মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের আলালপুরে শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটিত মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত ৭ জনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তাদের ওই সহায়তা প্রদান করা হয়। জানা যায়, আলালপুরে নিহত ৭ জনের মধ্যে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৬ জনই ছিলেন ফুলপুরের বাসিন্দা। তারা হলেন- চর আশাবট গ্রামের বড়বাড়ির ব্যবসায়ী আবুল খায়ের মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাবলু (৫১), তার সহধর্মিণী সুমাইয়া জাহান শিলা (৩৭), তার নূরানী পড়ুয়া ছোট ছেলে সাদমান সাকিব (৭), ফুলপুর পৌরসভার দিউ গ্রামের সাহের উদ্দিনের ছেলে ড্রাইভার আল আমিন, সিংহেশ্বরের তালেব হোসেন মন্ডলের ছেলে আব্দুল বারেক মন্ডল (৫৫) ও কুটুরাকান্দা গ্রামের তাহির উদ্দিনের ছেলে ফয়েজ উদ্দিন (৫২)।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী দুর্ঘটনার দিন তাদের মরদেহ পরিদর্শন করেন ও প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই অনুদানের চেক আজ নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম সরেজমিনে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেন ও সান্ত্বনামূলক এ অনুদানের চেক তাদের হাতে তুলে দেন। চর আশাবট গ্রামে বাবলুর বাবা আব্দুল করিম মাস্টার ও তার দ্বিতীয় কন্যা নুসাইবার হাতে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ফুলপুর পৌরসভার সাহাপুর বাজারে সভার দোকানে জিলাপি কিনতে গিয়ে ট্রাকচাপায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তানিশা (২) নামে এক কন্যা শিশুর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। একই পিতার আরেক কন্যা আরিফা (৭) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের অভিভাবক চা দোকানদার আমিনুল ইসলামের হাতেও অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের আলালপুর নামক স্থানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৭ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ফুলপুর উপজেলার ৬ জন এবং অপর এক সড়ক দুর্ঘটনায় সাহাপুর বাজার এলাকায় ১ জন নিহত ও ১ জন আহত হন।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী স্যারের নির্দেশনায় নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে এবং আহত মেয়েটির জন্য ১৫ হাজার টাকা সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়। একইসাথে যে মেয়েটির বাবা মা আজ আর নেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার স্কুলে ভর্তি, বিনা বেতনে পড়াশোনা ও পড়াশোনা করে যেনো নিজে স্বাবলম্বী হতে পারে সে জন্য পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলামের সাথে ফুলপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশীষ কর্মকার, কাউন্সিলর আব্দুল হামিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।