ময়মনসিংহের ফুলপুরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ফুলপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মরহুম এ.কে.এম. সুজাউদ্দিন সুজার রূহের মাগফেরাত কামনায় স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে ফুলপুর গোলচত্বর সংলগ্ন শেরপুর রোডে উপজেলা ছাত্রদল, পৌর ছাত্রদল ও কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার। তিনি বলেন, সুজাউদ্দিন সুজা ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি তার জীবন দিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধার করে ফ্যাসিবাদমুক্ত করে আমাদেরকে এই ফুলপুর তারাকান্দায় সুন্দর পরিবেশে বসবাস করার সুযোগ করে দিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সুজার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যখন আমি নেতৃত্ব দিয়েছি আমার প্রতিটি মিছিলে ডানে বামে তখন সুজা ছিল। আপনারা হয়তো ভুলে থাকতে পারবেন কিন্তু আমি যখন এই ভিডিওগুলো দেখবো আমার সুজাকে ভুলে থাকা সম্ভব নয়।
আপনারা জানেন, গত ২৩ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ময়মনসিংহে আসছিলেন আমি সেই অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, সুজা সম্বন্ধে এবং তার পরিবার সম্বন্ধে আমি তাকে অবগত করেছি। তিনি বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সহায়তা করবেন। তিনি আমাদেরকে সুজার পরিবারের পাশে থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।

এসময় তিনি সুজার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিন সুজার পরিবারের পাশে থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া সুজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করাবেন জানিয়ে সুজার জন্য সকলের দোয়া প্রার্থনা করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন, ফুলপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন হেলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রামভদ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন, এমদাদ হোসেন খান, কুদ্রত আলী, এ কে এম সিরাজুল হক, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তোজাম্মেল হক রুবেল, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কামাল, সদস্য সচিব মহিবুল হক টুটুল, যুবদল নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন, এ কে এম আরিফুল হক, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন, এ বি এম আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

এসময় ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ফুলপুর, তারাকান্দা, হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফুলপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। সময়ের অভাবে সংক্ষেপে তিনি বলেন, আমার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ময়মনসিংহ উত্তরে আমি দুইজন নেতা পেয়েছি। যারা সফলতার সাথে রাজনীতি করে বিজয় বা সুনাম অর্জন করেছেন। তাদের একজন হলেন- ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার ও অন্যজন হলেন আমাদের প্রয়াত ছাত্র নেতা ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মরহুম এ কে এম সুজাউদ্দিন সুজা। তিনি বলেন, আমি একটি কথাই বলতে চাই- সুজা রাজনীতি করতে করতে সে তার সংসারকে তছনছ করে দিয়েছে। সে কোন চাঁদাবাজি করে নাই। কোন চাঁদাবাজকে প্রশ্রয়ও দেয় নাই। আমাদের সকলকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবশেষে তিনি সুজার রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিটিস স্মরণ করে বলেন, সুজা আমাদের জন্য রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিল। আমার মৃত্যু পর্যন্ত আমি সুজাকে ভুলতে পারবো না।

সুজার বাবা সালাম দিয়ে অত্যন্ত সংক্ষেপে বলেন, আমার একটি ছেলেই ছিল। আর নাই। আমার ছেলের জন্য আপনারা মনখুলে দোয়া করবেন। আপনাদের কাছে আমার আর কোন চাওয়া পাওয়া নাই। কোন ভুল ত্রুটি করে থাকলে আপনারা তাকে মাফ করে দিবেন। সুজা যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন অর্থাৎ ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, সুজা কেমন নেতা ছিল তা আমার চেয়ে ভালো আর কেউ বলতে পারবেন না। আজ সুজা না থাকায় মানুষের একটা পা না থাকলে যেমন অবস্থা হয় আমার অবস্থা সেইম। এসময় তিনি সুজার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করানোর ব্যাপারে কাজ করছেন বলে জানান।

যুবদল নেতা ওয়াহেদুজ্জামান মিঠুন বলেন, সুজা যে মারা গেছে এটাই আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। কাজে কর্মে অনুপ্রেরণায় যেন সুজা এখনো বেঁচে আছে।
বক্তারা দলের উর্ধতন নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন- সুজার কিন্তু আর কোন ভাই নেই। আয় রোজগারের আর কেউ নেই। দল করতে করতে সুজা তার জীবন দিয়ে গেছেন। এখন আপনারা তার পরিবারের প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। যেন কোন বিষয়ে সুজার বাবা-মার মনে কষ্ট না আসে।

এভাবে অনেকেই মরহুমের রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সবাই সুজা হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় অনেকের চোখই জলে ছলছল করে ওঠছিল। গাল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল।
সবশেষে মরহুম এ. কে. এম. সুজাউদ্দিন সুজার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।