• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
Headline
বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. সাইদুর রহমানের বাংলাদেশ সফর শুরু ২১ জুন ফুলপুরে ছাত্রদল নেতা সুজার জন্য স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফুলপুরে লোড শেডিং বা বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ -এর চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে নিয়োগ পেলেন মোতাহার হোসেন তালুকদার নতুন ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানালেন ফুলপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ ফুলপুরে জুয়া-মাদকসহ অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান ফুলপুরে বাশুয়া কবিরপুর মাদরাসার মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ ফুলপুর পৌরসভায় প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে, ই-জিপি টেন্ডার লটারি অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা বিলাল বাওয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা হালুয়াঘাটে পর্যটন কেন্দ্রে ভিউ পয়েন্টের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক

ফুলপুরের কৃতি সন্তান ডাঃ আমিনুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত

মোঃ আব্দুল মান্নান / ৮৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পয়ারী ইউনিয়নের ইমাদপুর গ্রামের কৃতি সন্তান অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আমিনুল হক ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।

এর আগে ডাঃ এ কে এম আমিনুল হক ১৪৭, ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই ডা. আমিনুল হক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ভালবাসতেন। পরবর্তীতে তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৮ সনে গঠিত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া ড্যাব নামে ডাক্তারদের একটি সংগঠন রয়েছে। ওই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির শুরুলগ্ন থেকে তিনি সদস্য।
উনার সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তিনি ড্যাব (আইপিজিএমআর)- এর আহ্বায়ক ছিলেন। ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটি সম্প্রতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তবে বিলুপ্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এর উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়া ২০০৫ সাল থেকে ঢাকাতে ‘ফুলপুর-তারাকান্দা উপজেলা সমিতি’ -এর সহসভাপতি হিসেবে ও এলাকায় তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত ‘আমজাদ আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’ -এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে তার সম্পর্ক বহু আগের। প্রেসিডেন্ট জিয়া যখন খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন, ময়মনসিংহে এসে যখন ব্রহ্মপুত্রে খাল খনন কাজে অংশ নেন ডা. এ. কে. এম. আমিনুল হক তখন তার সাথে খনন কাজে অংশ নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিমান থেকে অবতরণের পর সর্ব প্রথম তিনিই প্রেসিডেন্ট জিয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরে ফুল দিয়ে বরণ করেছিলেন।

চাকরি করার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি সময় দিতে না পারলেও বিএনপি তার অনেক ভালবাসার দল। এ দলের সাথে, দলের চেয়ার পার্সনের সাথে ওতপ্রোতভাবে তিনি জড়িত রয়েছেন।

বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের স্টুডেন্ট ছিলেন তিনি তখন ওই কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। তারেক জিয়ার শ্বশুর ও তার মা সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সেবায় বহু সময় দিয়েছেন তিনি।
অধ্যাপক ডঃ এ. কে. এম. আমিনুল হক অত্যন্ত সম্মানি, মার্জিত ও খান্দানী বংশের লোক। ছাত্র জীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। ১৯৫৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর থানার পয়ারী ইউনিয়নের ইমাদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতা মরহুম আমজাদ আলী মিয়া ছিলেন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সমাজসেবক। তিনি ১৯৪৬-১৯৭১ সালে ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। দুই মেয়াদে ময়মনসিংহ জেলা বোর্ডের জেলা পরিষদ সদস্য (১৯৬৪-৬৮) এবং ময়মনসিংহের কালেক্টর অফিসের সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক তারই সুযোগ্য পুত্র। তার শিক্ষাদীক্ষা সম্বন্ধে জানা যায়, তিনি পয়ারি গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭২ সনে তিনি এসএসসি পাস করেন এবং ১৯৭৪ সনে আনন্দ মোহন কলেজ ময়মনসিংহ থেকে তিনি এইচএসসি পাস করেন। তারপর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮১ সনে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আইপিজিএম অ্যান্ড আর থেকে ১৯৯৭ সনে এমডি মেডিসিন ও বিসিপিএস থেকে ১৯৯৯ সনে এফসিপিএস মেডিসিন ডিগ্রি অর্জন করেন। ডা. আমিনুল হক ১৯৮১ সালে সরকারি চাকরি শুরু করেন এবং ২০১৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিসিনের অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তার অনেক অর্জন রয়েছে। তিনি ২০০২ সালে ম্যাকপি (আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ানের সদস্য) এবং ২০০৫ সালে এফএসিপি (আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ানের ফেলো) এবং এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এফআরসিপি (রয়েল কলেজ অফ ফিজিশিয়ানের সদস্য) ডিগ্রি অর্জন করেন।

জানা যায়, পেশাগত জীবনে অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক ১৯৮৩-১৯৮৭ পর্যন্ত মেডিকেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ-এর বৈজ্ঞানিক সম্পাদক ও ১৯৯৩-১৯৯৯ পর্যন্ত এমডি/এমএস কমিটির সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ২০০১-২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিনের বৈজ্ঞানিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮৩-১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকান কলেজ অফ ফিজিশিয়ান, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কোষাধ্যক্ষ। প্রকাশনা ক্ষেত্রেও উনার রয়েছে অনেক অবদান। স্বাস্থ্য সম্পর্কে মানুষের সচেতনতার জন্য ২০১৪ সালে প্রকাশিত ‘স্বাস্থ্য কোষ’, ও আমজাদ আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২০১২ সাল থেকে দ্বিবার্ষিক স্বাস্থ্য পত্রিকা ‘স্বাস্থ্য কথা’ এবং ৩০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বিটিভিসহ বিভিন্ন টিভিতে টক শো করে থাকেন।

উনার ভাই-বোনদেরও রয়েছে গৌরবজনক পরিচিতি। প্রথম ভাই মোঃ শামসুল হক, এমএ এলবি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট, ময়মনসিংহ জজ আদালত। তিনি আমজাদ আলী মেমোরিয়াল থিয়েটারের সভাপতি। দ্বিতীয় ভাই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোঃ আজিজুল হক (অব.)। তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার আমলে ২০০৩-২০০৭ পর্যন্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ছিলেন। তৃতীয় ভাই তিনি নিজে অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আমিনুল হক। চতুর্থ ভাই মোঃ মোজাম্মেল হক, অধ্যাপক ড. (আরটিডি), শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ, ময়মনসিংহ। পঞ্চম ভাই অধ্যাপক. ড. মোঃ সায়েদুল হক, এফসিপিএস, এমএস (চক্ষু চিকিৎসা)। তিনি মিরপুরের মার্ক মেডিকেল কলেজের চক্ষুবিদ্যা বিষয়ক অধ্যাপক। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ডিএবি) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ‘চোখের যতন’ বইয়ের লেখক।

২০০৯ সালে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অপথালমোলজিতে সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদে পদোন্নতি পেয়ে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে বদলি হন। তার ড্যাব অ্যাফিলিয়েশনের কারণে তিনি এই পদোন্নতি পেয়েছিলেন। ১০ বছর পর তিনি পিরোজপুর থেকে একই পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন (স্বেচ্ছামূলক অবসর)। ষষ্ঠ বা সবার ছোট ভাই মোঃ এমদাদুল হক। তিনি একজন ব্যবসায়ী। এছাড়া তিনি আমজাদ আলী মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সম্পাদক। পৈতৃক বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান দেখাশোনার দায়িত্বও অনেকটা তার উপরই। তার বোনেরাও স্ব স্ব জায়গায় সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রথম বোন আনোয়ারা খাতুন একজন গৃহবধূ। তবে তার স্বামী- প্রয়াত অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দুইবার এমপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দ্বিতীয় বোন জাহানারা খাতুন বিএ। তিনি স্থানীয় লেদু মন্ডল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষিকা। তার স্বামী মৃত মোঃ জয়নাল আবেদীন, এমএ। তিনি শম্ভুগঞ্জ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তৃতীয় বা সবার ছোট বোন অধ্যাপক ড. ফিরোজা খাতুন। তিনি ফিজিওলজির (আরটিডি) অধ্যাপক। তার স্বামী- কলেজের অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল আউয়াল ভূঁইয়া, (অব.)। তিনি মিরপুরের একটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক্সের ডাক্তার। ডা. আমিনুল হকের সহধর্মিণী মিসেস সাবেরা হক, এমএ (ইসলামিক ইতিহাস)। ব্যক্তি জীবনে অধ্যাপক ডা. আমিনুল হক তিন সন্তানের জনক। প্রথম সন্তান আদিবা হক বারডেমের চক্ষুবিদ্যা বিভাগের মেডিকেল অফিসার। দ্বিতীয়জন আদিলা হক এলসিএলএস থেকে এলএলবি আর সবার ছোট সন্তান ছেলে। উনার নাম মোঃ আইনুল হক। তিনি মানিকগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। সবমিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী ও এক বর্ণাঢ্য পরিবারের সন্তান অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. আমিনুল হক। তার সার্বিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনায় তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা