ড. মাহমুদ বিন সাঈদ
আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় আব্বা শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম ছাইদুল হক এই মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৮৫ সালে। যেটি বরিশাল বিভাগের প্রথম মহিলা মাদ্রাসা। নারীদের মাঝে ইলমে দ্বীনের প্রসারের অদম্য আগ্রহে প্রতিষ্ঠিত এ মাদরাসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে সেই প্রতিষ্ঠাকাল থেকে। এবছর ২৭ জন মেধাবী মেয়ে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এ যাবত বের হয়েছে ৩১টি ব্যাচ। আলহামদু লিল্লাহ!
এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আব্বার রক্ত ঝড়েছে।জীবনের মধ্য বয়সের হাজার হাজার ঘন্টা তিনি দিয়েছেন এ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও সরকারী অনুদানের পেছনে। কষ্ট করেছেন। কষ্ট পেয়েছেন। কিন্ত তিনি থেমে যাননি। এ মাদরাসার বিদায়ী ছাত্রীদেরকে বিদায় ও নতুনদের বরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন ‘নিছক মাদরাসা নয়, বরং এটি মদীনার ফুল’।
জীবন সায়াহ্নে এসেও তিনি তাঁর বড় সাধের মাদ্রাসার কোনো অনুষ্ঠানে ডাক পেলে হাজির হন। তাঁর এই খেদমত আল্লাহ তাআ’লা সাদকায়ে জারিয়াহ হিসেবে কবুল করুন। মাস্টার নাদের আলী চাচাসহ প্রতিষ্ঠাকালে যাঁরা আমার আব্বাকে সহযোগিতা করেছেন, জমি দান করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই দুনিয়াতে নেই। তাঁদের এবং সেদিনের একজন তরুণ সদস্য হিসেবে এটি প্রতিষ্ঠা এবং টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে আল্লাহ তাআ’লা আমাদের পরিবার ও সকলের খেদমত কবুল করুন। আমাদের পরিবারের বাইরেও কয়েকজন তরুণ শিক্ষক এবং একদল মানুষ ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। তাদের খেদমতও কবুল করুন। আমীন, ইয়া রব্বাল আলামীন!
এ মাদরাসার সুখবরে আমাদের পরিবার পুলকিত, বিমোহিত। এর যেকোন মহৎ উদ্যোগে আমরা শরিক থাকি ও থাকতে চাই। কিন্ত পরিবেশ সবসময় আগ্রহ তৈরি করে না। তবুও ভালো থাকুক সেটাই কামনা। কারণ এ গাছটি এখন আর চারা গাছ নয়। যারা এ গাছ বপনকালে মূলোৎপাটন করতে চেয়েছিল তাঁরাও এখন ফল ভোগ করছে। আমরা তাতেই খুশি। আল্লাহ সকলকে এ মাদরাসার খেদমতে কবুল করুন॥ আমীন!!
* মাওলানা ছাইদুল হক পরিবারের পক্ষ থেকে
তাঁর চতুর্থ পুত্র মাহমুদ বিন সাঈদ ( পিএইচডি, ইউকে)
লন্ডন প্রবাসী।