মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় এমপি হেনস্থার অভিযোগসহ গুরুতর আহত ২ জন। পাল্টাপাল্টি মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ ফুলপুরে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এরপর যথারীতি অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে তিনি তারাকান্দায় যান। তারাকান্দায় অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য উপজেলা হলরুমে যাওয়ার পথে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এছাড়া তার ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনার পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা কার্যালয়ে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ অভিযোগের আঙুল তুলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদার ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের উপর। তিনি বলেন, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী শুভ নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে আমার নিজ সংসদীয় আসনে আমি এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে শুভ নববর্ষ উদযাপনে তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসন প্রধান অতিথি হিসেবে দাওয়াত দেয়। পরে আমি আমার নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলা হলরুমে যাওয়ার পথে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে তার সমর্থক নেতাকর্মীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর করে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেইসাথে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে এ হামলার ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান।
এরপর বিকাল ৪টার দিকে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর নেতৃত্বে তারাকান্দায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলের পর নেতাকর্মীরা ঘরে ফেরার সময় তাদের উপর পুনরায় হামলা করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ হাদী (বাচ্চু) ও যুবদলের রিয়াদ নামে একজন এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর লোকদের রক্ষা করতে গেলে তিনিও গুরুতর আহত হন। তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর হালকা আঘাতপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে ফুলপুরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের পক্ষ থেকে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ সংবাদ সম্মেলন করার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১০ মিনিটের বেশি সময় বক্তব্য দেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারাকান্দায় বৈশাখের অনুষ্ঠানে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা কারো সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে নাই। তারাকান্দা স্কুল থেকে আসা মেয়েদের র্যালির ভিতর দিয়ে একজন উগ্র লোকের ঠেলে যাওয়া নিয়ে ছেলেদের সাথে কথা কাটাকাটি শুরু হলে আমি নিজে গিয়ে থামিয়ে দেই। পরে এমপি মহোদয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যে কোন কারচুপির কাছে আমি পরাজিত হয়েছি। পরাজিত হওয়ার কারণে জনগণ ও প্রশাসনসহ সাধারণ মানুষের একটা সিমপ্যাথী আমার দিকে থাকার কথা কিন্তু এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ আমাকে এ এলাকা থেকে দূরে রাখতে চায়। আমি এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে আছি। পাশাপাশি আমি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত হয়েছি। এসময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে রাস্তা, স্কুল কলেজ ও অন্যান্য কাজ আনার বিষয়ে বক্তব্য দেন। মুহাম্মাদুল্লাহ কেমনে এমপি হয়েছেন এর বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, মুহাম্মাদুল্লাহ নারী ভোটারদেরকে বেহেশতের টিকেট দিয়ে ম্যানেজ করে এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্য দিয়ে সূক্ষ্ম কারচুপি করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারি দল করি বলে আমরা কি এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে পারবো না? আমরা এই এলাকার মানুষের নিরাপত্তা বিধান করতে চাই। শুধু মুহাম্মাদুল্লাহ নয় মুহাম্মাদুল্লাহসহ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা আমরা বিধান করতে চাই। এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা ফুলপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৩৬ কোটি টাকার বরাদ্দ নিয়ে এসেছি। এখন উনি বলেন এগুলো উনি নিয়ে এসেছেন। সাংবাদিকরা পজিটিভ নিউজ করলে এগুলো নিয়ে এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ ও তার নেতাকর্মীরা ট্রল করে। এসকল কারণে মুহাম্মাদুল্লাহ ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে প্রত্যেকটা জায়গায় পরিবেশটাকে ঘোলাটে করছেন। এটা তার একটা ষড়যন্ত্র। নির্বাচনে বেহেশতের টিকেট বিক্রি করে সে নির্বাচিত হয়েছে। এখন জনগণের তার প্রতি কোন আগ্রহ নেই। আমরা যেহেতু সরকারে আছি, এজন্য আমরা সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন করতে চাই। আমরা কাউকে খাটো করতে চাই না, ছোট করতে চাই না। কিন্তু বার বার যদি আমাকে কেউ ছোট করে খাটো করে তখন আমাদের নেতাকর্মীদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাবে। এজন্য আমি মুহাম্মাদুল্লাহসহ তার নেতাকর্মীদের অনুরোধ করবো- আপনারা এমপি হয়েছেন ভালো কথা। আপনারা জনগণকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত থাকেন। আমরা উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত আছি। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি চাই না- কোন সাংবাদিক ভাই মুহাম্মাদুল্লাহর দল ভারি করে মুহাম্মাদুল্লাহকে ভিন্নপথে পরিচালিত করুক। এটা আমি চাই না। বক্তব্যের শেষের দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তারা আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে নানা কথা বলেন। এমন উস্কানিমূলক কথা বলেন যে, এগুলো যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমলে নেন তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে।