অনলাইন ডেস্ক :
পলাশ সাহার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা বলেছেন যে, আগে যদি বুঝতে পারতাম সত্যি আমার স্বামী আত্যহত্যা করবে তাহলে আমি সারা জীবন শাশুড়ীর গোলাম হয়ে থাকতাম। কারণ, উনি মারা গেছে কিন্তু আমার শাশুড়ীর মা ডাক শুনার মতো আরও সন্তান আছে কিন্তু আমার সন্তানের বাবা ডাকার মত তো আর কেউ থাকলো না।
বিশ্বাস করে এতো জনের হাজারটা কথা শুনেও এতোটা খারাপ লাগেনি কিন্তু এই মেয়েটার একটা কথায় যেনো কলিজাটা কেঁপে উঠলো।
সত্য বলতে কি ইন্টার প্রথমবর্ষে থাকতে তার বিয়ে হয় একজন বিসিএস ক্যাডারের সাথে। বুঝেন বয়সের পর্থক্যটা কত! তাহলে কেমনে তার বাবা বিয়ে দিতেন? বিয়ে দিতে রাজি না হলেও ৩ মাস অপেক্ষা করে ছেলে তার বাবাকে রাজি করিয়ে বিয়ে করেছে। তাহলে বুঝাই যাচ্ছে যে, ছেলেটা তাকে কত ভালবাসতো! কিন্তু মায়ের কারণে সেই সুখটা তারা উপভোগ করতে পারতো না। সে তার ছেলের অহংকারে মাটিতে পা রাখতো না। বউটাকে সারাক্ষণ নাকি কোণঠাসা করে রাখতো। নজরবন্দি করে রাখতো। এটা তো এক রকম মেয়েটার নিজস্বতাকে হরণ করা হয়েছিল। এসবের প্রতিবাদ করতো বলে বউ খারাপ।
ছেলে অফিস থেকে আসলে তার রুমে আটকে রাখতো।
ছেলের শশুড় বাড়ির লোক আসতে পারতো না। সবসময় গরিব বলে অপমান করতো। ছেলে তার সামনে বউয়ের রান্নার প্রশংসা করলে সেই রান্না ছেলের সামনেই ফেলে দিতো। এসব কি রে ভাই! কেমন মা উনি!
যতটুকু শুনলাম, মা নাকি ছেলেকে প্রচুর ভালোবাসতো। সেজন্য এসব করেছে। তাহলে সেই ছেলের চিতার গন্ধ না যেতেই কান ভর্তি স্বর্ণ পড়ে এক থালা ভাত নিজের হাতে খাইতে খাইতে আবার হাত পাখার বাতাস করতে করতে বিভিন্ন চ্যানেলে বউয়ের নামে হাজারটা অভিযোগ করে কিভাবে? এগুলো কি ছেলে হারানোর শোকের মধ্যে পড়ে?
এইদিকে জামাই হারিয়ে শশুড় পাগল প্রায়। বউয়ের কলিজা কেঁপে উঠার মতো কথা। অন্য দিকে জন্মদাতা সেই ভালোবাসার মা বিভিন্নভাবে টিভি চ্যানেলের সামনে স্ট্রংলি সাক্ষাৎকার দিয়ে যাচ্ছেন।
এসব ঘটনা দেখে যদি এরকম টক্সিক শাশুড়ীগুলোর অতিরিক্ত মা ভক্ত ছেলেদের একটু হলেও টনক নড়ে তাহলেই হলো। বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ।
এটা থেকে সবার শিক্ষা নেয়া উচিৎ। যদি জীবনে এরকম বিপদে পড়তে না চান তাহলে শশুড় বাড়িতে ভেবে চিন্তে চলতে ও কথা বলতে হবে। নচেৎ যে কেনো দুর্ঘটনায় ১০০% ক্ষতি ও কষ্ট আপনার হবে। আবার এরকম বউকেও খারাপ বলে বদনাম কুড়াতে হবে। তাই দিদি, ভাই ও বোনেরা সাবধান।
আর বলি কি, শুধু উচ্চ শিক্ষত হলেই হয় না, সবদিক সামাল দেয়ার সামর্থ থাকা চাই।
যে মেয়েকে ৩ মাস অপেক্ষা করে বিয়ে করলেন মায়ের অশান্তি সামাল না দিতে পেরে বা মাকে মুখের উপর দু একটা জবাব দিতে না পেরে বউকে ডিভোর্স না দিয়ে নিজেই নিজের জীবন শেষ করে দিলেন। এটা কেমন হলো? কোন কথা না বলে সেই ছেলে চলে গেলো। এখন না জানি এই মেয়েটার কি হয়।
যারা মাকে মায়ের মতো আর বউকে বউয়ের মতো ট্রিট করতে না পারবেন প্লিজ সেই ছেলেরা বিয়ে করবেন না। আর এভাবে একটা মেয়েকে দোষী করে চলে যাওয়ার থেকে বিয়ে না করে সারা বছর মায়ের আচলের তলে পড়ে মায়ের সেবা করেন। তাতে করে অন্তত এভাবে কিছু মেয়ের জীবন বেঁচে যাবে; নষ্ট হবে না।
মরে গেলেই মহান হয়ে যায় না মানুষ। সব কিছু সামলিয়ে চলাটাই আসল মহানতা।
যাই হোক, আমরা চাই এ ঘটনার সঠিক তদন্ত হোক। আসল ঘটনা ও আসল অপরাধী বের হোক। হোক সেটা মা বা বউ বা অন্য কেউ। যে বা যারা দোষী শাস্তিটা তারাই যেন পায়।