• বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মুজাদ্দেদে মিল্লাত হযরত কায়েদ সাহেব রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী ফুলপুরে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬ একজন ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে যেসব বরাদ্দ সেবা থাকে ইরানের হাইকমিশনারের সাথে বিকেএম -এর আমিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ মার্চ মাসের পারফরম্যান্সে ময়মনসিংহ জেলায় শ্রেষ্ঠ এএসপি মোঃ রাকিবুর রহমান ফুলপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ফুটবল টুর্নামেন্ট ফাইনাল খেলা উদ্বোধন ফুলপুরে কংশ নদীতে বৃদ্ধ নিখোঁজ ফুলপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার ড্রেইন পরিষ্কার কর্মীদের বাধা দেওয়ায় অর্থদণ্ড ফুলপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাস্তা কর্তন, অভিযোগ, পরিদর্শন

মুজাদ্দেদে মিল্লাত হযরত কায়েদ সাহেব রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

মাওলানা মাসূম বিল্লাহ আযিযাবাদী:
“এমন জীবন তুমি করিবে গঠন, মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন!” কবিতার লাইনগুলো যেন শুধুমাত্র তাঁর জন্যই লেখা। যার কাছে মানুষের পরিচয় ছিল কেবল মানুষ হিসেবে। যিনি ছিলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের আস্থাভাজন ও পরম শ্রদ্ধেয়।

■■ হুজুর(রহঃ) -এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ
■■ নামঃ মাওলানা মুহম্মদ আযীযুর রহমান নেছারাবাদী। স্বীয় পীর(মুজাদ্দেদে জামান, কুতুবুল আ’লম শাহ সূফী হযরত মাওলানা নেসারুদ্দীন আহমাদ(রহঃ)’র দেয়া উপাদী “কায়েদ” তাই কায়েদ ছাহেব হুজুর হিসেবেই পরিচিত।
■■ জন্ম তারিখঃ হুজুর(রহঃ) এর সঠিক জন্ম তারিখ সুনিশ্চিতভাবে কেহ বলতে পারেননি। লোকমুখে শুনা হুজুর ১৯১১ সনে এক শুভক্ষণে তৎকালীন ঝালকাঠি মহকুমার বাসন্ডা গ্রামে (বর্তমান নেছারাবাদ) এক সম্ভ্রান্ত মুছলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
■■ পিতার নামঃ মৌলভী মফিজুর রহমান। যিনি ছিলেন হাজী শরীয়তুল্লা(রহঃ) এর উত্তরসূরি, হযরত রশিদ উদ্দিন আহমদ ওরফে পীর বাদশাহ মিয়ার খলিফা।
■■ মাতার নামঃ জীনাতুন নেছা।
■■ ভাই-বোনঃ তাঁরা ছিলেন দু’ ভাই এক বোন। তাঁদের সকল ভাই-বোনের মধ্যে হুজুর(রহঃ) ছিলেন দ্বিতীয়।

■■ শৈশব ও বাল্যকালঃ
হুজুর(রহঃ) যে মহান ওলী হবেন তার বহু প্রমান শৈশবেই প্রকাশ পেয়েছে। তাইতো বাল্য বয়সেই কারো সাথে অহেতুক ঝগড়া বিবাদ এমনকি খেলাধুলায়ও লিপ্ত হতেন না। নিজের বাড়ির কাচারিতে হুজুর(রহঃ) বাল্য শিক্ষা গ্রহণ করেন।

■■ শিক্ষা জীবনঃ
হুজুর নিজ গ্রামেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় মসজিদের তৎকালীন ইমাম মরহুম মৌলভী মুহসিন উদ্দিন ফরিদপুরী(রহঃ) এবং চাঁদকাঠির মুন্সি সিরাজ উদ্দিন ছাহেব(রহঃ)’র কাছে তিনি আরবি শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ভোলা আলিয়ার হুজুর কেবলার মাদরাসায় পড়ার অদম্য আগ্রহে তাঁর মহীয়সী মাতা তাঁকে ভোলা আলিয়া মাদরাসায় পাঠিয়ে দেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৩৫ পর্যন্ত হুজুর(রহঃ) এখানেই পড়াশোনা করেন। এর পরে ১৯৩৬ সনে হুজুর ছারছীনা আলিয়া মাদরাসায় ভর্তি হয়ে অনেক ত্যাগ-শ্রম-সাধনায় ১৯৪০ সনে ফাজিল কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় “কলকাতা মাদরাসা বোর্ডের” সম্মিলিত মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন এবং বৃত্তি পান।
১৯৪১ সনে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ ঐতিহাসিক কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় কামিলে ভর্তি হন। ১৯৪২ সালে কলকাতা আলিয়া মাদরাসা থেকে ভারত বর্ষের শ্রেষ্ঠ আলিমদের সাহচর্য এবং ছোহবাত নিয়ে সুনামের সহিত উচ্চতর শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

