মো. আব্দুল মান্নান :
মরিয়ম (১১) এক অসহায় এতিম মেয়ের নাম। সে তারাকান্দায় আয়েশা খাতুন মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।
তার বাবা মরহুম জাহিদুল আলম ছিলেন কারেন্ট মিস্ত্রি। কারেন্টের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ২০১৭ সনে তিনি মারা যান। এরপর থেকে মা শাপলা বেগমই মরিয়মের সব।
তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের বাগুন্দা গ্রামে। মরিয়মের আর কোন ভাই বোন নেই। এত অল্প বয়সে সে বাবা হারিয়েছে শুধু এখানেই শেষ নয় মরণব্যাধি ক্যানসারেও তাকে আক্রান্ত করেছে। মরিয়ম এখন বড় ঝুঁকিতে আছে। গতকাল মঙ্গলবার (৬ মে) সন্ধ্যায় আমার বাসায় গিয়ে এসব বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মরিয়মের মা। তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি। আমাদের বাইতুন নূর জামে মসজিদ থেকে মুসল্লীদের কিছু টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নিঃস্ব অসহায় মরিয়মের মা শাপলা অর্থাভাবে চাচা শ্বশুরের নিকট তার থাকার আড়াই শতাংশ জমিসহ ঘরটিও বিক্রি করে দিয়েছেন। তার বিশ্বাস মরিয়মকে উন্নত চিকিৎসা দিতে পারলে সে আবারও সুস্থ হয়ে উঠবে। যে কারণে বাড়িঘর বিক্রি করে হলেও চিকিৎসা করাতে চান শাপলা। চাচা শ্বশুরের নিকট সব বিক্রি করে দিলেও তারা এখনো তাকে উচ্ছেদ করে দেয়নি। এখনো ওই ভিটাতেই আছেন।
সর্বস্ব শেষ করে হলেও একমাত্র কন্যা মরিয়মের চিকিৎসা তিনি করবেন এটাই তার প্রতিজ্ঞা। জানা যায়, ১২ মে তিনি মরিয়নকে নিয়ে ভারতে যাবেন। এ ব্যাপারে তিনি সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন।
* রূপক ছবি।