ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৃতি সন্তান এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষিতত্ত্ব (Agronomy) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মির্জা মোবাশ্বেরুল হক অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড (University of Queensland-UQ) থেকে সফলতার সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপের আওতায় তিনি এই উচ্চতর গবেষণা সম্পন্ন করেন। বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ড আন্তর্জাতিক গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃষি বিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সুপরিচিত।
মির্জা মোবাশ্বেরুল হক ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কৈচাপুর ইউনিয়নের রুহি পাগারিয়া গ্রামের মির্জা পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা মির্জা এনামুল হক ধারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং মা নুরুন্নাহার খানম।
তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা ধারা উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও প্রথম মাস্টার্স ডিগ্রি কৃতিত্বের সঙ্গে অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় নেদারল্যান্ডসের বিশ্বখ্যাত ওয়াগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাচ সরকারের মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপের আওতায় দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের School of Agriculture and Food Sustainability-এ পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চিকিৎসক ডা. তাহিয়াত আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের দুই বছর বয়সী একমাত্র পুত্র মির্জা তাহফিজ হক।
পিএইচডি গবেষণা সম্পর্কে মির্জা মোবাশ্বেরুল হক জানান, তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ফসল উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কৃষির অভিযোজন নিয়ে গবেষণা করেছেন। বিশেষ করে Species Distribution Modelling-ভিত্তিক উন্নত কম্পিউটার মডেল ব্যবহার করে কোন অঞ্চলে কোন ফসল সর্বোচ্চ উপযোগী হবে, তা বৈজ্ঞানিকভাবে নিরূপণের ওপর তাঁর গবেষণা কেন্দ্রীভূত ছিল।
তিনি বলেন, এই গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের কৃষি খাতে বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের উপযোগী ফসল নির্বাচন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশে ফিরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত আন্তর্জাতিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা অভিজ্ঞতা কৃষি শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
হালুয়াঘাটের এই কৃতি সন্তানের আন্তর্জাতিক এ অর্জনে পরিবার, সহকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক গবেষণায় এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।