■■ ছাত্র জীবনে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের চেতনাঃ
শিক্ষা সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী হুজুর (রহঃ) কলকাতা মাদরাসায় অধ্যয়ণ কালেই শতধা মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসে “আনজুমানে আল ইসলাহ” নামে একটি ছাত্র সংগঠন কায়েম করেন।

■■ ইলমে তাছাওফ অর্জন অর্জনঃ
১৯৪৩ সনে হুজুর(রহঃ) কলকাতা থেকে লেখা পড়া শেষ করে তিনি ছারছীনায় ফিরে এসে পীরে তরীকত শাহ সূফী নেছার উদ্দিন আহমাদ(রহঃ) এর হাতে বয়াত গ্রহণ করেন। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি কাদরিয়া, চিশতিয়া, নকশাবন্দীয়া, মুজাদ্দিদিয়া ও মুহাম্মাদিয়া তরিকা মশক শেষ করে সকল তরিকায় বুদপত্তি অর্জন করেন।

■■ কর্ম জীবনঃ
হুজুর তাঁর কর্ম জীবন শুরু করেন মাদরাসায় শিক্ষকতার মাধ্যমে। কলকাতা থেকে ফিরে এসে পীরে মরহুম শাহ সূফী নেছার উদ্দিন আহমাদ(রহঃ) এর নির্দেশেই ১৯৪৩ সনে ছারছীনা আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হন। হুজুর(রহঃ) তাঁর অধ্যাপনার মাধ্যমে একদল হক্কানি রব্বানী আলেমেদ্বীন তৈরী করেন। যাঁরা এই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং আছেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও হুজুরের খুব সুমন ছিল। তিনি তাবলীগ পত্রিকাসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

■■ শাদী মুবারকঃ
আমাদের দেশে বৃটিশ আমলে একটি প্রথা ছিলো, যাদের ছেলে-মেয়ে বিবাহের উপযুক্ত ছিলো না তাদের অপ্রাপ্ত ছেলে-মেয়েদেরকে নিজেরা ওলী (অভিভাবক) হয়ে বিবাহ পড়িয়ে দু পরিবারের মাঝে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তুলত। হুজুর(রহঃ) এর জীবনেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। হুজুর কেবলার বয়স যখন ৭/৮ বছর, তখন তার পিতা ঝালকাঠি উপজেলার তের আনা গ্রামের সৈয়দ আফতাব উদ্দিন এর মেয়ে মোসাম্মৎ আসিয়া বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। তখন তাঁর স্ত্রীর বয়স ছিল ৬ বছর। বিবাহের কিছু দিন পরেই হুজুর কেবলার সে স্ত্রী ইন্তেকাল করলেন। এর পরে ১৯৪৩ সনে হুজুর(রহঃ) যখন ছারছীনা মাদ্রাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন তখন অনেক ধনীর দুলালীর বিবাহের জন্য প্রস্তাব ছিল। কিন্ত হুজুর(রহঃ) বলতেনঃ
——-“আমি কোনো ধনী নামী-দামী এবং সম্পদশালী উঁচু ঘরের মেয়ে বিবাহ করতে চাই না। বরং যে আমার মায়ের আন্তরিক ভাবে খেদমত করতে রাজি থাকবে এ রকম মেয়ে যদি গবীব ঘরেরও হয় তাকে বিবাহ করতে আমার আপত্তি নেই।”

■■ হুজুর(রহঃ) বিবাহের ক্ষেত্রে পাঁচটি বিষয়ের উপর প্রধান্য দিয়েছিলেন।▪১. তাকওয়া ও দ্বীনদারী;▪২. ইলমে দ্বীন শিক্ষা,▪৩. হছব ও নছব (বংশ পরিচয়),▪৪. সুরত এবং▪৫. মাল ও দৌলত।

■■ মহান আল্লাহ তা’আলার মেহেরবাণীতে উপরোক্ত গুণে গুণান্বিত বর্তমান বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার সোনাহার নিবানী মরহুম সূফী গিয়াস উদ্দিন(রহঃ) এর মেঝ কন্যা মুহতারামা উম্মুল খায়েরকে ১৯৪৩ সনের এক শুভ দিনে বিবাহ করেন।

