ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার ৮নং নড়াইল ইউনিয়নের কিসমত নড়াইল গ্রামের মরহুম ইমাম হোসেন মাস্টারের ছেলে মোঃ সিরাজুল ইসলাম আর নেই। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে কিসমত নড়াইলসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সিরাজুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক, বিনয়ী, সদালাপী ও সমাজবান্ধব একজন মানুষ। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল গভীর আত্মিক সম্পর্ক। কারও বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া ছিল তাঁর স্বভাবের অংশ।
ক্বারী নূর হুসাইন (রহ.) প্রতিষ্ঠিত কিসমত নড়াইল কেরাতিয়া নূরানিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা—বর্তমানে কিসমত নড়াইল মহিলা মাদরাসা হিসেবে পরিচিত—সংলগ্ন মসজিদ কমিটির দীর্ঘদিনের সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে তাঁর ছিল নিবিড় সম্পর্ক। একই সঙ্গে তিনি নড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
৮নং নড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম সম্পর্কে যথার্থই বলেছেন। তিনি বলেন, “সিরাজুল ভাই অত্যন্ত ধার্মিক, অমায়িক, সদালাপী ও সামাজিক একজন মানুষ ছিলেন। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিলেমিশে চলাই ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।”
চেয়ারম্যানের এই মূল্যায়ন যেন সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিত্বেরই প্রতিচ্ছবি। তিনি শুধু একজন সামাজিক মানুষ ছিলেন না, ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও মিশুক স্বভাবের একজন আদর্শ ব্যক্তি। পথে-ঘাটে দেখা হলে ছোট-বড় সবার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও স্নেহের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। তাঁর আচরণে কখনো অহংকারের ছাপ দেখা যেত না; বরং বয়স ও মর্যাদায় বড় হয়েও ছোটদের প্রতি এমন বিনয় ও নম্রতা প্রদর্শন করতেন, যা তাঁকে অন্যদের কাছে আরও সম্মানিত করে তুলেছিল।
তাঁর সঙ্গে যাঁদের দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে কিংবা কোনো প্রয়োজনে পাশে পেয়েছেন—তাঁদের স্মৃতিতে তাঁর অমায়িক ব্যবহার ও আন্তরিকতার কথা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে। একজন মানুষের প্রকৃত বড়ত্ব যে পদ-পদবি কিংবা অর্থ-সম্পদে নয়, বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, বিনয়, সহমর্মিতা ও মানবিকতায়—সিরাজুল ইসলাম তাঁর জীবনাচরণ দিয়ে সেটিই যেন প্রমাণ করে গেছেন।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর সুন্দর ব্যবহার, সামাজিক ভূমিকা, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার স্মৃতি কিসমত নড়াইলের মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা মরহুম মোঃ সিরাজুল ইসলামকে ক্ষমা করে তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিক এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের আলা মাকাম দান করুক। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এ অপূরণীয় শোক সইবার তাওফীক দান করুক।