নূরুল আমিন :
৬ মাস ধরে ভাত না খেয়ে এক বৈচিত্র্যময় জীবন কাটাচ্ছেন ফুলপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল ইসলাম জুয়েল । ছয় মাস আগে দক্ষিণ কোরিয়াতে একটি সরকারি সফরের অভিজ্ঞতা তাঁর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনবোধে নিয়ে এসেছে এক বিপ্লবী মোড়। একসময় বাঙালি হিসেবে যাঁর প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, আজ তিনি সম্পূর্ণভাবে ভাত বাদ দিয়ে ফলমূল, বাদাম ও শাকসবজির ওপর নির্ভর করে সুস্থ জীবন যাপন করছেন।
প্রকৌশলী জুয়েল সাহেবের এই পরিবর্তনের শুরুটা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে। সেখানকার সংস্কৃতি এবং খাদ্যাভ্যাস আমাদের দেশের থেকে অনেকটাই ভিন্ন। দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে কুকুর, শুকর সহ বিভিন্ন প্রাণীর মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেখানকার হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে সাধারণত হালাল খাদ্য সহজলভ্য নয়।
ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে প্রকৌশলী জুয়েল সেখানে খাদ্যের এক চরম সংকটে পড়েন। মাংসের বিষয়ে সতর্ক থাকতে গিয়ে, এবং হোটেলের খাবারগুলোতে হালাল উপাদানের নিশ্চয়তা না পেয়ে, তিনি এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। সফরের সেই দিনগুলোতে তিনি মূলত ভাত এবং রান্না করা অন্যান্য খাবার বাদ দিয়ে ফলমূল, জুস এবং নিরাপদ নিরামিষ খাবারের ওপর নির্ভর করে কাটান। তাঁর কথায়, “সেখানে ভাত না খেয়ে কেবল ফলমূল খেয়েই বেশ কিছুদিন অতিবাহিত করেছি।”
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে দেশে ফেরার পর, প্রকৌশলী জুয়েলের মনে প্রশ্ন জাগে—যদি তিনি এতগুলো দিন শুধু ফলমূল খেয়ে থাকতে পারেন, তবে কেন তিনি এটিকে তাঁর স্থায়ী জীবনধারা হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন না? এই চিন্তা থেকেই তিনি তাঁর খাদ্যাভ্যাসে নিয়ে আসেন এক স্থায়ী বিপ্লব।
গত ছয় মাস ধরে তিনি সম্পূর্ণভাবে ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। তাঁর দৈনিক খাদ্যতালিকায় এখন প্রধান স্থান দখল করে আছে:
ফলমূল: বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফল।
বাদাম: কাজু, কাঠবাদাম, পেস্তা সহ নানা ধরনের পুষ্টিকর বাদাম।

শাকসবজি: কাঁচা সালাদ, হালকা রান্না করা সবজি।
প্রকৌশলী জুয়েল প্রমাণ করেছেন যে ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য হলেও, সুষম পুষ্টির জন্য এটি একমাত্র অবলম্বন নয়। তিনি এখন নিজেকে আগের চেয়েও বেশি চনমনে, সতেজ এবং কর্মক্ষম অনুভব করেন। তাঁর এই পরিবর্তিত জীবনযাত্রা তাঁর সহকর্মী এবং পরিবারকেও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
মোঃ মাহমুদুল ইসলাম জুয়েলের এই ঘটনাটি কেবল একটি খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন নয়, এটি এক ধরনের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতীক। একটি আকস্মিক সরকারি সফরের বাধ্যবাধকতা কীভাবে একজন মানুষের জীবনকে স্থায়ীভাবে স্বাস্থ্যকর পথে চালিত করতে পারে, তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এটি। ফলমূল, বাদাম ও শাকসবজিকে অবলম্বন করে তিনি যে নতুন জীবন শুরু করেছেন, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সুস্থ থাকার জন্য গতানুগতিকতার বাইরে গিয়েও আমরা নতুন এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি।
ফুলপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল ইসলাম জুয়েলের এই বিপ্লবী খাদ্যাভ্যাস শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন হয়ে থাকেনি, বরং এটি তাঁর কর্মস্থল পৌরসভা অফিস এবং তাঁর পরিবার-বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে এক ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
প্রতিদিন দুপুরে অফিসে সবাই যখন টিফিন বা দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন, তখন প্রকৌশলী জুয়েলকে ভাত বা রুটির বদলে কেবল ফল, বাদাম বা কাঁচা সবজির সালাদ খেতে দেখে সহকর্মীরা অনেকেই কৌতূহলী হয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন, “জুয়েল ভাই, ভাত খাওয়া একদম ছেড়ে দিলেন? দুর্বল লাগে না?” বা “শুধু ফল খেয়ে কাজ করছেন কীভাবে?” জুয়েল সাহেব তখন হাসিমুখে দক্ষিণ কোরিয়ার অভিজ্ঞতা এবং তাঁর বর্তমানে অনুভূত অধিক কর্মক্ষমতা ও সতেজতার কথা তুলে ধরেন।
প্রথমদিকে সবাই বিষয়টিকে কেবল ‘ডায়েটিং’ হিসেবে দেখলেও, তাঁর ছয় মাস ধরে এই অভ্যাসে অবিচল থাকা এবং শারীরিক ফিটনেস দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই। বন্ধুবান্ধবদের আড্ডায় এই বিষয়টি এখন মজার আলোচনার বিষয়। কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলেন “কোরিয়াতে গিয়ে জুয়েল সাহেব বাঙালিত্বই ভুলে গেলেন!
* অনলাইন থেকে সংগৃহীত।