• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
Headline
ময়মনসিংহ-১ আসনের এমপি রুবেলের রত্নগর্ভা মা আর নেই, জানাজা মঙ্গলবার ফুলপুর থেকে ওয়ালটনের টিভি কিনে ৫০ হাজার টাকা সুরক্ষা সহায়তা পেলেন ধোবাউড়ার শিল্পী খাতুন ফুলপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ব্যক্তির ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ফুলপুরে দুস্থদের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ আমার উস্তাদ মাওলানা মাছুম বিল্লাহ হুজুর আর নেই উদ্দেশ্য মহৎ কিন্তু পদ্ধতি ভুল — ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ‘আমি তো কোনোদিন স্বপ্নও দেখিনি, আমি একজন সংসদ সদস্য হবো’ ফুলপুরে মসজিদের ইমামকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত কাউসার আটক ফুলপুরে বাশুয়া কবিরপুর মাদরাসায় ইকরা বোর্ডের ৪৫ দিনব্যাপী নূরানী মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণ শুরু ১০ অক্টোবর মিরাছ শুধু সম্পত্তি ভাগের বিষয় নয়; এটি আমানত

ফুলপুর পৌরসভায় সর্বোচ্চ হোল্ডিং করদাতা ৯ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠাকে পুরষ্কার প্রদান

মোঃ আব্দুল মান্নান / ৮৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নিয়মিত ও সর্বোচ্চ হোল্ডিং কর পরিশোধকারী ৬ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। নাগরিকদের কর প্রদানে উৎসাহিত করা এবং পৌরসভার রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ফুলপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধনা ত্রিপুরা।

ফুলপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং একাডেমিক সুপারভাইজার পরিতোষ সূত্রধরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ফুলপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ কে এম সিরাজুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক নূরুল আমিন, সাবেক কাউন্সিলর কছিম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সানোয়ার হোসেন খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রকিবুল হাসান সোহেল, উপজেলা জামায়াতের আমীর (ভারপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন মাস্টার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফুলপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুফতী আজীমুদ্দীন শাহ জামালী, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মোস্তফা ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কুদরত আলী প্রমুখ।


অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, তিনটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ করদাতাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সর্বোচ্চ নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধকারী হিসেবে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন এ কে এম হাসেম সরকার (মৃত)। তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন উনার  ভাতিজা ও পৌর বিএনপি নেতা রকিবুল হাসান সোহেল। দ্বিতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন মোহাম্মদ সাবজাল খান এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন হারুন অর রশিদ।


দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বকেয়াসহ সর্বোচ্চ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধকারী তিন ব্যক্তির মধ্যে প্রথম হয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল মতিন মতির সহধর্মিণী আঁখি নূর রিনা। তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন বড় ছেলে মুনয়েম শাহরিয়ার হৃদিক। দ্বিতীয় হয়েছেন বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী এ কে এম সিরাজুল হক এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন জাহানারা ফেরদৌস।
তৃতীয় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ হোল্ডিং করদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথম হয়েছে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দ্বিতীয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং তৃতীয় হয়েছে উপজেলা খাদ্য গুদাম। অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা এ কে এম সিরাজুল হক বলেন, ব্যক্তি পর্যায়ে পৌরসভায় পুরস্কার পাওয়া ছয়জনের মধ্যে চারজনই তাঁদের বংশধর। তিনি বলেন, নাগরিকরা সর্বোচ্চ কর দেবেন, অথচ প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন না—এটা হতে পারে না।

সর্বোচ্চ করদাতা হারুন অর রশিদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ কর দিয়েও তিনি কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাঁর বাসায় যাওয়ার রাস্তাটিও এখনো নির্মাণ করা হয়নি। এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের জন্য পৌর প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি পৌরসভার সেবার মান আরও বাড়ানোর দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধনা ত্রিপুরা বলেন, সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলামকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, সরকার মানে শুধু প্রশাসন নয়—সরকারের অংশ আমরা সবাই। সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করলে রাষ্ট্রও নাগরিকদের জন্য আরও উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ পাবে।


তিনি আরও বলেন, আজকের এ সফলতার পেছনে পুরস্কারপ্রাপ্ত করদাতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁদের দায়িত্বশীলতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, ফুলপুর পৌরসভায় এবার সর্বোচ্চ পরিমাণ কর আদায় হয়েছে। এক কোটি টাকারও বেশি কর আদায় করা হয়েছে, যা পৌরসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন।
কীভাবে এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পৌরবাসীর জন্য কাজ করা হয়েছে বলেই তাঁরা কর পরিশোধে আগ্রহী হয়েছেন। নাগরিকদের জন্য উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে; কর আদায়ে এর প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি বলেন, পৌরসভা পরিচালনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে তাঁরা পৌরসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে বর্তমান কার্যক্রম তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, নাগরিকরা যদি পৌরসভার উন্নয়নে সহযোগিতা করেন এবং নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, তাহলে পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। এ সময় তিনি পৌরসভায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন।


ফুলপুর পৌরসভার এ উদ্যোগ আসলে নিছক কোন পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান নয়; এটি নাগরিক দায়িত্ব ও পৌরসেবার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনে আনার একটি ইতিবাচক প্রয়াস। নাগরিকরা নিয়মিত কর দেবেন—এটা যেমন প্রত্যাশিত, তেমনি সেই করের বিনিময়ে দৃশ্যমান ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাও পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ফলে সর্বোচ্চ করদাতাদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের উত্থাপিত সেবাবঞ্চনার অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কর আদায় বাড়ানোর এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিকবান্ধব সেবাই হতে পারে ফুলপুর পৌরসভার আগামী দিনের মূল চাবিকাঠি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা