ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার অসহায় মুচি ধীরেন্দ্র ঋষির পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের হৃদয় স্পর্শ করবে বলেই আশা করা যায়। তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সচ্ছল ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ধীরেন্দ্র ঋষি (৪২), পিতা মৃত নরেশ ঋষি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আঞ্জুমান সুপার মার্কেটের সামনে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তার স্ত্রী সচিত্রা। তাদের ৫ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বড় মেয়ে ও একমাত্র ছেলে—দুজনই প্রতিবন্ধী। তারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারে না; বসে বসেই চলাফেরা করে। পাঁচ মেয়ের মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফুলপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন খাদ্য গুদামের পাশ দিয়ে বঙ্গবন্ধু রোড এলাকায় মাত্র আধা শতাংশ জমির ওপর কোনো রকমে বসবাস করছেন ধীরেন্দ্র। সেই ছোট্ট জায়গাতেই ঘর, রান্না, বসবাস এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা। বাড়িতে যাওয়ার জন্য নিজস্ব কোনো পথও নেই; অন্যের বারান্দা দিয়ে, ভাঙা পথ দিয়ে একটি টিউবওয়েলের পিচ্ছিল পাড় অতিক্রম করে তাদের ঘরে পৌঁছাতে হয়। যা তার প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের জন্য খুবই কষ্টকর।
ভাঙা টিনের ঘরে বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ঘরের মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে। নেই আলাদা রান্নাঘর। খোলা শৌচাগার ব্যবহারে বিশেষ করে বর্ষাকালে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
আট সদস্যের এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ধীরেন্দ্র। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারকে না খেয়ে বা অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের সরকারি ভাতা থাকলেও তা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয় না।
এ অবস্থায় ধীরেন্দ্র ঋষি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিশেষ করে একটি নিরাপদ বসতঘর নির্মাণ এবং পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য তিনি সবার সহমর্মিতা প্রত্যাশা করছেন।
মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে একটি অসহায় পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারে। তাই যার যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, তা নিয়ে ধীরেন্দ্র ঋষির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সকলের প্রতি আন্তরিক আহ্বান রইল।