মোঃ আব্দুল মান্নান :
মানবিক মানুষদের সহযোগিতায় ও তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের বাঘেধরা গ্রামের প্রতিবন্ধী ভ্যান চালক হেলাল উদ্দিন (২৭) পেলেন নতুন টিনের ঘর। আজ শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় তার অসহায় পরিবারের সদস্যদের জন্য নির্মিত ওই ঘরের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে ঘরটির শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তপু রায়হান, সাংবাদিক আবু রায়হান, স্বেচ্ছাসেবক সোহেল রানা, আলিম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, হেলাল উদ্দিন বাঘেধরা গ্রামের চা বিক্রেতা জামাল উদ্দিন (৬০) ও হাবিজা বেগম দম্পতির পুত্র। তার তিনজন সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে একমাত্র পুত্র রাজিব (৪) প্রতিবন্ধী।
জানা যায়, তাক্ওয়া অসহায় সেবা সংস্থার সহযোগিতায় হত দরিদ্রদেরকে এ পর্যন্ত তিনটি ঘর উপহার দেওয়া হয়েছে। তাকওয়া অসহায় সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তপু রায়হান এ প্রতিবেদককে জানান, ফুলপুর থানার সাবেক ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ বেশ কিছু মানবিক মানুষের উৎসাহ ও সহযোগিতায় তারা এ কাজটি করে যাচ্ছেন। হত দরিদ্র প্রতিবন্ধী ভ্যান চালক হেলাল উদ্দিনের ২ শতাংশ জমি থাকলেও থাকার মত কোন ঘর তার ছিল না। ছেঁড়া চটের বস্তা, কাপড়ে মোড়ানো ভাঙ্গা টিনের একটি ঝুপড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তারা। বর্ষাকালে একটুখানি বৃষ্টি এলেই আসমানীদের মত টিনের ছিদ্র দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তো। মধ্য রাতে বিছানা গুছিয়ে বসে থাকতে হতো বৃষ্টি এলে। তখন একটি নতুন টিনের ঘরের স্বপ্ন উঁকি দিয়েছিল হেলাল উদ্দিনের মনে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে উদ্যোগ নেয় তাকওয়া অসহায় সেবা সংস্থা। ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়ায় হেলাল পরিবার খুশিতে আটখানা। এ স্বপ্ন এভাবে পূরণ হবে তা কখনো ভাবেননি হেলাল। জানা যায়, স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় মুখে হাসি ও পরিবারে আনন্দ বিরাজ করছিল। হেলাল উদ্দিনের ঘরটি নির্মাণে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন তাদের মধ্যে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান অন্যতম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২ বাণ্ডিল টিন ও ৬ হাজার টাকার চেক দিয়েছেন। আর জেলা পরিষদের সদস্য মাহবুবুর রহমান দিয়েছেন বেড়ার টিন। এতে মোট খরচ হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।
প্রধান অতিথি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, সৎ স্বেচ্ছাসেবক তরুণরা দেশ, অসহায় অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের স্বপ্ন পূরণে কাজ করছে। অসহায় মানুষের স্বপ্ন পূরণে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বিগত কয়েক বছর ধরে আমি তাদের পাশে থেকে দেখে আসছি। আমি তাকওয়া অসহায় সেবা সংস্থা ও এর পরিচালকসহ সদস্যদের সার্বিক মঙ্গল ও উন্নতি কামনা করছি।
জানা যায়, এভাবে অসহায়দের মুখে হাসি ফোটাতে তাকওয়া অসহায় সেবা সংস্থা চতুর্থ ঘর নির্মাণ কাজে হাত দিতে যাচ্ছে। সেটি পাবে উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের দারাকপুর গ্রামের ভিক্ষুক আমেনা খাতুন (৭০)।