ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। গত ছয় মাসে মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে তিনি ছাড় দিয়েছেন—এমন প্রমাণ দিতে পারলে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যেতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেছেন।
শুক্রবার (২০ জুন) সকাল ১১টায় হালুয়াঘাটের ৫০০ আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম ফর মাল্টিপারপাস হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘হালুয়াঘাট উপজেলায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ওসি ফেরদৌস আলম বলেন, “আমি আপনাদের শপথ করে বলতে পারি, মাদক আমার সবচেয়ে বড় অ্যালার্জি। মাদকের কোনো বিষয় আমি কখনোই নিতে পারি না। গত ছয় মাস আগে এ থানায় যোগদান করেছি। আপনারা কেউ কি বলতে পারবেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কোনো লোককে আমি ছাড় দিয়েছি? যদি বলতে পারেন, তাহলে আমি এখান থেকে চলে যাবো। মাদকের কোনো বিষয় আমি ছাড় দিই না।”
তিনি বলেন, মাদক সমস্যা শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারেই মাদকের ভয়াবহতা নীরবে বাসা বেঁধেছে, যা বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে ওসি বলেন,
“কোনো একজন মানুষকে যদি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে চান, তাহলে তাকে মাদকাসক্ত করে দিলেই যথেষ্ট। একজন মানুষ একবার মাদকাসক্ত হয়ে গেলে তার জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।”
২২ বছরের চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় সন্তান মাদক গ্রহণের প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও অভিভাবকরা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে মায়েরা অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাসই করতে চান না যে, তাঁদের সন্তান মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, “সমাজে যখন কোনো সন্তানের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ ওঠে, তখন অনেক অভিভাবক তা অস্বীকার করেন। কিন্তু শুরুতেই যদি সন্তানকে সঠিকভাবে শাসন ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হতো, তাহলে অনেকেই এ পথ থেকে ফিরে আসতে পারত।”
সমাজে শাসনের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ওসি ফেরদৌস আলম। তিনি বলেন,
“সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয় হলো, সমাজ থেকে শাসন উঠে গেছে। এখন শিক্ষকরা ছাত্রদের শাসন করতে পারেন না। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে সবকিছুই চলে; কিন্তু শাসন করতে গেলেই মানবাধিকার প্রশ্ন আসে।”
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ সালমান ওমর রুবেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফয়সাল আহমেদ। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।