারে বাজারে অপমান করার চেয়ে যদি একবারে হাইরা মাইরালতো তাইলেও এত কষ্ট পাইতাম না। ‘আপনার ছেলে রহিমগঞ্জ বাজারে আবু সামাকে আগে মেরেছে। এরপর আবু সামার ছেলে ওই একই স্থানে গিয়ে আপনাকে মেরেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?’ প্রতিবেদকের এরকম প্রশ্নের উত্তরে শামছুল হক ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ছেলে তারে মারে নাই। তারা কইলেই অইতো না। এর সমর্থনে রহিমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাইট গার্ড আনারুল বলেন, তার (শামছুল হকের) ছেলে যে মারে নাই রহিমগঞ্জ বাজারে এর ৫ হাজার সাক্ষী আছে। এ বিষয়ে আবু সামাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, শামছুল হক মিথ্যা বলেছে। তার ছেরা রহিমগঞ্জ বাজারে আমারে মারছে। আমার জামার কলার ছিঁইড়ালছে। পরে আমার ছেলে গিয়া তারে মারছে। রহিমগঞ্জ বাজারে এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেক সাক্ষী আছে। এ বিষয়ে শামছুল হকের চাচাতো ভাই হজরত আলী বলেন, শামছুল হক খুব ভালো লোক। তবে এলাকার কারো লগে তার ঝগড়াঝাঁটি করার বাকি নাই।
তার সহোদর বড় ভাই আব্দুর রউফ বলেন, ৩-৪ বার জমি মাপছে। তার জমির মধ্যে খালি কম অইয়া যায়। বেহেই তারে কম দিয়া যায়। অহন এলহাই মাপ দিছে। কেউরে ডাক দিছে না। এডি লইয়া গন্ডগোল। তার আপন ভাতিজা মিজানুর রহমান বলেন, আমার নিকট ১৩-১৪ বছর আগে জমি বেচ্চে। আইজো কাওলা কইরা দেয় না। দ্বন্দ্ব বাজায় কিন্তু সমাধান করে না। মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, শামছুল হক আমাদের চাচা হয়। তবে সত্য কথা বলতে গেলে চাচারই দোষ। সে যে কোন্ ব্রেইনে এরকম করে আমরা বুঝি না। দরবার মানে না। পুলিশের কথা মানে না। দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, লোক এইডা সুবিধা না। দরবার মানে না। দরবারে বসে মানলেও এখান থেকে উইট্যা গিয়া মানে না।
রাস্তা কেটে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে শামছুল হক বলেন, আমরা রাস্তার জাগা দিলাম। আবার আমরারেই মারে। অহন আমরার বুহের উপর দিয়া ধান লইয়া, গাড়ি লইয়া যাইবো, এইডা আমরার চোহে বাজবো। কাজেই অতবড় রাস্তা দেওন যাইতো না। এই বাড়িততে হেই বাড়িত যাইতে যতটুক লাগে অতটুক দেয়াম। কিন্তু প্রতিপক্ষ আবু সামা বলেন, এটা শুধু এই বাড়িততে হেই বাড়ি যাওয়ার রাস্তা না। এটা অনেক আগের রাস্তা। এ রাস্তা দিয়ে অনেক লোক চলাচল করে। চংপলাশিয়া যাওয়ার জন্য এটিই একমাত্র রাস্তা। এ রাস্তা কেটে ফেলার অধিকার কারো নাই। এ বিষয়ে ফুলপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই তানিমুলের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে জানলাম তারা পরস্পর পরস্পরের আত্মীয়। পরে উভয়পক্ষের কথাবার্তা শুনে মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তারা হাতে পায়ে যারে যেভাবে ধরতে হয় ধরে মুরুব্বিদের নিকট থেকে মাফ নিয়েছেন। বুকে বুক মিলিয়ে মিলে গেছেন। পরে আমরা বলে আসছিলাম যে, রাস্তাটা যারা কেটেছেন তারা এগুলো আবার আগের মত ভরাট করে দিবেন। চুঙিগুলো বসিয়ে দিবেন। তারা বলছিলেন করবেন। পরে ফোনে আমাকে জানানো হলো যে, তারা সেভাবে তা করেননি। ২-৩ দিন পরে হয়তো রাস্তা কিছুটা ভরাট করেছে। একটি চুঙি বসিয়েছে। আরও কিছু বাকি আছে। এখন আরও অনেকটা সময় গেছে। হয়তো এর মধ্যে আরও কিছু ঘটেছে। পরে আর জানি না। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে মুবারক হোসেন বুলুর সাথে এ বিষয়ে কথা বলে জানা যায়, রাস্তা যেভাবে ঠিক করে দেওয়ার কথা ছিল তা করা হয়নি। দুইটি চুঙির মধ্যে একটি বাইরে পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, এখন আমাদের বোরো ধান লওয়ার সময় আসতেছে। বোম নিয়ে এদিক থেকে ওদিকে যাতায়াত করা বা ধান বন ঘরে উঠানোর জন্য রাস্তাটি মেরামত করা জরুরি প্রয়োজন। এটি ঠিক না করে দেওয়ায় এলাকাবাসী ভোগান্তির শিকার। এ কারণে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে একটা অভিযোগ দিতে বলেন। পরে আমি দেখতেছি।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা