একটি স্বপ্ন, একাগ্রতা আর কঠোর পরিশ্রমের পথ পেরিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন সাধনা ত্রিপুরা। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের গৌরব অর্জনের পর এবার তিনি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেছেন।
সোমবার (২৮ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে তিনি ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফুলপুরে পৌঁছালে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ ইউসুফ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গৌমতী গ্রামের সন্তান সাধনা ত্রিপুরা। পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে এসে তিনি খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়ে সরকারি প্রশাসনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন। তিনি বলেন, আমি আগা গোড়ায় একজন অরাজনৈতিক পরিবার থেকে ওঠে আসা মানুষ। আমার সামনে পিছনে ডানে বামে কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। এসময় তিনি ফুলপুরের মানুষ আসলে কি চায় সেভাবে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তিনি ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রথম নারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তাঁকে ফুলপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়।
সাধনা ত্রিপুরার এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসী নারীদের জন্য সম্ভাবনা, সাহস এবং নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এ যাত্রা প্রমাণ করে—সুযোগ, শিক্ষা ও অধ্যবসায় থাকলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীরাও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সফলতার সঙ্গে অবদান রাখতে পারেন।
ফুলপুরের সাধারণ মানুষও আশা করছেন, নতুন ইউএনও সাধনা ত্রিপুরার নেতৃত্বে উপজেলার উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।