মো. আব্দুল মান্নান
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার তৃণমূলের সাংবাদিক সেলিম রানা আজ প্রায় ২০ দিন যাবৎ এন্ড্রয়েড মোবাইলবিহীন সময় কাটাচ্ছে। মোবাইলটি তার ভেঙে গেছে। আগে থেকে কিছুটা ভাঙা ছিল। কোনমতে কাজ চালাতে পারতো। পরে ২০ দিন আগে হঠাৎ একদিন তার হাত থেকে মোবাইলটি পড়ে এমন ভাঙন ভাঙছে যে, তা আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বাস্তব সত্য হলো, সে এখন নেট দুনিয়ার বাইরে রয়েছে। একজন সাংবাদিকের জন্য যা কল্পনাতীত ও অসহনীয় কষ্ট কিন্তু করার কিছুই নেই। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এ কষ্ট তাকে বিনা দ্বিধায় মেনে নিতে হচ্ছে।
আজ কথা প্রসঙ্গে সেলিম রানা জানায়, তার এ মোবাইলটি দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গরিব মানুষের কমপক্ষে ৬ লক্ষ টাকার উপকার করা হয়েছে। মানুষের ভাঙা ঘরের ছবি তুলে পোস্ট দেওয়ায় তিনটি সরকারি ঘর দেওয়া হয়েছিল তার লেখায়। এছাড়া কয়েকজনকে টিন দিয়ে ঘর সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। টিউবওয়েল, গরু ছাগল ইত্যাদি বহু সহযোগিতা পেয়েছেন দরিদ্ররা তৃণমূলের সাংবাদিক সেলিম রানার পোস্টে। সেলিম রানা আজ আফসোস করে বলে, আমার এ মোবাইল দিয়ে পোস্ট দেওয়ায় কত মানুষের উপকার হলো! কত খবর প্রচার করলাম! কিন্তু আজ ২০ দিন ধরে, আমার মোবাইল নেই। এই খবর তো কেউ নিল না! বাটন মোবাইল টিপে সেলিম রানা খবর নিয়েছে আজ নাকি ৬ জন সাংবাদিক উপজেলা থেকে বিজ্ঞাপন পেয়েছেন কিন্তু তাকে কেউ ডাকেনি। বছরের পর বছর নিউজ করে, পত্রিকা বাসায় বা অফিসে পৌঁছে দিয়েও সে নাকি কারো মন পায়নি। বিজ্ঞাপন নিয়ে যদিও এ প্রতিবেদকেরও রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। সে কথা নাইবা বললাম। কিন্তু সেলিম রানার কি অপরাধ? সে কি ৬ মাসে বা বছরেও পেতে পারে না একটি বিজ্ঞাপন? দুনিয়াটা কি আসলেই এ রকম? কোন হৃদয়বান ও সাংবাদিকবান্ধব ভাই থাকলে একটু চক্ষু মেলে দেইখেন আমাদের ছোটভাই সাংবাদিক সেলিম রানাকে। সম্ভব হলে একটু তার পাশে দাঁড়ায়েন।