স্বাধীন বাংলাদেশে সবচেয়ে অবহেলিত শিক্ষাধারা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা। ১৯৮৪ সালে একই সিস্টেমে রেজিস্ট্রার্ড প্রাইমারি স্কুল ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা (আলিয়া মাদরাসার স্বতন্ত্র প্রাথমিক স্তর) চালু হয়। তখন ইবতেদায়ি ও রেজিস্ট্রার্ড স্কুলের শিক্ষকদের সম্মানি ছিল সমান (৫০০ টাকা)। ১৯৯১ সালে ২৬ হাজার রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলগুলোর শিক্ষকদের জাতীয় বেতনস্কেলের আওতায় আনা হয়, কিন্তু দুঃখজনক, ১৮ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার কোনোটিকেই সে বেতনস্কেলের আওতায় আনা হয়নি।
রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তিসহ সুযোগ-সুবিধা পেতে থাকল, ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোর শিক্ষার্থীরা পেল না। প্রতিটি রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল ভবন পেল, মাদরাসাগুলো পেল না। বৈষম্য চলমান থাকল।
২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ২৬ হাজার রেজিস্ট্রার্ড প্রাইমারি স্কুলকে সরকারি করল। মাদরাসাগুলো বেতনস্কেলের আওতায়ই আসল না। ২০১৭ সালে টাস্কফোর্স হলো, নীতিমালা হলো, কিন্তু কিছুই হলো না৷ বছরের পর বছর, এমনকি যুগের পর যুগ অপেক্ষায় থেকে অনেক শিক্ষক সম্পূর্ণ বিনাবেতনে জীবনভর শিক্ষকতা করে অবসরে গেলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা আশা করেছিলাম, প্রথম ধাপেই এ প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিকরণ হবে। হলো না। এমনকি বেতনস্কেলের আওতায় এনে এমপিওভূক্তও হলো না।
তারা আবার নীতিমালা সংশোধন করল। শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নামল। ইন্টেরিম সরকার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে এমপিওভুক্ত করার জন্য ১ হাজার ৯৮টি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করে। কিন্তু হতভাগা ইউনুস সরকার এতটুকু কাজও করে যেতে পারেনি৷
বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা বুক ভরা আশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে এ সমস্যার সমাধান করবে৷ সরকারের ১০০ দিন চলে গেল, কিছুই হলো না৷ ঈদের দিনেও শিক্ষকরা রাস্তায় আন্দোলনে ছিলেন। এভাবেই কি সময় চলে যাবে?
সরকারের প্রতি অনুরোধ, এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করলে ‘জামাতের লোকজনের চাকরি হয়ে যাবে’ মনে করে অবহেলা করবেন না। বরং এখানে আপনার-আমার সন্তানরা পড়ে৷ আপনার-আমার আত্মীয় স্বজনই চাকরি করে। এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে অবহেলিত খাত৷ খুব বেশি টাকাপয়সা লাগবে না।
কাজটি করলেও ক্ষমতার সময় শেষ হবে, না করলেও শেষ হবে৷ এ কাজটি করলে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। আওয়ামী লীগ সরকার ও ইন্টেরিমেরও সুযোগ এসেছিল, তারা কাজটি করার ক্রেডিট নিতে পারেনি। আশা করি দ্রুতই সরকার সমস্যাটির সমাধান করে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকায় সচেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ!
* তথ্য ও ছবি অনলাইন থেকে নেওয়া।