মোঃ আব্দুল মান্নান:
পহেলা বৈশাখে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে হেনস্থার অভিযোগসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ হাদী (বাচ্চু)-কে মোতাহার গ্রুপের লোকেরা মেরে মাথা ফাটিয়ে রক্তে রঞ্জিত করার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বিষয়টি ভালোভাবে না জেনে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন যে, তার (এমপি মুহাম্মাদুল্লাহর) একজন কর্মী পাকঘরে মুরগী জবাই করে সেই রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে (বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য) ফেইসবুকে ছেড়েছে। এটা আপনারাও (সাংবাদিকরাও) দেখতে পারবেন কারণ তাকে তো পাকঘরে পাওয়া গেছে। অথচ এটা ছিল কাঁচা মিথ্যা অভিযোগ। এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতী মোস্তাক আহমদ ফারুকী। মিছিলশেষে পথসভায় মুফতী মোস্তাক আহমদ ফারুকী বলেন, আমরা আজ অত্যন্ত দুঃখের সাথে মাঠে নেমেছি। আপনারা জানেন যে, ইসলামী দলগুলো অন্যায়ভাবে কোন নিরিহ কুকুরকে আঘাত করেছে এমন কোন রেকর্ড নেই। আজ আপনারা আমাদেরকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছেন। নির্বাচনে জয় পরাজয় আছে ছিল থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজ যিনি পরাজিত হয়েছেন তিনি এই তারাকান্দা উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু কেউ যদি আমরা অহংকারী হয়ে যাই, দাম্ভিক হয়ে যাই, দাম্ভিক হয়ে কাউকে রোধ করতে চাই; আর এটা যদি অন্যায়ভাবে হয়, আর এতে জনগণ যদি ক্ষেপে ওঠে তাহলে কিন্তু আপনার পজিশন যতটুকু ছিল তা থাকবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি, প্রকাশ্যে মিথ্যাচার। যা হৃদয়টাকে ভেঙে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়েছে।

একজন আলেম মাদরাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার সাদা শুভ্র জামাকে লাল করে দেওয়া হয়েছে। সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। অথচ তাকে নিয়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি (মোতাহার হোসেন তালুকদার) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমরা কিভাবে বলবো ভাষা নেই। তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন যে, ‘আমরা যেটা দেখেছি যে, তার একজন কর্মী পাকঘরে মুরগী জবাই করে সেই রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে ফেইসবুকে ছেড়েছে। এটা আমার মনে হয় যে, আপনারাও (সাংবাদিকরাও) দেখতে পারবেন। গায়ের রক্ত আর মুরগীর রক্ত পার্থক্য আছে। কারণ তাকে তো পাকঘরে পাওয়া গেছে।’ এভাবে উপহাস করা হয়েছে। এক তো অন্যায়ভাবে মেরেছে। আবার এ ধরনের উপহাস করেছে। আমার মনে হয়- আসমানের মালিক তা সহ্য করবেন না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ও অন্য দলের নেতাকর্মীদের সাথেও গত কদিন আমাদের কথা হয়েছে। সবাই ছি! ছি! আর থুথু নিক্ষেপ করছে। সুতরাং সাবধান হয়ে যান। আমরা পেশিশক্তির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। আমরা একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়নে বিশ্বাসী। কিন্তু মনে রাখবেন- আগামীতে যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে তাহলে এর দায়ভার আপনাকে নিতে হবে। শুধু তাই নয়, এর জন্য আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এরপর তারাকান্দার মাওলানা আব্দুল হান্নান বক্তব্য রাখেন। এসময় বিকেএম তারাকান্দা শাখার সভাপতি হাফেজ আব্দুস সবুর খান, ফুলপুর শাখার সভাপতি মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, সহসভাপতি ডা. মাওলানা আজহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিসুর রহমান, খেলাফত মজলিস ফুলপুর শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মতিউর রহমান শেখ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।