বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন তথা চ্যাম্পিয়ন ধরে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে বক্তব্যে টিম লীডার তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
তিনি বলেন, আজ বিতর্কের বিষয় হলো- ‘মোবাইল ফোন শিক্ষার সহায়ক নাকি আসক্তির বাহন?’ আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মোবাইল ফোন শিক্ষার সহায়ক। বিখ্যাত বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন- ‘ Technical progress is like an axe in the hands of pathological criminal.’ অর্থাৎ কুঠার দিয়ে যেমন গাছ কাটা যায় তেমনই কুঠার দিয়ে অপরাধও করা যায়। দোষ কুঠারের নয়। ঠিক তেমনই আমরা যদি সঠিক নির্দেশনা ও সচেতনতা পালন করে এর শিক্ষাগত ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি তবে এটি আসক্তি নয় বরং বিশ্বকে জানার সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন- ‘বিপুলা, এ পৃথিবীর কতটুকু আমরা জানি? দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী। মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, অজানা রয়ে গেল কত তরু!’
মাননীয় সভাপতি, কবিগুরুর সেই অজানাকে জানার অতৃপ্ত আকাঙ্খাকে আজ যে যন্ত্রটি হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, সেই যন্ত্রটি মোবাইল ফোন। এটি শিক্ষার বিরোধিতা করছে না বরং এটি শিক্ষার একটি অপরিহার্য সহায়ক। বিশ্বের কোটি কোটি বই, গবেষণা পত্র এখন আর সেই পুরনো আলমারিতে বন্দি নেই। বন্দি আছে শিক্ষার্থীর হাতের সেই ছোট্ট স্ক্রীনে। এটি শুধু আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই দিচ্ছে না বরং ফ্রিল্যান্সিং কোডিং ও নতুন ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করছে। আমরা যদি সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে এর শিক্ষাগত মান নিশ্চিত করতে পারি তবে এটি একটি অপরিহার্য শিক্ষা সহায়ক এবং আমাদের মেধা বিকাশে এটি সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
মাননীয় সভাপতি, অতীতে ক্লাসের ফাঁকে বাইরের জানালার দিকে তাকিয়ে থাকা, ডেস্কের নিচে কাটাকুটি খেলা ও বইয়ের নিচে গল্পের বই লুকিয়ে রেখে গল্পের বই পড়ার অভ্যাস কি ছিল না? দোষ ডিভাইসের নয়, দোষ মনোযোগের। আমাদের বাংলাদেশের মূল চালিকা শক্তি হলো- যুবসমাজ। আর সেই যুবসমাজকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে মোবাইল ফোন আজ আর কোন বিলাসিতা নয় বরং এটি একটি অপরিহার্য শিক্ষা সহায়ক। তাই পরিশেষে বলতে চাই- সঠিক দায়িত্বশীল ও শিক্ষামন্ত্রী এর ব্যবহার নিশ্চিত করলে এটি আমাদের শিক্ষায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পরিশেষে আবারও বলতে চাই- ‘মোবাইল নয় সমস্যার মূল, এর অপব্যবহারই আসল ভুল।’