মোঃ আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেছেন যে, আমি যেটা দেখেছি যে, তার (এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহর) একজন কর্মী পাকঘরে মুরগী জবাই করে সেই রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে সেটা উনি ফেইসবুকে ছেড়েছে। এটা আমার মনে হয় যে, আপনারাও (সাংবাদিকরাও) দেখতে পারবেন। ভিডিওটা আপনারাও দেখবেন উনাকে তো রান্নাঘরে পাওয়া গেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তিনি একথা বলেন। এর আগে একই দিন বেলা পৌনে একটায় একই স্থানে সংবাদ সম্মেলন করেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ।
তিনি মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন যে, তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করতে গেলে আমাকে হেনস্থা করা হয় ও আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদারের সমর্থক নেতাকর্মীদের প্রতি অভিযোগের এ আঙুল তুলে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ বলেন, দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে ১০-১৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুতর। তারা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের একজন হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ হাদী (বাচ্চু) ও আরেকজন হলেন- বিএনপির অন্য গ্রুপের যুবদল নেতা রিয়াদ। রিয়াদ আমাদের লোকদের বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করে আহত করা হয়।
কিন্তু একই স্থানে মাত্র তিন ঘন্টা পর সংবাদ সম্মেলন করে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন যে, তাকে (এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে) লাঞ্ছিত করেছে বা তার নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। কারণ এসময় আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানে ছিল না। ছিল তারাকান্দা স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা। তিনি (এমপি মুহাম্মাদুল্লাহ) যখন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে যান তখন আমার সাথে হাত মিলিয়েছেন। তিনি মেয়েদেরকে ওভারটেক করে চলে গেছেন। আর তার ৪-৫ জন অনুসারী মেয়েদের ভীড়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটু গায়ে লাগতে পারে মেয়েদের সাথে। মেয়েরা শুধু বলছে- কি করলেন এটা? পরে ছেলেরা এসে প্রতিবাদ করেছে। প্রতিবাদ করাতে একটু বাকবিতণ্ডা হয়েছে। পরে আমি গিয়ে থামিয়ে দিয়েছি। তাকে (এমপিকে) লাঞ্ছিত করেছে বা প্রতিরোধ করেছে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। এরপর আমি তারাকান্দায় গেলাম। গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলাম। করে আমি চলে আসলাম। আসার পর শুনলাম যে, তারা মিছিল বের করেছে। ওসি সাহেব তাদেরকে বলছিল যে, সিনেমা হলের এদিকে শেষ করে দিয়ে এখান থেকে সবাইকে চলে যেতে। তারা এটা না মেনে আবার যখন আমাদের পার্টি অফিসের সামনে আসছে তখন পার্টি অফিসের সামনে আরও অনেক লোকজন ছিল। তাদের সঙ্গে একটা হাতাহাতি হয়েছে। এইটুকুই আমি জানি। এরপর উনি আবার অভিযোগ করেছেন যে, তাদের নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। আহত করা হয়েছে। আমি যেটা দেখেছি যে, তার একজন কর্মী পাকঘরে মুরগী জবাই করে সেই রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে সেটা উনি ফেইসবুকে ছেড়েছে। এটা আমার মনে হয় যে, আপনারাও দেখতে পারবেন। গায়ের রক্ত আর মুরগির রক্ত দুইটা কিন্তু পার্থক্য আছে। কারণ তাকে তো পাকঘরে পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তারাকান্দা উপজেলা শাখার সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ হেদায়াতুল্লাহ হাদী (বাচ্চু)কে পাকঘরে পাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে প্রশ্ন করেছিলেন। তখন তিনি বলছিলেন যে, তাকে মারার সময় তিনি দৌড়ে গিয়ে পাশের একটি বাড়িতে পাকঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওখানে বসে মোবাইলে ফোন করে এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহকে ঘটনা জানানো হয়। পরে মুহাম্মাদুল্লাহর লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন।