মোঃ আব্দুল মান্নান :
পহেলা বৈশাখে (১৪ এপ্রিল) ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে হেনস্থা ও তার দলীয় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১টার দিকে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ১৪৭, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের নির্বাচিত এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ। তিনি বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে সে (মোতাহার হোসেন তালুকদার) যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সে বাধা হয়ে দাঁড়ালে, আমাদের লোকজন তাদের লোকজন মিলে যদি বাধা-প্রতিবাধা সৃষ্টি করে তাহলে মারামারি হবে। সমাজ অসুন্দর হবে। এছাড়া কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হবে। কাজ করার পরিবেশ যাতে নষ্ট না করে এজন্য আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে তাকে (মোতাহার হোসেন তালুকদারকে) এ সংবাদটা দিতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের প্রত্যক্ষ ও স্বচ্ছ ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু উনি (মোতাহার হোসেন তালুকদার) আমাকে অকার্যকর করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি কোন প্রোগ্রাম বা কাজ আসলে সে আওয়াজ পেলেই তার লোকজন নিয়ে আগেই উদ্বোধন শুরু করে দেয়। না ওখানে আমি আছি, না কোন সরকারি কর্মকর্তা আছে। এসব কাজ পরিবেশ নষ্ট করে। সৌন্দর্যতা নষ্ট করে। বিভ্রান্তি ছড়ায়। আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে তাকে ও সবাইকে এ সংবাদটুকু দিতে চাই যে, সরকারি রোল যেটা আছে, সরকারি নিয়মনীতি যেটা আছে আমি যেন সে অনুযায়ী সুন্দরভাবে আমার কাজগুলো করতে পারি, জনগণ আমাকে যে কারণে ভোট দিয়েছে আমি যেন তাদের সে আশা পূরণ করতে পারি, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারি। এ ব্যাপারে সে যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। আমি বিএনপি এবং আরও যারা আছে সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই। জনগণ যেভাবে ভোট দিয়ে আমাকে পাস করিয়েছে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আমি যেন আমার কাজগুলো করতে পারি। সে যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সে বাধা হয়ে দাঁড়ালে, আমাদের লোকজন তাদের লোকজন মিলে যদি বাধা-প্রতিবাধা সৃষ্টি করে তাহলে মারামারি হবে। সমাজ অসুন্দর হবে। এছাড়া কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হবে। কাজ করার পরিবেশ যাতে নষ্ট না করে এজন্য আপনাদের মাধ্যমে তাকে (মোতাহার হোসেন তালুকদারকে) এ সংবাদটা দিতে চাই।
এসময় এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ তার সংসদীয় আসন ফুলপুর তারাকান্দাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ঘাবড়াবেন না এবং হাল ছাড়বেন না। যেভাবে আপনারা হাজারো প্রতিবন্ধকতার মধ্যে ভোট দিয়ে আমাকে পাস করিয়েছেন এ সরকার যদি ৫ বছর ক্ষমতায় থাকে আমিও আপনাদের পাশে থাকবো। আপনাদের সুখদুঃখের কথা শুনবো। আপনাদের উন্নয়নে কাজ করবো। আপনারা ঘাবড়াবেন না। এটা আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। উনি দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেছেন কিন্তু নির্বাচনে পাস করতে পারেননি। আমি অল্পদিন কাজ করেই এমপি হয়ে গেছি। এখন এটা উনার কষ্টের কারণ হয়ে গেছে। আমি এত অল্প সময়ে এমপি হয়ে গেলাম, এটা উনি সহ্য করতে পারছেন না। আমার প্রতি উনার মধ্যে এমন একটা ভাব যে, সে এমপিগিরি কিভাবে করে আমি দেখায়ে দিব। কাগজে কলমে এমপি হলে উনি সংসদে গিয়ে এমপিগিরি করুক। উনাকে এলাকায় ঢুকতে দিব না। প্রতিহিংসা ও শক্তিমত্ত্বা প্রদর্শনের লক্ষ্যে তিনি এরকম একটা ভাব প্রদর্শন করে যাচ্ছেন।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আমি উপরে কথা বলেছি। আমাদের আমীরের সাথে কথা হয়েছে। এখনো ঢাকায় যাইনি। ঢাকায় গিয়ে যা করার উনাদের সাথে পরামর্শ করেই করবো। এ বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখে রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে গেলে মোতাহারের লোকেরা আমাকে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এরপর কিছু লোক আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। আর আমার নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু লোক এসময় পিছনে পড়ে গেলে তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এর প্রতিবাদে বিকাল পৌনে ৪টার দিকে আমরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করি। মিছিলশেষে বাড়ি ফেরার সময় আমাদের লোকজন যখন ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছিল তখন তারা অতর্কিত হামলা করে ১০-১৫ জনকে আহত করে। আমাদের হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ হাদী (বাচ্চু) নামে একজন মারাত্মক আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া তাদের বিএনপির অন্য গ্রুপের যুবদলের রিয়াদ নামে একজন আমাদের লোকজনকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মেরে মারাত্মক আহত করা হয়। সেও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ আরও বলেন, হুমকি ধামকি আগে থেকেই ছিল কিন্তু এভাবে সরাসরি আক্রমণ আগে আর করেনি। এখন কেন করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনে উনি পরাজিত হওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না। তারাকান্দা ফুলপুর দুনু উপজেলায় আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে হুমকি ধামকি দেয়। টোটালটায় উনার রাজত্ব কায়েম করতে চায়। কিন্তু এতে আমি তার বাধা। আরেক প্রশ্নের উত্তরে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, আমরা ভয়ে আছি এমন নয় তবে পরিবেশটা যাতে নষ্ট না হয় আমরা সেটা চাচ্ছি। সাংবাদিকদের শেষ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি আমার কোন প্রতিপক্ষ নয় বরং মোতাহার ও তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ আমার প্রতিপক্ষ। এসময় এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর সাথে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম)-এর ময়মনসিংহ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রেজাউল করিম, ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা সারোয়ার হোসাইন, ময়মনসিংহ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোস্তাক আহমাদ ফারুকী, ফুলপুর উপজেলা শাখার সহসভাপতি ডা. মাওলানা আজহারুল ইসলাম, ফুলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনিসুর রহমান, নাগরিক পার্টি এন সি পির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।