ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেছেন, শুধু পুলিশের ওপর নিরাপত্তার দায়িত্ব না দিয়ে নিজেদেরও কিছু দায়িত্ব নিতে হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় অন্তত দুজন করে নাইট গার্ড নিয়োগ এবং সড়কভিত্তিক ব্যবসায়ী কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফুলপুরের শেরপুর রোডের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ‘বিকে ওয়ার্ল্ড বিডি’-তে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। সম্প্রতি শেরপুর রোডের মেসার্স আজাহার ইলেকট্রিক দোকানে সংঘটিত চুরির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সভার আয়োজন করা হয়।
ওসি বলেন, “আমরা আপনাদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছি, ঠিক আছে। কিন্তু আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। যেখানে ২০০ জন পুলিশের প্রয়োজন, সেখানে আমাদের পুলিশ আছে মাত্র ৪০ জন। এত কম জনবল দিয়ে বিশাল এলাকায় সেবা দেওয়া কঠিন।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এত কোটি কোটি টাকার মালামাল দোকানে রেখে আপনারা কীভাবে নিরিবিলি বাসায় গিয়ে ঘুমান, আমার বুঝে আসে না। শেরপুর রোডে অনেক বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে, অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় জনবল একেবারেই কম।”
আজাহার ইলেকট্রিকে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ইতোমধ্যে একজন পেশাদার চোরকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা গেলে চুরির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। তাকে ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এমন কোনো রাত নেই যে আমি এই রোডে সাহাপুর বাজার পর্যন্ত যাই না। এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলে আমাকে জবাবদিহি করতে হয়। এখন থেকে শেরপুর রোডে আমাদের নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।”
এ সময় উপজেলা পরিষদ এলাকাতেও রাতের বেলায় সুনসান নীরবতা বিরাজ করে উল্লেখ করে সেখানে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
চুরির রাতে পুলিশের গাড়ি সেকান্দর মার্কেটের সামনে থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি—ব্যবসায়ী হারুনের এমন অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, “১০ মিনিট নয়, আধা ঘণ্টা পরও যদি এমন ঘটনার কথা জানা যায়, তারপরও পেছনে ধাওয়া করলে কিছু একটা করা সম্ভব হতো। তারপরও আপনারা নিরাশ বা হতাশ হবেন না। যেহেতু এ ঘটনায় মামলা হয়েছে, এখন আসামি গ্রেপ্তারের দায়িত্ব আমাদের। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।”
ওসি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু পুলিশের ওপর দায়িত্ব না দিয়ে নিজেরাও কিছু দায়িত্ব নেন। কমপক্ষে দুজন নাইট গার্ড নেন। পাশাপাশি শেরপুর রোডের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ছোট পরিসরে একটি কমিটি গঠন করুন। আপনারা প্রত্যেক রোডভিত্তিক কমিটি গঠন করে আমাকে দিন। এতে আমার মনিটরিং করা সহজ হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ওসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। যেকোনো সমস্যা হলে দ্রুত অবহিত করুন। ইনশাআল্লাহ পুলিশ আপনাদের পাশে থাকবে, পুলিশকে পাশে পাবেন।”
মতবিনিময় সভায় ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী ও সাবেক সেনাসদস্য শাহজাহানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফুলপুর বাসস্ট্যান্ড ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, ফুলপুর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন, ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, উজ্জ্বল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জালাল উদ্দিন, মাওলানা আজিজুল ইসলাম, লিপু, ইয়াসীন, ফেরদৌস আমান ও হাফেজ ফয়জুল্লাহ জুয়েলসহ অনেকে। ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের নিজেদের মাল নিজেদেরকেই হেফাজত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে।
এ সময় আজাহার, আব্দুস সালাম, আব্দুল বারেক, আলী আকবর খোকন, বকুল ও শহিদুল ইসলামসহ শেরপুর রোডের বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।