কর আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন সংশোধনী, বিধিমালা ও অর্থ আইনের কারণে করসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনজীবী, হিসাববিদ, ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার, শিক্ষার্থী এমনকি সাধারণ করদাতাদেরও হালনাগাদ তথ্যের প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজন থেকেই কর অঞ্চল দিনাজপুরের বর্তমান কর কমিশনার মোঃ হাফিজ আল আসাদ সংকলন করেছেন ‘আয়কর আইন, ২০২৩’-এর ৮ম সংস্করণ, যা আগামী ২২ জুলাই ২০২৬ বাজারে আসছে।
প্রকাশনা সূত্রে জানা গেছে, বইটিতে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ‘আয়কর আইন, ২০২৩’-এর সব সংশোধনী সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে অর্থ আইন, ২০২৬-এর ব্যাখ্যাসহ সংক্ষিপ্তসার, উৎসে কর বিধিমালা, ২০২৬, আয়কর রিটার্ন অডিট নির্দেশনা, ২০২৫, দানকর আইন, ১৯৯০, আয়কর ও ফি জমাদানের কোড এবং ২০১২–১৩ থেকে ২০২৬–২৭ করবর্ষ পর্যন্ত করহার ও প্রয়োজনীয় তথ্য। ফলে করসংক্রান্ত নানা বিষয়ে একটি বই থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
সংকলক মোঃ হাফিজ আল আসাদ জানান, কর প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে মাঠপর্যায়ে কাজ করা কর্মকর্তা, কর আইনজীবী, ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি হালনাগাদ, সহজে ব্যবহারযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স গ্রন্থের প্রয়োজন রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই বইটি প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, আয়কর কর্মকর্তা, কর আইনজীবী, সিএ, সিএমএ, হিসাববিদ, এলএলবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি কার্যকর সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
পেশাগত জীবনে হাফিজ আল আসাদ ২১তম বিসিএসের মাধ্যমে কর ক্যাডারে যোগ দেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলে (সিআইসি) উপমহাপরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে দ্বিতীয় সচিব (আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মতামত) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া কর নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তিনি সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে জাপানের কিউশু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনসুরেন্স বিভাগ থেকে মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট (এমটিএম) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দফতর এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত আয়কর বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন পরিচালিত মাস্টার অব অ্যাকাউন্টেন্সি ইন ট্যাকসেশন (ম্যাট) কোর্সে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতিফলন এই গ্রন্থে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলার উত্তর জগন্নাথকাঠী গ্রামের সন্তান হাফিজ আল আসাদ আব্দুল মজিদ ও হালিমা খাতুনের পুত্র। কর্মজীবনে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পাশাপাশি করশিক্ষা বিস্তারে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
কর আইনকে সহজভাবে বুঝতে এবং সর্বশেষ সংশোধনী সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা পেতে আগ্রহী পাঠকদের জন্য ‘আয়কর আইন, ২০২৩’ (৮ম সংস্করণ) হতে পারে একটি মূল্যবান সংযোজন। বইটি সম্পর্কে আরও জানতে কর আইনজীবী সাজ্জাদ রহমানের সঙ্গে ০১৬২৯-৯২৪৮৪৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।