যুক্তরাজ্যের University of Warwick থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারী, University of Dhaka-এর সাবেক মেধাবী ছাত্র ও শিক্ষক এবং বর্তমানে University of Malaya-এর ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক ড. মাহমুদ বিন সাঈদ তাঁর পিতা বরিশাল ভাসানচর সিনিয়র ফাযিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম মাওলানা এ কে এম ছাইদুল হক (রহ.)-এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগঘন কিছু কথা তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, তাঁর আব্বাজান এমন কিছু গুণের অধিকারী ছিলেন, যার কারণে আজও তিনি পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছেন। মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে বরিশালের একটি হাসপাতালে পিতার কাছে কিছু নসিহত চাইলে তিনি আরবিতে বলেছিলেন—
“قلة الكلام و قلة الطعام و قلة الاختلاط مع الأنام”
অর্থাৎ—
কম কথা বলা, কম আহার করা এবং মানুষের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা কম করা।
ড. মাহমুদ বিন সাঈদ বলেন, এই সংক্ষিপ্ত নসিহতের মধ্যেই তাঁর পিতার পুরো জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। জীবনের অধিকাংশ সময় তিনি রোগব্যাধিমুক্ত ছিলেন। কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না। যদিও কিছু মানুষ তাঁর ও তাঁর পরিবারের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করত, তবুও তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁর সন্তানরাও সেই শিক্ষাই অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও জানান, ২০০০ সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকে মরহুম মাওলানা এ কে এম ছাইদুল হকের কোনো আর্থিক ঋণ ছিল না। তিনি উচ্চাভিলাষী ছিলেন না, তবে সন্তানদের সুশিক্ষা ও প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে সন্তানদের শিক্ষা ও বিবাহের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।
ছারছীনার প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিক সম্পর্ক ছিল। পাশাপাশি দ্বীনের যেকোনো কল্যাণকর উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করতেন। তাঁর সেই আদর্শ ও উপলব্ধি আজ তাঁর সন্তানদের মাঝেও প্রবলভাবে কাজ করছে।
পিতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত ড. মাহমুদ বিন সাঈদ বলেন, “আব্বাকে নিয়ে অসংখ্য স্মৃতি জমা আছে। মনে হয় তাঁর জীবনী লেখা উচিত। ইনশাআল্লাহ, একদিন সেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করব।”
তিনি সবার কাছে তাঁর পিতার জন্য দোয়া কামনা করে বলেন, “মহান আল্লাহ তাআলা যেন আব্বাজানকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।”