মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পল্লী বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের প্রতিবাদে হালুয়াঘাট পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আজ সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ‘দেশের কৃষি ও কৃষক ভাল থাকলে ভাল থাকবে দেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। হালুয়াঘাটে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৬২ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তারা সারাদিনে ১-২ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ পান না বলে অভিযোগ করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও কৃষক আবু রাশেদ শাহজালাল, সিরাজ উদ্দিন, আবুল কাশেম ফজলুল হক, রেজাউল করিম, তানভীর আহমদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে কৃষকরা বলেন, আমরা মাত্র ৫-৬ ঘন্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও বিদ্যুৎ অফিস এতে রাজি হয়নি। তারা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জানতে চান, সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিলেও আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না কেন? ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পাই না আমরা।
তারা আরও বলেন, আমরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের ফসল যদি না হয় তাহলে আমরা কি করে খাবো? এসময় একজন মুরুব্বি কৃষক উর্ধতন কর্মকর্তাকে লোড শেডিং দেখার জন্য সরেজমিন পরিদর্শনের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এরপরও আমলে নেননি আমাদের কৃষকদের অভিযোগ। পল্লী বিদ্যুতের হালুয়াঘাট জোনাল অফিসের জোনাল ম্যানেজার নুরুল হুদার নিকট জানালে তিনি বলেন আমরা চাহিদা মুতাবেক বিদ্যুৎ না পেলে আপনাদের দিব কোথা থেকে? পরে তার নিকট থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে জিএমের মোবাইল নাম্বারে মোবাইল করলেও কোন সুষ্ঠু সূরাহা তারা পাননি।
আরেকজন কৃষক বলেন, আমার ক্ষেত এখন অনেকটাই খারাপ। আমাদের মত কৃষক যারা রয়েছেন তাদের এখন মাথায় হাত! এসময় ওই কৃষক এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আরেকজন কৃষক বলেন, আমাদের ফসল করতে হয় সেচের মাধ্যমে আর সেচের জন্য দরকার কারেন্ট। কারেন্ট ছাড়া সেচ মেশিন চালানো সম্ভব নয়। আবাদি জমিগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
এসময় আরেকজন কৃষক বিদ্যুৎ বিভাগকে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিদ্যুৎ না দিলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবো। এমনকি কৃষকরা বিদ্যুৎ অফিস ভেঙে ফেলতে পারে বলেও ওই কৃষক হুশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ -এর এজিএম মো. ইমরান হোসেন বলেন, চাহিদা মুতাবেক বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি না। কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় গ্রাহকদেরকে আমরা সন্তোষজনকভাবে বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। প্রতিদিন আমাদের যেখানে দরকার ২০-২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সেখানে আমরা পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এছাড়া বিদ্যুৎ বিষয়ে তিনি আরও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
বিষয়টি দেখার জন্য কৃষকরা এসময় বিদ্যুতের উর্ধতন কর্মকর্তাসহ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।