• শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন
Headline
লন্ডনে বৈশ্বিক শিক্ষা সম্মেলনে ভাষা শিক্ষাবিষয়ক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করলেন ড. মাহমুদ বিন সাঈদ আশুরার দিনে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ফুলপুরে অসহায় মুচি ধীরেন্দ্রের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ফুলপুরে শাক-সবজির বাজার এখনো চাঙা, বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল হালুয়াঘাটে প্রবীণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান আর নেই, জানাজা শুক্রবার ফুলপুরে আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীদের ধরপাকড়, তিন দিনে গ্রেফতার ১১ আশ্রয়হীন নজরুলের জীবন : সরকারি সহায়তার আওতায় আনার দাবি হ্যাচারি ও খামার মালিকদের মাঝে পোনা বিতরণ করলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ময়মনসিংহ উত্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন রেলপথ নির্মাণের দাবিতে রেলমন্ত্রীকে ডিও দিলেন প্রিন্স ফুলপুরে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

মহররম মাসে করণীয় ও বর্জনীয়

মাওলানা মাসূম বিল্লাহ আযিযাবাদী / ৩৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

আরবি বছরের প্রথম মাস মহররম। ইসলামে এই মাসের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও তাৎপর্য। ইসলামপূর্ব যুগেও একে সম্মানিত মনে করা হতো। রাসুলুল্লাহ (স.) এ মাসকে ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করেছেন। এটি পবিত্র কোরআনে উল্লেখিত চারটি সম্মানিত মাসের একটি। ইরশাদ হয়েছে—

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ

‘আসমান ও জমিন সৃষ্টির সময় থেকেই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস।’
(সুরা তাওবা: ৩৬)

এই চারটি সম্মানিত মাস সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন—

ثَلاَثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ،

‘তিনটি মাস পরপর—জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং একটি আলাদা—রজব।’ (বুখারি: ৩১৯৭, মুসলিম: ১৬৭৯)

এই মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হলো আশুরা (১০ মহররম)। এ দিনকে কেন্দ্র করে বহু কুসংস্কার, বিদআত ও ভিত্তিহীন ধারণা সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই মহররমের সঠিক করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে জানা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। নিচে এ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:

◾করণীয়_

১. নফল রোজা রাখা:

রাসুল (স.) বলেন— ‘রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস—মহররমের রোজা।’ (মুসলিম: ২৬৪৫)

২. তাওবা ও ইস্তেগফার করা:

মহররমের বিশেষ একটি আমল হলো তাওবা করা। রাসুল (স.) বলেন— ‘এই মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যেদিন আল্লাহ একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন। আশা করা যায়, অন্যদের তাওবাও কবুল করবেন।’
(তিরমিজি: ৭৪১)

৩. আশুরার রোজা রাখা:

আশুরার দিন রোজা রাখার ফজিলত প্রসঙ্গে রাসুল (স.) বলেন— ‘আশা করি, এটি আগের এক বছরের গুনাহ মাফের কারণ হবে।’ (মুসলিম: ১১৬২)

৪. নয় ও দশ অথবা ১০ ও ১১ তারিখে রোজা রাখা:

রাসুল (স.) বলেন— ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখো এবং এতে ইহুদিদের বিরোধিতা করো—আগের একদিন বা পরের একদিন রোজা রাখো।’
(মুসনাদে আহমদ: ২১৫৪)

◾বর্জনীয়_

১. গুনাহ করা বা নিজের ওপর জুলুম করা:

সম্মানিত চার মাসে গুনাহ করা বা নিজের ওপর জুলুম করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ বলেন— ‘এই চার মাসে তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করো না।’ (সুরা তাওবা: ৩৬)
গুনাহ,অপমানজনক আচরণ বা আল্লাহর আদেশ অমান্য করা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে।

২. বিধর্মীদের অনুকরণ:

ইহুদিরা আশুরা উপলক্ষে রোজা রাখত এবং দিনটিকে উৎসবের মতো পালন করত। রাসুল (স.) তাদের বিরোধিতা করে বলেন— ‘যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই একজন।’ (আবু দাউদ: ৪০৩১)

৩. মাতম ও মর্সিয়া পালন:

কারবালার ঘটনা স্মরণে শরীরে আঘাত, জামা ছেঁড়ার মতো শোকানুষ্ঠান ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসুল (স.) বলেন— ‘যে ব্যক্তি চেহারায় আঘাত করে, জামার বুক ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহিলি যুগের মতো হা-হুতাশ করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (বুখারি: ১২৯৭)

৪. ভিত্তিহীন ঘটনা প্রচার: ইসলামি শরীয়তের দলিল চতুষ্টয় সমর্থন করে না এমন কোন বিষয় ইবাদতের উদ্দেশ্য পালন করা যাবেনা।

৫. রসম-রেওয়াজ ও বিদআতমূলক আয়োজন
আশুরা উপলক্ষে বিশেষ রান্নাবান্না, প্রসাদ বিতরণ, শোকানুষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় আমল নামে বাড়তি কোনো রীতি ইসলামে অনুমোদিত নয়। এগুলো বিদআত। রাসুল (স.) বলেন— ‘প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।’ (মুসলিম: ১৫৩৫)

৬. আশুরাকে শুধুই কারবালা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা:

১০ মহররমে কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটলেও আশুরার গুরুত্ব ইসলামপূর্ব যুগ থেকেই স্বীকৃত। রাসুল (স.) মদিনায় এসে আশুরার রোজা দেখতে পান এবং বলেন— ‘আমরা মুসা (আ.)-র প্রতি তোমাদের চেয়েও বেশি হকদার।’
(মুসলিম: ২৫৪৮)
তাই একে শুধুই ‘কারবালার দিন’ হিসেবে দেখা সঠিক নয়।

মূলত মহররম মাস আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও তাওবার মাস। সমাজে প্রচলিত বিদআত, কুসংস্কার ও বাড়াবাড়ি থেকে দূরে থেকে এই মাসকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে মহররমের করণীয় ও বর্জনীয় মেনে চলাই প্রকৃত আল্লাহভীতি ও সচেতনতার পরিচায়ক।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সব ধরনের ভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন এবং সঠিক পথে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা