ঢাকা থেকে আগত ২২০ জনের খাওয়াস জামাতের সাথী মেরাজনগর এলাকার বাসিন্দা মাওলানা ইসহাক আহমাদ বলেন, সাধারণ মানুষের সাথে উলামায়ে কেরামের সম্পর্ক বাড়াতে হবে। উলামায়ে কেরামের সংস্পর্শ না পাওয়ায় তাদের আমল সহীহ হচ্ছে না। তিন চিল্লা লাগানোর পরও সূরা শুদ্ধ হয়নি; আগের মতই রয়ে গেছে। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাদ মাগরিব ময়মনসিংহের ফুলপুর মার্কাজ মসজিদে বাদ মাগরিব ঈমানি মুজাকারার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন- আজ এখনো মানুষ উলামায়ে কেরামকে মহব্বত করে। চা স্টলে গেলে মানুষ সীট ছেড়ে বসতে দেয়। বলে যে, এই হুজুর আইছে, চা টা ভালোভাবে বানিয়ে দিও। এটা আকাবেরীনদের অবদান। তাবলীগের অবদান।
সাধারণ মানুষ তাবলীগে গিয়ে এখন বুঝতে পারছে যে, সে তার ভাইয়ের হক মারছে; বোনের হক মারছে। এর আগে যে বোনের হক ঠকাইছে এটা সে বুঝতেই পারেনি। এজন্য আমাদের অবসর সময়টা আওয়ামদের জন্য দিতে হবে। বাদ আসর ছাত্রদেরকে পুরা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলবে। সাহস বাড়বে। দাওয়াত দেওয়া শিখবে। মানুষও তাদেরকে মহব্বত করবে। চা খাওয়াবে। আদর করবে। এতে আলেম উলামা ও পাবলিকের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৫০০ আলেম সাল লাগাইতেছেন। আফসোস, প্রতি বছর বহু জামাত বের হচ্ছে। জামাত ঘুরে ঘুরে আসতেছে কিন্তু তেমন কোন তরক্কি হচ্ছে না। তাদের সূরা আগের মতই রয়ে গেছে। কারণ, জামাতে আলেম দেওয়া যাচ্ছে না। এজন্য উলামায়ে কেরামের সময় লাগানো বহুত প্রয়োজন। উলামায়ে কেরাম না থাকায় জামাত যেভাবে গেছে ওই অবস্থায় ফিরে আসতেছে। তেমন পরিবর্তন আসছে না।
মুরুব্বি বলেন, চিটাগাংয়ের কিছু এলাকা এমন আছে যে, আজানের পর হাত উঠিয়ে মুনাজাত করতে হবে। তা নাহলে ইমাম সাহেবের চাকরি থাকবে না। এসব বিদআত একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এগুলো উঠাতে হলে উলামায়ে কেরামকে সময় দিতে হবে।
কওমে আ’দ, কওমে সামূদ, কওমে লূতের বয়ান যে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কারীমে এনেছেন এগুলো বাস্তবে সফরে গিয়ে দেখে আসতে হবে। এদের যে কী অবস্থা হয়েছে, কী ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে এগুলো সফর করে দেখতে হবে। তাহলে একীন বাড়বে। একীনের সাথে দাওয়াত দেওয়া যাবে।
নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তায়ালা মে’রাজে নিয়ে জান্নাত জাহান্নাম দেখায়ে আনছেন। ফিলিস্তিন জর্ডান এগুলো আপনি সচক্ষে দেখে আসুন। কুরআনের আয়াতে কোথায় কি ঘটনা ঘটার বর্ণনা রয়েছে সেগুলো দেখে আসুন। তাহলে আপনার বয়ানে সাধারণ মানুষের উপর আলাদা প্রভাব পড়বে।
শুনলাম, আপনাদের ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি একজন আলেম। দলের সভাপতিও একজন আলেম। শুনে খুশি হলাম। এগুলো আল্লাহ তায়ালার নিয়ামত।
তিনি বলেন, ইলেমের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদেরকে তরবিয়ত শিক্ষা দিতে হবে। মোবাইল এখন একটা মারাত্মক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর দ্বারা বাতিল দিন দিন আগাইতেছে। আমরা যদি মেহনত না করি, তাহলে এগুলো আরও বাড়বে। এসব কমাতে হলে উলামাদের সাথে সাধারণ পাবলিকের সম্পর্ক বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষ উলামায়ে কেরামের কাছে আসে না। আসে শুধু তালাকের মাসআলা জানতে। লোনের মাসআলা জানতে আসে না। তিনি বলেন, তাবলীগের কাজ ব্যাপকভাবে চালু হলে মাদরাসায় ছাত্র বাড়বে। সবশেষে মেহমান বলেন, নবী আর আসবেন না। নবীওয়ালা জিম্মাদারি আমাদেরকে নিতে হবে।