ময়মনসিংহের ফুলপুরে গভীর রাতে জনতার হাতে আটক চার কিশোর দাবি করেছে, তারা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক কিনতে গিয়েছিল। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা চুরির উদ্দেশ্যে এলাকায় প্রবেশ করেছিল।
শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ৩টার দিকে (শনিবার, ১১ জুলাই) ফুলপুর পৌরসভার সাহাপুর সংলগ্ন আনোয়ার খিলা গ্রামের খরিয়া নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে চার কিশোর আটক হলেও রুহুল নামে আরও একজন পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক কিশোরদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হলে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ জড়ো হন। খবর পেয়ে এসআই আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাবেক কাউন্সিলর কছিম উদ্দিন, বিএনপি নেতা উজ্জ্বল হোসেন, আটক কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় আটক কিশোররা মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলে উপস্থিত সূত্র জানায়। তাদের অভিভাবকরাও সন্তানদের মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এলাকায় মোটর, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, মাদকাসক্ত হয়ে অনেক কিশোর নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কথিত মাদক কারবারি মুখলেস এলাকার কিশোর-যুবকদের মাদকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মুখলেস ও তার মেয়ের জামাই শাহীনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সামান্য পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হলেও অন্য কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। অভিযানের আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “মাদকের লেনদেন হতে দেখলে আমাদের দ্রুত জানাবেন। তথ্য দিবেন, আমরা ব্যবস্থা নেব। দেখেও না দেখার ভান করলে সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে না।”
পরে আটক চার কিশোর—নুরু মিয়ার ছেলে জিয়ন, সুমনের ছেলে আসিফ, রজব আলীর ছেলে তানভীর হাসান এবং মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে রুকনকে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।