বাবাকে হত্যার ঘটনায় বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তারা নিজেদের জবানবন্দিতে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর দুই ভাইয়ের একজন খালেক বলেন, “আমার বাবাকে তারা ১৫ জন মিলে মেরেছে, আর আমরা দুই ভাই মিলে তাদের একজনকে মেরেছি।” তাঁর দাবি, বাবাকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের একজনকে তারা প্রতিশোধ হিসেবে হত্যা করেছেন।
খালেক আরও বলেন, “আমার মিশন এখনো শেষ হয়নি। আমি যদি জেল থেকে বের হয়ে আসতে পারি, তাহলে বাকিদের ওপরও শনি আছে।” তাঁর এমন বক্তব্যকে ঘিরে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অতীতে খালেকের বাবাকে ১৫ জন মিলে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও আগের হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের বিষয়।
ঘটনার পর দুই ভাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং নিজেদের বক্তব্যে বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা জানান। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই খালেক ও তাঁর ভাইয়ের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছেন এবং দাবি করছেন, পরিবারটি যথাযথ বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ থেকেই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ওপর অন্যায় হলেও তার প্রতিকার হতে হবে প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে। একজন হত্যার শিকার হলে প্রতিশোধ হিসেবে আরেকজনকে হত্যা করা কোনোভাবেই আইনি বিচার প্রতিষ্ঠা করে না; বরং এতে সহিংসতার চক্র আরও দীর্ঘ হয়।
বাবা হত্যার বিচার চাওয়া একজন সন্তানের ন্যায্য অধিকার। কিন্তু সেই বিচারের দায়িত্ব ব্যক্তির হাতে নয়, রাষ্ট্র ও আদালতের। বিচার পেতে বিলম্ব বা ব্যর্থতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের পথ বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হতে পারে এমন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান।
প্রতিশোধ নয়—ন্যায়বিচারই হোক শেষ কথা।