■■ পারিবারিক জীবনঃ
হুজুর কেবলা(রহঃ)’র পারিবারিক জীবনে ছিলেন একজন সুখীমানুষ। হুজুর প্রায়ই বলতেনঃ
——-“মহান আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতে আমি খুব সুখি জীবন যাপন করছি।” তাঁর পারিবারিক জীবনের আলোচনা করতে গিয়ে হুজুর বলেনঃ
——“আমি আর্থিক দিক দিয়ে খুউবই অস্বচ্ছল ছিলাম। ছারছীনাতে খেদমত করে যে বেতন পেতাম তা দিয়ে আমার এবং আমার বড় ভাইয়ের দুটি সংসার চলতো। এর পরেও আমি মনে করি পারিবারিক জীবনে আমার চেয়ে অত্যন্ত
সুখী মানুষ খুব কমই আছে।”

■■ হুজুর(রহঃ) কোনদিন কোন ধরণের অপব্যায় করতেন না এবং তা পছন্দও করতেন না। আবার প্রয়োজনীয় সকল ব্যয় করার ব্যাপারেও তিনি কৃপণতা অবলম্বন করতেন না। তিনি নিজের ছেলে মেয়েদের বিবাহের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এতটুকুও কোন বাড়াবাড়ি যেমন করেননি। ঠিক তেমনি দ্বীন এবং শরীয়াতের দৃষ্টিতে যতটুকু করার প্রয়োজন ততটুকুই করেছেন, তাতে একটুও কম করেন নি।

■■ হুজুর(রহঃ) পারিবারিক জীবনে তাঁর মা, স্ত্রী ও ছেলে- মেয়েসহ অন্য সকলের হক্ব যথাযথভাবে আদায় করেছেন। পরিবারের সবাই হুজুর(রহঃ) এর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা-দীক্ষা বিয়ে-শাদী ইত্যাদির দায় দায়িত্ব সুচারুরূপে তিনি পালন করেছেন। বোনের হক্ব যথাযথভাবে আদায় করেছেন। আত্মীয়-স্বজনের হক্ব আদায় সহ তাদের সাহায্য-সহযোগিতায় হুজুর ছিলেন দরাজ হস্ত। পরিবারের সকল সদস্যদের মধ্যে তিনি কোন প্রকারের বৈষম্যমূলক আচরণ করতেন না। যার যতটুকু হক্ব(প্রাপ্য) রয়েছে, সেটা যথাযথভাবে আদায় করেছেন।

■■ সন্তান-সন্ততিঃ
হুজুর কেবলা(রহঃ) এর প্রথম স্ত্রী ছোটবেলাতেই ইন্তেকাল করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী মুহতারামা উম্মুল খায়ের(রহঃ) সাহেবার গর্ভে তিন ছেলে ও চার মেয়ে ভূমিষ্ঠ হয়। এর মধ্যে দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছোট থাকতেই ইন্তেকাল করেন।

■■ প্রথম ছেলে আবু নছর অহিদুজ্জামান এক বছর ছয় মাসের সময় হুজুর কেবলা(রহঃ)’র শ্বশুরবাড়িতে ইন্তেকাল করেন। দ্বিতীয় ছেলে মোঃ আব্দুল কুদ্দুস চার মাসের সময় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন এবং মেয়ে হাফিজা খাতুন এক বছর ছয় মাসের সময় ইন্তেকাল করেন।

■■ বর্তমানে হুজুরের রয়েছে তিনমেয়ে এবং এক ছেলে। হুজুর কেবলা(রহঃ) এর একমাত্র ছাহেবজাদা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর বর্তমানে হুজুর কেবলার গদ্দিনশীন “নেছারাবাদ দরবার শরীফের পীর, ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এবং অরাজনৈতিক সংগঠন “বাংলাদেশ হিযবুল্লা জমিয়াতুল মুছলিহীন” এর মুহতারাম আমীর। তিনি একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক এবং সমাজসেবক। পাশাপাশি নেছারাবাদ ইসলামী কমপ্লেক্স এর সম্মানিত চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করছেন।

■■ হুজুর(রহঃ) এর তিন মেয়ে মোসাম্মৎ ফাতেমা খাতুন, মোসাম্মৎ খাতুনে জান্নাত, মোসাম্মৎ খাদিজা বেগম।

■■ হুজুর(রহঃ)এর জামাতাগণ দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। হুজুর(রহঃ) এর একদম বড় জামাতা অধ্যক্ষ মাওলানা মোজাম্মেলুল হক রাজাপুরী। তিনি ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল। মেঝ জামাতা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহাম্মাড আব্দুস সাদেক ঐতিহ্যবাহী ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসার সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল এবং ছোট জামাতা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ আবু তাইয়্যেব হদুয়ার মরহুম পীর ছাহেব হুজুর(রহঃ)’র মেঝ ছাহেবজাদা এবং হদুয়া ফাজিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক।

■■ দ্বীন প্রতিষ্ঠায় হুজুর(রহঃ) এর খেদমতঃ
■■ আনজুমানে আল ইসলাহ গঠনঃ
কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় অধ্যয়ণ কালে উপমহাদেশের শতধা মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসে হুজুর(রহঃ) “আনজুমানে আল ইসলাহ” নামে একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন কায়েম করেন। ওই সময়ে কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় যা ব্যপকতা অর্জন করেছিল।

■■ জমিয়াতে হিযবুল্লাহ প্রতিষ্ঠাঃ
হুজুর(রহঃ) ১৯৪৩ সনে ছারছীনা মাদ্রাসায় অধ্যাপনা কালে পীর মরহুম হযরত শাহ সুফি নেছার উদ্দিন আহমাদ(রহঃ) এর আন্তরিক দু’আ ও ইজাজাতে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন “আনজুমানে আল ইসলাহ” এর কার্যক্রম চালাতে থাকেন। ১৯৪৫ সনে ফুরফুরা শরীফের পীর হযরত মাওলানা আব্দুল হাই সিদ্দিকী আর-কুরাইশি রহমাতুল্লাহ আলাইহি ছারছীনা দরবার শরীফে শুভাগমন করেন। তিনি তাঁর আঞ্জুমান এর কার্যক্রম দেখে অত্যন্ত খুশি হন। তাঁর ইশারা এবং আদেশ অনুযায়ী আনজুমানে আল ইসলাহ এর নাম পরিবর্তন করে “হিজবুল্লাহ জমিয়াতুল মুজাহেদীন” নামকরণ করা হয়ে থাকে। হযরত কায়েদ ছাহেব হুজুর(রহঃ) এই সংগঠন এর প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আমীর ছিলেন। ফলে তাঁর উপাধি ছিল আমীরুল মুজাহিদীন।

■■ ১৯৪৭ সনে পীরে মরহুম শাহ নেছার উদ্দিন আহমাদ রহঃ)’র আহবানে ছারছীনা দরবার শরীফৈ অনুষ্ঠিত উলামা এবং মাশায়েখ সম্মেলনের প্রস্তাবাবলী বাস্তবায়নের জন্য ৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট একটা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে আমীরুল মুজাহিদীন হিসেবে হুজুর কেবলা(রহঃ) এর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। হুজুর নিরলসভা্বে এই সংগঠনের কার্যক্রম চালাতে থাকেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতেও হিজবুল্লাহ জমিয়াতুল মুজাহেদীনের কমিটি গঠন করা হয়।

■■ অতপর ১৯৫০ সনে মজলিসে শুরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় উক্ত জমিয়তের নাম পরিবর্তন করে “জমিয়তে হিজবুল্লাহ” রাখা হয়। হুজুর(রহঃ) তাঁর পীর মরহুম হযরত নেছার উদ্দিন আহমাদ(রহঃ)’র কাছে তাঁর বড় সাহেবজাদা পরবর্তী ছারছীনা দরবার শরীফের গদ্দিনশীন পীর হযরত মাওলানা শাহ আবু জাফর মুহাম্মদ সলেহ(রহঃ)কে এই সংগঠনের আমীর করার প্রস্তাব দেন। মরহুম পীর সাহেব কেবলা হুজুরের এই আন্তরিক প্রস্তাবটি মঞ্জুর করেন এবং তাঁর অনুমোদন নিয়ে হযরত মাওলানা আবু জাফর মুহাম্মদ সলেহ(রহঃ) পরবর্তী আমীর নির্বাচিত হন। তখন থেকে পীর আবু জাফর মুহাম্মদ সলেহ(রহঃ) সংগঠনের আমীর এবং হুজুর(রহঃ) নাজেমে আ’লা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

■■ সংগঠনের কাজ দেশের আনাচেকানাচে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। হুজুর(রহঃ)’র এর কার্যক্রমে পীরে মরহুম শাহ সূফী নেছার উদ্দিন আহমাদ(রহঃ) খুশী হয়ে তাঁকে “কায়েদ” খেতাবে ভূষিত করেন। এই খেতাবটি হুজুর(রহঃ) এতটাই খ্যাত হয়েছেন যে, “কায়েদ ছাহেব” যেন তাঁর আসল নামে পরিণত হয়ে যায়!

■■ সংগঠনের কার্যক্রমের ব্যাপকতার কারণে ১৯৬৮ সনে হুজুর(রহঃ) ছারছিনা থেকে ঢাকাতে অবস্থান করার অতি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এর কারণে তিনি ঢাকায় গমন করে বাংলাবাজারস্থ “খানকায়ে নেছারিয়ায়” অবস্থান করেন। সেখানে বসেই জমিয়াতে হিজবুল্লার সকল কার্যক্রম চালাতে থাকেন। এসময় হুজুর কেবলা(রহঃ)’র সাথে থাকেন তারই হাতে গড়া ও প্রিয় কর্মী স্নেহভাজন ছাত্র ও মানসপুত্র মাওলানা রুহুল আমিন খান। এ সময় আমীরে হিজবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের হযরত পীর ছাহেব কেবলা(রহঃ) এর পৃষ্ঠপোষকতায় জমিয়াতের মুখপাত্র হিসেবে “ইশায়াত” নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করা হয়। যার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন হুজুর(রহঃ) এবং নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন মাওলানা রুহুল আমিন খান। কার্যক্রমকে আরো বেগবান করার লক্ষ্যে হুজুর(রহঃ) এ জমিয়াতের আওতায় মাদ্রাসার সকল শিক্ষকদের জন্য অরাজনৈতিক সংগঠন “জমিয়াতুল মোদার্রেছীন, জমিয়াতে তোলাবায়ে হিযবুল্লা, ছাত্রদের জন্য অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, হিযবুল্লাহ শ্রমিক সমিতি এবং হিজবুল্লাহ যুব সমিতিসহ অনেকগুলো অঙ্গ সংগঠন কায়েম করেন।

■■ ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাঃ
হুজুর কেবলা(রহঃ) তাঁর নিজের এলাকা নিয়ে গভীরভাবে ভাবতেন। কিভাবে এলাকার লোকদের দ্বীনের পথে আনা যায়। তখন অত্র অঞ্চলে কোন দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ছিলো না। হুজুর(রহঃ) ছারছীনা শরীফের পীর হযরত শাহ নেছার উদ্দিন আহমাদ(রহঃ) এবং শাহ আবু জাফর মুহাম্মদ সলেহ (রহঃ) সহ অনেক ওলামায়ে কেরামকে দাওয়াত দিয়ে নিজ এলাকায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করতেন। তদুপরিও তাঁর এলাকার লোকজনের আমল এবং আখলাকের তেমন কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল না। হুজুর কেবলা(রহঃ)’র গ্রামের পূর্বনাম ছিল বাসন্ডা। ব্রিটিশ আমল থেকে এলাকার জমিদার বাড়ির নামে খ্যাত ছিল। এই গ্রামে জমিদারদের ব্যরহৃত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে তিনি বাসন্ডা নামটি পরিবর্তন করে তিনি নিজ এলাকার নাম ছারছীনা দরবার শরীফের পীরের নাম অনুসারে “নেছারাবাদ” রাখেন। হুজুর কেবলা(রহঃ) ভাবলেন আমার এলাকার লোকদের কে যদি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত না করা যায়, তবে শুধুমাত্র এই ওয়াজ নসিহত করে তেমন কোন ফলই হবে না। এই জন্য ১৯৫৬ সালে নিজ বাড়িতে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নামে একটি প্রতিষ্ঠান করেন।

■■ যা বর্তমানে ২০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ “ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদরাসা নামে খ্যাত! এখানে প্রায় ৮,০০০ ছাত্রের পদচারনায় মুখরিত বিশাল ক্যাম্পাস।

■■ হিযবুল্লাহ দারুল ক্বাযা বা শালিশী আদালাতঃ
গ্রামের অনেক নিরীহ, দরিদ্র, অসহায়, মজলুম মানুষ হুজুর কেবলা(রহঃ) এর কাছে এসে কেঁদে কেঁদে তাদের অভিযোগ পেশ করত। ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক সমস্যা, জায়গা- জমি সংক্রান্ত জটিলতা এবং ঝগড়া-বিবাদসহ বহু ব্যাপারে হুজুর কেবলা(রহঃ)’র কাছে এসে তারা বিচার দিত। হুজুর কেবলার প্রতি তাদের ছিল অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা। এসব সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে “দারুল ক্বাজা” নামে একটি সংস্থা কায়েম করেন। এখানে বাদী এবং বিবাদী উভয়পক্ষকে হাজির করে তাদের সম্মতিতে সন্তোষজনক সমাধান দেওয়া হয়। এখান থেকে দেয়া রায় কোর্টে দাখিল করা হলে বিজ্ঞ বিচারক রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন। যা এখনো চালু আছে।

■■ দুর্নীতি উচ্ছেদ কমিটিঃ
দুর্নীতি ও দুষ্কৃতীর অভিশাপে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে আজ সারা বিশ্বের মানুষ। শান্তি বিদায় নিচ্ছে ব্যক্তি, সমাজ এবং জীবন হতে এ দুর্নীতি ও দুষ্কৃতীর প্লাবনে। এ জাতীয় সমস্যার মোকাবেলায় প্রয়োজন সকল ধর্মের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। এজন্য প্রয়োজন সব ধর্ম এবং মতের অনুসারীদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। দুর্নীতি যে এই দেশের প্রধান সমস্যা’ এটা হুজুর(রহঃ) তা বহু পূর্বে চিহ্নিত করে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দুর্নীতি উচ্ছেদ কমিটি। হুজুর(রহঃ) অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলতেনঃ
——-বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা জনসংখ্যার বিস্ফোরণ বা অন্য কিছুই নয়। বরং চরম দুর্নীতি এবং চরিত্রহীনতাই বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা।”

■■ অ|শ্লীল ও গর্হিত কর্মকান্ড বিরোধী আন্দোলনঃ
১৯৭৮ সনে ঝালকাঠি পৌরসভা কর্তৃক ঝালকাঠি থানার সম্মুখস্থ স্টেডিয়ামে প্রদর্শনীর নামে মাসব্যাপী আনন্দমেলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ ব্যাপারে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ছিল। হুজুর(রহঃ) মহকুমা প্রশাসককে জানিয়ে দিলেনঃ
——–“আনন্দমেলা করেন এতে আপত্তি নেই, তবে যদি সেখানে কোন প্রকার শরীরয়ত ও সমাজ বিরোধী, অ|শ্লীল এবং গর্হিত কাজ হয়, তবে এর বিরোধিতা আমরা অবশ্যই করবই।”

■■ পরে দেখাগেল পোষ্টারে বিভিন্ন ধরণের নকচ গান সহ অসামাজিক কার্যকলাপের কথা উল্লেখ আছে। হুজুর(রহঃ)
খুরেগে গেলেন। তিনি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বিরাট একটা সমাবেশ করলেন এবং মেলা উদ্বোধনের তারিখের দীন ঈদ গাঁ মাঠে সমাবেশ ডাকলেন। বাধ্য হয়ে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করলেন। ১৪৪ ধারার মাইকিং হুজুর নিজে বন্ধ করে দিলেন এবং ওসি সাহেবের সাথে দেখা করে বললেনঃ
——-“ওসি সাহেব! আমার যা করার করলাম! আপনার চাকুরির স্বার্থে যা করার করেন।”

■■ বিষয়টি সরকারি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলেন। তাদের নির্দেশে মহকুমা প্রশাসক ১৪৪ ধারা তুলে নিলেন। সুষ্ঠু ভাবে সমাবেশ হলো। পরবর্তীতে সরকারি ভাবেই দেশ ব্যাপী স্থায়ী ভাবে আনন্দমেলা নিষিদ্ধ করা হলো। যা এখনও বলবত আছে।

■■ জিনাতুন্নেছা মহিলা ফাজিল মাদরাসাঃ
হুজুর(রহঃ) শুধুমাত্র পুরুষ শিক্ষা নিয়ে ভাবেননি বরং সকল মহিলাদেরকে কিভাবে পর্দার সাথে ইলমে দ্বীন শিক্ষা দেওয়া যায় তা নিয়েও ভাবতেন। নিজ শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেন। ১৯৭৮ সনে নিজ বাড়িতে ” ।মাদরাসাতুছ ছাবায়া” নামে একটি মহিলা মক্তব চালু করেন।যা বর্তমানে আমীরুল মুছলিহীন হযরত নেছারাবাদী হুজুরের প্রচেষ্টায় ফাজিল পর্যন্ত উন্নতি হয়।

■■ আদর্শ সমাজ বাস্তবায়ন পরিষদঃ
হুজুর আজীবন একটি সুখী-সমৃদ্ধ আদর্শ সমাজ গঠনের চেষ্টা করে গেছেন। হুজুর আহুত ১৯৯০ সালের ২১ জুলাই তারিখে নেছারাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় এক সম্মেলনে তিনি বলেছিলেনঃ
—-“আমাদের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কতগুলো সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। যা না|স্তিকতার দ্বারা সর্বত্র প্রসারিত এবং পরিব্যপ্ত। এগুলো সকল ধর্মের অনুসারীদের বিপক্ষে কাজ করছে। যেমনঃ দু|র্নীতি, দু|ষ্কৃতি, নেশাখোর, সুদ-ঘুষ, আনুগত্যহীনতা এবং রা|ষ্ট্রদ্রোহিতা ইত্যাদি। জাতি-ধর্ম, বর্ণ- গোত্র, নির্বিশেষে সকল নাগরিকের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রয়োজন। গোটা মানবজাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যে মুসলিম, হিন্দু, খ্রি|স্টান নির্বিশেষে সকল ধর্মানুসারী দেশপ্রেমিক ভাইদের কে আমি সম্মিলিত ভাবেই নাস্তিকতা এবং র্মহীনতা প্রতিরোধে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।” এ উদ্দেশ্যে হুজুর(রহঃ) ১৯৯০ সনে জাতি-ধর্ম, বর্ণ-গোত্র, দল-মত নির্বিশেষে সকল শান্তিকামী মানুষের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন “আদর্শ সমাজ বাস্তবায়ন পরিষদ”

■■ বাংলাদেশ হিজবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীনঃ
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হুজুর রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর প্রধান কর্মক্ষেত্র নির্ধারণ করলেন নিজ জন্মভূমি নেছারাবাদ। এখানে বসেই হুজুর জমিয়তে হিজবুল্লার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। আর সংগঠনের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ করে মুসলমানদের ঐক্যের লক্ষ্যে হুজুর দেশের সর্বত্রই সফর শুরু করেন। যোগাযোগ করেন দেশের বিভিন্ন পীর- মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দের সাথে।

■■ হুকুমাত এর ব্যাপারে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করেন সরকারের কাছে। আমীরে হিজবুল্লাহ শাহ আবু জাফর মুহাম্মাদ সলেহ(রহঃ) ছারছীনার হযরত পীর ছাহেব কেবলার ইন্তেকালের পর হুজুর জমিয়তের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য আরও একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। যে সংগঠনের মাধ্যমে হুজুর তার চিন্তা-চেতনা, দর্শন এবং কর্মসূচি স্বাধীনভাবে মানুষের কাছে পেশ করতে পারেন। এই লক্ষ্যে নিয়েই ১৯৯৭ সনের ০৩ জানুয়ারি হুজুর “বাংলাদেশ হিজবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীন” নামে অন্য একটি সংগঠন কায়েম করেন। হুজুর কেবলা(রহঃ) কর্মজীবনের শুরু থেকে তাঁর সমগ্র জীবন যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন এবং যেসকল আন্দোলন চালিয়েছিলেন বিরামহীন সং|গ্রামে, তাঁর সেই আপসহীন সং|গ্রামের ধারাবাহিকতার ফলই হলো এই “মুছলিহীন” সংগঠন। সব ধরণের দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন এই সংগঠন হুজুর কেবলার হায়াতেই দেশ ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

■■ এছাড়াও মানব সেবায় নিবেদিত ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ ৪২টি প্রতিষ্ঠান কায়েম করেছেন নেসারাদে। তার মধ্যে অন্যতম কিছু প্রতিষ্ঠান হলোঃ▪নেছারাবাদ ইসলামী কমপ্লেক্স, ▪হিজবুল্লাহ কারিগরি বিদ্যালয়,▪হিজবুল্লাহ দারুল ইফতা(ফতোয়া বিভাগ),▪ভেষজ এবং বায়োকেমিক চিকিৎসা বোর্ড, ▪লিল্লাহ বোডিং,▪মফিজিয়া ইয়াতিম খানা,▪আযীযীয়া হাফেজী মাদরাসা এবং▪মসজিদ,
▪খানকাহ ও পরামর্শ কেন্দ্র এবং▪বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র ইত্যাদি।

■■ পীর মাশায়েখদের সান্নিধ্য অর্জনঃ
হুজুর ছারছীনার দাদা হুজুর(রহঃ) এর হাতে বয়াত গ্রহণ করেন এবং খেলাফত লাভ করেন এবং ছারছীনা দরবারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও সকল ছিলছিলার শায়খদেরকে তিনি মহব্বত করতেন। বিশেষ করে প্রবীণ ছিলছিলা জৈনপুর, বাহাদুরপুর, ফুরফুরা ও চরমোনাইর পীর ছাহেবদের সাথে তাঁর একটা আত্মিক সম্পর্ক ছিল। তাঁদের দরবারে হুজুরের যাতায়াত ছিল। ফুরফুরার পীরে মরহুম মাওলানা আব্দুল কাহার সিদ্দিকী আল কুরাইশী (রহঃ) এর সাথে তাঁর এই পরিমাণ সম্পর্ক ছিল যে, তিনি যখনই এই এলাকার কোথাও আসতেন তখনই নেছারাবাদে আসতেন। এছাড়াও ছোহবাত লাভ করেন ছারছীনার পীরে মরহুম শাহ আবু জাফর মুহাম্মদ সলেহ(রহঃ), আল্লামা মুফতী আমীমুল ইহসান(রহঃ), আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী(রহঃ), মাওলানা হাসনাইন আহমদ জৌনপুরী (রহঃ), মাওলানা জালিছ মাহমুদ জৌনপুরী (রহঃ) এবং উলুভী তরীকার ইমাম আল্লামা সাইয়েদ মুহাম্মদ ইবনে আলুভী(রহঃ) প্রমুখ।

■■ হুজুর কিবলার বায়াত গ্রহণঃ
হুজুর যেহেতু সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আ|ন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তাই স্বতন্ত্রকোন ছেলছেলা জারী হোক তা তিনি কখনোই চাননি। তাই তিনি কাউকে মুরিদ করতেন না। কিন্তু এক শ্রেণির লোক এমন ছিল যে, হুজুর যদি মুরিদ না করেন তাহলে তারা মুরিদই হবেন না। আর হুজুর(রহঃ) যে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাতে এক ধরণের ফেদা লোক অপরিহার্য এবং তাছাওফ অর্জন করা আবশ্যক মনে করে ২০০৪ সনে থেকে তিনি বায়াত গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

■■ সমাজ সেবামূলক কাজে তাঁর অবদানঃ
হুজুর(রহঃ) সবসময় দেশের সার্বিক খোজ খবর রাখতেন। কোথাও কোন ধবণের সমস্যা হলে হুজুর(রহঃ) এর থেকে উত্তরণের পরামর্শ দিতেন। কখনো কোন দুর্যোগ দেখা দিলে নিজে সহযোগিতা করতেন এবং সব বৃত্তশালীদের সাহায্য করতে বলতেন। হুজুর(রহঃ) অসহায় মানুষের সাহায্যের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন “ইমদাদ ফান্ড” নামে একটি সমাজসেবী প্রতিষ্ঠান।

■■ হুজুর(রহঃ) এর লিখিত রচনা সমগ্রঃ
হুজুর(রহঃ) দ্বীনের খেদমতে শতাধিক বই লিখে গেছেন। যা নেছারাবাদ হিযবুল্লাহ দারুত্তাছনীফ থেকে নিয়মিত ভাবেই প্রকাশিত হচ্ছ। প্রকাশিত বই এর মধ্যে রয়েছেঃ
▪হেদায়েতে কুরআন,▪তাজভীদুল কুরআন,
▪ইসলামী জিন্দেগী,▪তামীরে আখলাক,
▪হাকীকাতে ইলমেদ্বীন,▪ইসলাম ও তাছাওফ,
▪ছোটদের ক্বিরাত শিক্ষা,▪শক্তির তিনটি উৎস,
▪আকায়েদ,▪মুজাদ্দেদ আলফেসানী(রহঃ),
▪ইস্রাঈলী রাষ্ট্র ও মুসলমান,▪ইসলাম ও রাজনীতি,
▪কতিপয় সোপারেশ,▪কিয়ামতের আলামত,
▪তরিকায়ে সুন্নিয়া,▪দোজাহানের সম্বল,▪ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ও উহার পথ,▪আধুনিক বাংলা মিলাদ শরীফ,▪এরশাদুন্নবী(সাঃ),▪চল্লিশ হাদিস এবং
▪দুর্নীতির সঙ্গা ইত্যাদি।

■■ হুজুর(রহঃ) এর ছাত্রবৃন্দঃ
হুজুর কেবলা(রহঃ) ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টানা ২৪ বছর ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত আলীয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। এর মধ্যে তিনি ওখানে ভাইসপ্রিন্সিপ্যাল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অত্যন্ত বিদগ্ধ এগুণী শিক্ষকের ছোঁয়ায় অসংখ্যগুণী জন তৈরি হয়েছে। সকলের নামতো বলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য যাঁরা রয়েছেন,▪ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান/ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মু. মুস্তাফিজুররহমান(রহঃ), ▪অধ্যাপকড. আ.র.ম আলী হায়দার মুর্শিদী(রহঃ),
▪প্রফেসর এম.এ. মালেক,▪ছারছীনা দারুচ্ছন্নাত আলীয়া মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দু রব খান,▪ছারছীনা আলীয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা মোঃ আমজাদ হোসাইন(রহঃ), ▪দেশবরেণ্য প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী(রহঃ),▪দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক মরহুম অধ্যাপক আখতার ফারুক(রহঃ),▪দৈনিক ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান এবং ▪ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি মরহুম হযরত মাওলানা শামসুদ্দিন উল্লেখযোগ্য।

■■ হুজুর(রহঃ) সম্পর্কে আলোচনা উপস্থাপন করা আমার মতো ক্ষুদ্র ওকজন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়!


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা