ময়মনসিংহের ফুলপুরের বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেছেন, ভালো নিয়তে কিছু করতে চাইলে আল্লাহ তায়ালা সুযোগ করে দেন। যখনই আমি কোন মানুষকে সহযোগিতা করতে চাইছি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা পৌনে ১টার দিকে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে ফুলপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে উনাকে দেওয়া বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, দুটি ঘটনা আমার কাছে আশ্চর্য লাগতো। এর জন্য আমি আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করেছি। হাদীসেও আছে, আপনারা জানেন যে, সকল কাজের ফলাফল তার নিয়তের উপর নির্ভর করে। ভালো নিয়তে কিছু করতে চাইলে আল্লাহ সুযোগ করে দেয়। একবার রূপসী ইউনিয়নের একজন মহিলার ৩টি বাচ্চা হয়েছিল। পরিবারটি খুবই গরিব। পরে বাচ্চাদের জন্য তারা উপজেলা পরিষদে কিছু সাহায্যের জন্য আসে। আমি তখন বিল্ডিংয়ের নিচে ছিলাম। সাহায্য চাওয়ার পর দিতে মন চাইছিল কিন্তু কোন ফান্ড খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চিন্তা করতেছিলাম যে, কিভাবে এ পরিবারটিকে ভালো একটা সহযোগিতা করা যায়। যদিও তিনটি কম্বল, প্রয়োজনীয় আসবাব, কিছু চাল, এ জাতীয় কিছু বাজার করে দেওয়া হয়েছিল কিন্তু এতে আমার মন ভরছিল না। টেনশান করতেছিলাম যে কিভাবে পরিবারটিকে উল্লেখযোগ্য কিছু দান করা যায়। এরই মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপার ভাইজার সাদেকুল ইসলাম এসেছেন। পরে আমার মনে হলো যে, যাকাত ফান্ডে আমাদের টাকা আছে। ওখান থেকে দেওয়া যায়। পরে ওই পরিবারকে আমরা ২০ হাজার টাকা দান করেছিলাম। এরকম আরেকটি ঘটনা। আপনারা জানেন, প্রায় প্রত্যেক ঈদেই ভিজিএফ কার্ড যে পরিমাণ থাকে এর চেয়ে আরও অনেক বেশি লোক এসে ভীড় করে। এগুলো আমাদের ম্যানেজ করতে হয়। একবার খুব চিন্তিত ছিলাম কারণ, অনেক অতিরিক্ত লোক এসে ভীড় করছিল। উনাদেরকে কি দিয়ে বিদায় দিব? তারা কিভাবে ঈদ করবে? এমন টেনশন করতে করতে হঠাৎ একটা ফোন আসে। বলা হয় যে, স্যার, রামভদ্রপুরে কিছু ভিজিএফ চাল আটক করা হয়েছে। আপনি একটু দ্রুত আসেন। পরে থানায় ফোন দিয়ে কয়েকজন পুলিশ নিয়ে দ্রুত গেলাম ঘটনাস্থলে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেদিন ১৪০ বস্তা চাল উদ্ধার করি এবং ওই চালগুলো এনে তাদেরকে বিদায় করি। ওই সময়ও আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম এবং আল্লাহর প্রতি আমি শোকরিয়া আদায় করেছি। দেখা গেছে- ভালো নিয়ত নিয়ে যখনই আমি কোন মানুষকে সহযোগিতা করতে চাইছি আল্লাহ আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন। এজন্য আল্লাহর প্রতি আমি শোকরিয়া আদায় করি। এরপর তিনি বলেন- আপনারা এখানে যে কয়জন কথা বলেছেন সবাই কিন্তু ফুলপুরকে ভালোবাসেন। আপনাদের ফুলপুরে যখন কোন একটা ভালো কাজ হয়, আপনারা এই যে আমাকে প্রশংসা করলেন সেটা হচ্ছে এখানে যদি আমার কোন কনট্রিবিউশন থেকে থাকে, সেটার জন্য আপনারা আমার প্রশংসা করেছেন। তার মানে কি? আপনারা ফুলপুরের ভালো চান। ফুলপুরে যদি ভালো একটা কিছু হয় আপনাদের ভালো লাগে। ফুলপুরের একটা উন্নয়ন হলে আপনাদের ভালো লাগে, এই ভালো লাগাটা হচ্ছে আপনাদের দেশপ্রেম। আর আমার দেশপ্রেম হচ্ছে আমি যেহেতু একটা সার্ভিসে আছি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছেন তাই একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমি দেশের যেখানে যেখানে কাজ করি সেই উপজেলার বা সেই জায়গার ভালো চাওয়া, সেই জায়গার মানুষের জন্য ভালো কাজ করা। এটাই হচ্ছে আমার দেশপ্রেম।

তিনি আরও বলেন, কিছু খারাপ মানুষ যারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাজে কথা বা মিথ্যা কথা বলে, মিথ্যা নিউজ যারা করছে বা করতেছে এগুলো নিয়ে আসলে আমার একটুও মন খারাপ হয় না। কেন হয় না? একটা খারাপ নিউজ দেখে যখন আমি মন খারাপ করব ওই নিউজটা করার ২ মিনিটের মাথায় দেখি যে আমাকে নিয়ে আরও ৫ জন মানুষ ভালো কথা লিখছে। যারা আমার সম্পর্কে লিখে তারা নিজ উদ্যোগে লিখতেছে। তারা আমার সম্বন্ধে এত ভালো লিখছে যে, এটা আমার জন্য একটা সৌভাগ্যের বিষয়। এছাড়াও তিনি আরও বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১৩ মিনিট বক্তৃতা করেন। সবশেষে ফুলপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায়ী ইউএনওকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ফুলপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি সাংবাদিক নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় ও কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুল মান্নানের কুরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিদায়ী ইউএনওর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শিহাব উদ্দিন খান, ফুলপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবীর মুকুল (দি নিউ নেশন), মোঃ আব্দুস সাত্তার (দিনকাল), সিদ্দিকুর রহমান (আমার দেশ), মোঃ আব্দুল মান্নান, (রূপালী বাংলাদেশ), মোঃ মোস্তফা খান, (কালের কন্ঠ), শাহ নাফিউল্লাহ সৈকত (যায়যায়দিন), মোঃ কামরুল ইসলাম খান (একুশে সংবাদ), রাকিবুল ইসলাম মাহফুজ (দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি), ফায়াজুস সালেহীন অপূর্ব (দৈনিক জনতা), মোফাজ্জল হক মনু (সাপ্তাহিক ফুলপুর) প্রমুখ।