• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ফুলপুরে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (মাদরাসা) নির্বাচিত হলেন অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান নেত্রকোনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দায়িত্বশীলদের সভা হালুয়াঘাটে নতুন ইউএনওকে বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন তার একজন কর্মী মুরগী জবাই করে রক্ত নিজের গায়ে লাগিয়ে ফেইসবুকে ছেড়েছে — মোতাহার সরকারি নিয়মনীতি মেনে চলার ক্ষেত্রে সে যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায় — এমপি মুফতী মুহাম্মাদুল্লাহ তারাকান্দায় পহেলা বৈশাখে এমপি হেনস্থার অভিযোগসহ গুরুতর আহত ২ পহেলা বৈশাখ হোক গুনাহ থেকে ফিরে আল্লাহর পথে নতুনভাবে চলার অঙ্গীকার যাকাত সংগ্রহে সারাদেশে ফুলপুর চতুর্থ নান্দাইলে এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ালেন বিশ্বসেরা গবেষক বিজ্ঞানী ড. ছাইদুর রহমান স্যার গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ মিছিল

ফুলপুরে কাঁকড়া টু দিউ এলাকায় খরিয়া নদীতে সেতু না থাকায় কষ্টে হাজারো মানুষ

Reporter Name / ১২১ Time View
Update : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

মো. আব্দুল মান্নান :
ময়মনসিংহের ফুলপুরে কাঁকড়া টু দিউ পূর্বপাড়া এলাকায় যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের জন্য খরিয়া নদীতে কোন সেতু না থাকায় কষ্টে ও ভোগান্তিতে আছেন হাজারো মানুষ। এ কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে সরকারের নিকট একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফুলপুর সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড কাঁকড়া এলাকা পরিদর্শনে গেলে এলাকাবাসী এ প্রতিবেদককে জানান যে, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও তাদের যাতায়াত সমস্যা দূর হয়নি। তাদের ধানবন, শাক সবজি বাজারজাত করা, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য ভালো বিদ্যালয়ে পাঠানো, গর্ভবতী প্রসূতি, শিশু ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে নেওয়া আনাসহ নানাবিধ কষ্ট ও সমস্যায় রয়েছেন ওইসব এলাকার লোকজন।

 

আব্দুল মোতালেব নামে এক মুরুব্বি জানান, এই কষ্ট থেকে একটু রেহাই পাওয়ার আশায় আমরা গ্রামবাসী মিলে বাঁশ-কাঠ সংগ্রহ করে একটি সেতু নির্মাণ করেছিলাম। এটা দিয়ে কোনোমতে নিজের বডিটা নিয়ে পারাপার হওয়া যায়। বর্তমানে এটাও জায়গায় জায়গায় ভেঙে ফাঁক হয়ে গেছে। নড়বড়ে হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চাকাচ্চা ও বুড়া মুরুব্বিরা যেতে পারেন না। তাদের জন্য সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ। কাঁকড়া গ্রামের এরশাদের ছেলে রিয়াদ (৫) দিউ পূর্বপাড়ায় দোকানে গিয়েছিল গরুর খাবার আনতে। সে একা যেতে পারেনি। তার বড়বোন ৫ম শ্রেণির ছাত্রী মাইমূনা তাকে যেতে সাহায্য করে। এই শিশুরা ওখানে একটি ভালো সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
রুস্তম আলী নামে এক মুরুব্বি বলেন, কাঁকড়া থেকে পাইকপাড়া ছনকান্দা বাজার হয়ে হাসপাতালে বা আমুয়াকান্দা বাজারে যেতে আমাদের বর্তমানে যাতায়াত ভাড়া লেগে যায় ১২০ থেকে দেড়শ টাকা। আর সময়ও ১০ মিনিটের জায়গায় ১ ঘন্টার বেশি লেগে যায়। বর্ষাকালে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে দেখা দেয়। অপরদিকে, খরিয়া নদীতে যদি সেতু থাকতো তাহলে কাঁকড়া থেকে দিউ পূর্বপাড়া হয়ে হাসপাতালে, আমুয়াকান্দা বাজারে, বাসস্ট্যান্ডে, থানায়, উপজেলা পরিষদে ও পৌরসভা অফিসে যেতে সময় লাগতো মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট আর খরচ হতো মাত্র ১০-২০ টাকা।
এসময় কিতাব আলী, আজিজুল ও সন্তোষ চন্দ্র সেনসহ বেশ কয়েকজন তার সাথে একমত পোষণ করেন। সালেক মিয়া ও সুলতানের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এখানে একটি সেতুর অভাবে আমরা আমাদের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত। আমরা আজীবন খরিয়া নদীর একটা প্যাঁচের মধ্যে পড়ে আছি। এখান থেকে গাড়ি দিয়ে একটা লোক পাইকপাড়া হয়ে ছনকান্দা বাজারে যেতে এতটাই সময় লাগে যে, সোজাসুজি পায়ে হেঁটে খরিয়া পার হয়ে বাজারে গিয়ে বসে থাকলেও গাড়িওয়ালা গিয়ে পৌঁছাতে পারে না। প্রাণেশ ডাক্তারের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার অরুন চন্দ্র সরকার নামে একজন হিন্দু ভদ্রলোক বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে আছি। হাসপাতাল আমাদের অতি নিকটে থাকলেও গর্ভবতী মহিলাদের নিয়ে যাতায়াতে আমাদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এখানে একটি সেতু হলে আমরা হাতে আসমান লাগুত পাইতাম! এসময় আবু তাহের নামে আরেকজন ভাই তার সাথে উপস্থিত ছিলেন। তিনিও অরুন চন্দ্র সরকারের সাথে একমত পোষণ করে ওখানে একটি সেতুর দাবি জানান। এসময় এ প্রতিবেদকের সাথে দিউ প্রধানী বাড়ির আলিফা পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মাওলানা আজহারুল ইসলাম দুলাল ও বাইতুন নূর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ মাহদী হাসান উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যেই ইঞ্জিনিয়ার সাহেবকে নিয়ে আমি জায়গাটা ভিজিট করবো। পরে দেখব কি করা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা