মোঃ মুখলেছুর রহমান:
জামেয়া ইসলামিয়া। মেডিকেল কলেজের উত্তর পাশে। চরপাড়া মোড় লাগোয়া। হযরত মাওলানা আতহার আলী রহ: কর্তৃক ১৯৭৬ সালে এই নামে প্রতিষ্ঠিত। উনার মাকবারা মাদ্রাসার পশ্চিম পার্শ্বের বিল্ডিংয়ের পূর্ব পার্শ্বে মূল ফটক সংলগ্ন। চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তিনি সেখানেই। আল্লাহ তা’আলা মেহেরবানি করে উনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। পূর্ব নাম দারুল উলুম। ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মাওলানা মনজুরুল হক রহ:। সে হিসেবে মূল প্রতিষ্ঠাতা তিনিই।
আমি ১ বছর সে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছি। সেই মাদ্রাসা থেকেই আমি নাহবেমীর শেষ করেছি। ক্বাউমী মাদ্রাসা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অধীনে ‘আল মারহাতুল ইবতিদাইয়াহ’ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। নিজের তেমন মেধা না থাকলেও সারাদেশের সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ।
মাদ্রাসার মুহতামিম ছিলেন মাওলানা মোঃ মুজিবুর রহমান (রহ:)। সদরুল মুহতামিম ছিলেন মাওলানা আশরাফ আলী (রহ.)। খুব রসিক ছিলেন। নিজের নাতির মতো আদর করতেন।
নাহবেমীর পড়াতেন মাওলানা যুবায়ের সাহেব। সকল শিক্ষকই খুব ভালো বাসতেন। আদর যত্ন করতেন। আল্লাহ তা’আলা মেহেরবানী করে আমার উস্তাদদের প্রতি রহম করুন।
আমার সহপাঠি সকলের নাম মনে নেই। তবে মুক্তাগাছার মাওলানা আব্দুর রউফ, মাইজবাড়ীর মাওলানা মাহদী মুরতাজা, ফুলবাড়িয়ার মাওলানা আখতার, বড় ভাই মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুনের কথা মনে আছে, যোগাযোগ নেই।
মাওলানা আখতার অবশ্য নিজেই আমাকে খুঁজে বের করেছেন। ত্রিশাল একটি মাদ্রাসার মুহতামিম তিনি। গুলশান অফিসে একদিন দেখা করে গেছেন তিনি। তার মাদ্রাসা পরিদর্শনের জন্য দাওয়াত দিয়ে গেছেন। অনেকবার টেলিফোন করেছেন। আজ অব্দি যাওয়া হয়নি।
অনেকের চেহারা স্মৃতিপটে ভাসে। নাম মনে পড়েনা। ব্রেইন থেকে ডিলিট হয়ে গেছে। এটাই সত্য, এটাই বাস্তবতা। দুনিয়াতে কত লোকের সাথে পরিচয় হয়েছে, কতলোক স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে- বলা মুশকিল।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ছাত্র শাহাদাত ভাই, রবিউল ভাই, হুমায়ুন কবীর ভাই, ওয়ালিউল্লাহ ভাই, উমর ফারুক ভাই এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাম রব্বানী ভাইয়ের কথা মনে পড়ে।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার রুহুল আমিন ভাইয়ের কাছ থেকে তাঁদের মোবাইল নম্বর নিয়েছি। যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। সবাইকে ম্যাসেজ দিয়েছি। ওয়ালিউল্লাহ ভাই এবং শাহাদাত ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছি। অন্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সকলেই নিজ নিজ অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। বিভিন্ন জায়গায় প্র্যাকটিস করছেন। নিয়োজিত আছেন আর্ত মানবতার সেবায়। মানব কল্যাণে আল্লাহ তা’আলা মেহেরবানী করে ক্ববুল করুন।
ময়মনসিংহে ছিলাম ১ বছর। মনে হয় ছিলাম অনেকদিন। চরকির মতো ঘুরে বেড়িয়েছি শহরময়। চরপাড়া, গুলকিবাড়ি, সানকিপাড়া, কাঁচিঝুলি, আনন্দ মোহন কলেজ, ব্রাহ্মপল্লী, নতুন বাজার, গোলপুকুর পাড়, ছোট বাজার, বড় বাজার, আঞ্জূমান ঈদগাহ, খাগডহর, দিঘারকান্দা, আকোয়া, সাহেব কোয়ার্টার, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কৃষ্টপুর, পাটগোদাম, রেল স্টেশন, বড় মসজিদ, বাউন্ডারি রোড, কাচারি রোড আরও কত এলাকা- নাম ভুলে গেছি। কত স্মৃতি ময়মনসিংহ ঘিরে- তার ইয়ত্বা নেই।
জীবন যেন এক প্রবাহমান নদী। আপন মনে বয়ে যায় কারও অপেক্ষা না করেই। পিছনে রেখে যায় অজস্র স্মৃতি।
* লেখক:
ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও সমাজ চিন্তক।
উনার ফেইসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত।