অনলাইন ডেস্ক :
বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা পত্রিকা ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ আজ দেশের সর্বাধিক প্রচারিত জাতীয় দৈনিক। কিন্তু কেমনে কিভাবে এ পর্যায়ে গেলো- বাংলাদেশ প্রতিদিনের ১৭তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এক স্ট্যাটাসে সে কথাই জানালেন পত্রিকাটির সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম। এ বিষয়ে তিনি তার ফেসবুক পেইজে একটি সুন্দর স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি অনলাইন থেকে সংগ্রহ করে হুবহু আমার পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো:
‘একটি পত্রিকার কাহিনী
বাংলাদেশ প্রতিদিন নামটি সিনিয়র সাংবাদিক রেজা রায়হানের। তিনি এই নামে কাগজটি শুরু করেছিলেন। পরে নানা কারণে চালাতে না পেরে বন্ধ করে দেন।
বসুন্ধরা গ্রুপে যোগ দেওয়ার পর একদিন আমাকে ও শাজাহান সরদার ভাইকে ডাকলেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান। বললেন, বসুন্ধরা ভোরের ডাক কাগজটি চালাতো । সেই কাগজের মগবাজারের অফিস ও সাংবাদিকদের রেখে পত্রিকার প্রকাশক অন্যত্র অফিস নিয়েছেন। ততদিনে দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বসুন্ধরা আরেকটি কম দামের পত্রিকা করতে চায়।
শুরু হলো নতুন পত্রিকার নাম খোঁজার কাজ। নতুন ধারা নামের একটি কাগজ আমরা প্রায় চূড়ান্ত করেছিলাম। বসুন্ধরা চেয়ারম্যান ও এমডি নামটিও পছন্দ করেছিলেন। কিন্তু পরে সেই প্রকাশকের সঙ্গে আমার আর সমঝোতা হলো না।
ঠিক সেই সময় হঠাৎ ফোন করলেন ওয়াহিদ মিল্টন। বললেন, রেজা ভাইয়ের কাছে বাংলাদেশ প্রতিদিন নামে একটি ডিক্লারেশন আছে, চাইলে নিয়ে নিতে পারেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে রেজা রায়হান ভাইকে ফোন করলাম। তিনি সহজভাবে বললেন, “নিয়ে নাও।”
চেয়ারম্যান ও এমডিকে জানালাম। তারাও বললেন, নিয়ে নেন। নামটি সুন্দর। এরপর স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রথম প্রকাশক মোস্তফা কামাল মহিউদ্দিনকে নিয়ে গেলাম ডিসি অফিসে। শেষ করলাম প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা। নতুনভাবে, নতুন বর্ষকে সামনে রেখে শুরু হলো বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর পথচলা।
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপে আমার হাত ধরে আরও দুটি মিডিয়া News24 ও রেডিও ক্যাপিটাল যাত্রা শুরু করলেও বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর আবেগ আলাদা। সন্তানের প্রতি মানুষের আবেগ যেমন হয়, তেমনি।
পনেরো বছরের বেশি সময়ের সেই পথচলায় জমেছে অসংখ্য স্মৃতি। সংবাদ প্রকাশের কারণে দুই শতাধিক মামলার আসামি হয়েছিলাম। গোলাম মাওলা রনির একটি লেখার কারণে একদিনেই ৬৩টি মামলা হয়েছিল। আরেকবার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে লেখা প্রকাশের পর রনিকে আমার রুম থেকেই আটক করা হয়েছিল।
লালমনিরহাটে মন্ত্রী মোতাহার হোসেন, মুন্সীগঞ্জে নুহ আলম লেলিনসহ দেশের নানা জায়গায় মামলা হয়েছিলো। যেতে হয়েছে জামিন নিতে, হাজিরা দিতে। সঙ্গী ছিলেন অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার। ভোরবেলা ঢাকা কোর্টে যেতাম। তারপর প্রেসক্লাবে বসে নাস্তা করতাম।
নজরুল ইসলাম মজুমদারের ব্যাংক লুটের খবর প্রকাশের পরদিনই আমার এবং তখনকার নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছিল।
সব সময় চেষ্টা করেছি আমার ব্যক্তিগত মতের বাইরে রেখে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এগিয়ে নিতে। সকল সংবাদ প্রকাশ করতে। ইলিয়াস আলীর গুম থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে আমাদের শক্ত অবস্থান ছিল।
পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। সভাপতি ছিলেন মাহফুজ আনাম। নোয়াবের নির্বাহী কমিটিতেও সদস্য ছিলাম। চেষ্টা করেছি, যতটা পেরেছি। সেই সাফল্য একার নয়, সবার।
আজ বাংলাদেশ প্রতিদিন ১৭ বছরে পা রাখতে চলেছে। সময় থেমে থাকে না। দিন চলে যায়। বয়স বাড়ে মানুষের, বয়স বাড়ে প্রতিষ্ঠানেরও।
বাংলাদেশ প্রতিদিন বড় হচ্ছে।
বয়স বাড়ছে তার।
বয়স বাড়ছে আমারও।’
লেখক :
সাবেক সম্পাদক
বাংলাদেশ প্রতিদিন